ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

সাপাহারে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন, নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় আনার আহ্বান

বাবুল আকতার রানা,স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁঃ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১১:৪০ এএম

সাপাহারে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপন, নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আওতায় আনার আহ্বান

ছবিঃ সংগৃহীত

মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নওগাঁর সাপাহারে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন। র‌্যালিটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়।

পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এএইচএম নাজমুল হুদা, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু), সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুন নুর, উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল খায়ের তরুন এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়াহেদুল্লাহ প্রামানিক।

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সাক্ষরতা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং একটি উন্নত, সচেতন ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। একজন মানুষকে শুধু পড়তে ও লিখতে সক্ষম করে তোলাই সাক্ষরতার মূল উদ্দেশ্য নয়; বরং পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও সচেতনতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তারা বলেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন অনেকাংশেই নির্ভর করে জনগোষ্ঠীর শিক্ষার হার ও দক্ষতার ওপর। নিরক্ষরতা মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করে। তাই ঝরে পড়া শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন বয়সের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল জ্ঞান ও জীবনমুখী দক্ষতা অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার সুযোগের আওতায় এনে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারলে পরিবার, সমাজ ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় ফেরানোর তাগিদ

সভায় ঝরে পড়া শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষার আওতায় ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি যারা নানা কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের জন্য উপানুষ্ঠানিক ও বিকল্প শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন বক্তারা।

তারা বলেন, সাক্ষরতার প্রসার ঘটাতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেক মানুষকে শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসার মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ ও সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের এ আয়োজনের মাধ্যমে সাপাহারে শিক্ষার গুরুত্ব ও নিরক্ষরতা দূরীকরণে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!