ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও জনসচেতনতা বাড়াতে দেশব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে গাইবান্ধায়ও ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বড় পর্দায় সরাসরি কেন্দ্রীয় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সুধীজন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মনিরুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান এবং পুলিশ সুপার মো. জসীমউদ্দিন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্য এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। এডিস মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং জমে থাকা পানি অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গাইবান্ধায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে চলবে না; বরং রোগের প্রধান বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাড়ির আশপাশ, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেনসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। একটি পরিবার সচেতন হলেই শুধু ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; পুরো এলাকার মানুষকে সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। এ জন্য নিজ নিজ বসতবাড়ি, আঙিনা, ছাদবাগান ও কর্মক্ষেত্র পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতি শনিবার নিয়মিতভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, স্কাউটস ও বিএনসিসির সদস্যদেরও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং মশাবাহিত রোগ সম্পর্কে পরিবার ও আশপাশের মানুষকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচির উদ্বোধনের পরপরই গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হয়। এ সময় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণসহ এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত করতে হবে। শুধু বিশেষ কর্মসূচির দিন নয়, সারা বছর বাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গাইবান্ধায় ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

