ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবিঃ সংগৃহীত

ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

মশকনিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্ব

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করতে পারে। তাই বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস, নির্মাণাধীন স্থাপনা ও আশপাশের এলাকায় পানি জমে থাকার মতো স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।

সিটি করপোরেশন থেকে উপজেলা পর্যন্ত সমন্বিত কার্যক্রম

তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

এর ফলে রাজধানী ও অন্যান্য মহানগর থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকারের লক্ষ্য হলো শুধু নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় অভিযান পরিচালনা না করে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসে জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা।

প্রতি শনিবার মাঠে নামবেন স্বেচ্ছাসেবক-শিক্ষার্থীরা

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি এ কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের।

তারা বাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে—এমন স্থান চিহ্নিত করবেন। একই সঙ্গে বাসাবাড়ি ও স্থাপনার মালিকদের এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন করা হবে।

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের নির্দেশ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী টেলিভিশনে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়, এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হবে।

তিন মাসকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে দেখছে সরকার

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।

বিশেষ করে কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ, পরিত্যক্ত পাত্র বা যেসব পাত্রে পানি জমতে পারে সেগুলো পরিষ্কার করা এবং নিয়মিত বাড়ির আশপাশ পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

শুধু অভিযান নয়, স্থায়ী সচেতনতা গড়ার লক্ষ্য

সরকারের এই কর্মসূচিতে একদিকে যেমন পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে, অন্যদিকে জনগণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতা তৈরির চেষ্টা থাকবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিপর্যায়ে দায়িত্বশীল আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।

একটি বাড়ি বা স্থাপনা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখা জরুরি। কারণ এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল শুধু বাসাবাড়ির ভেতরেই নয়, বিভিন্ন পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, ড্রেন, জমে থাকা পানিসহ বিভিন্ন স্থানে তৈরি হতে পারে।

এ কারণে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচিতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত অংশগ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!