দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩১৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ জনে।
সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৩১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৯০৪ জনে।
একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ২৩১ জন। ফলে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪০ হাজার ৭০৯ জন।
আগস্টে সর্বোচ্চ ৪৩ মৃত্যু
চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা মাসভিত্তিক হিসাবেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, শুধু আগস্ট মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম ছয় দিনেই মারা গেছেন আরও ২৪ জন।
এ ছাড়া জুলাই মাসে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
অর্থাৎ বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঢাকায় সর্বাধিক রোগী
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এ সময়ে ঢাকা বিভাগে ৫০৭ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৮ জন, খুলনা বিভাগে ২৩৫ জন, বরিশাল বিভাগে ১৫৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৯৯ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৮১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একসঙ্গে ডেঙ্গু রোগী বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বাড়ছে।
৪৩ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে
চলতি বছর ডেঙ্গুর সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৯০৪ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ হাজার ৭০৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তবে নতুন করে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বাড়ছে সতর্কতার প্রয়োজন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই হবে না; একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট কিংবা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাবের মতো সতর্কতামূলক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনো ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি ও মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

