ঢাকা রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,১৬৩; আগস্টেই প্রাণ গেল ৪৩ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ১,১৬৩; আগস্টেই প্রাণ গেল ৪৩ জনের

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৯৭

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৪৩ জন।

মাসভিত্তিক হিসাবে দেখা যায়, জানুয়ারিতে ডেঙ্গুতে দুইজন, ফেব্রুয়ারিতে দুইজন, মে মাসে একজন, জুনে ১৩ জন এবং জুলাইয়ে ৩৬ জন মারা গেছেন। আগস্টে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৩ জনে পৌঁছানোয় চলতি বছরের মধ্যে এই মাসেই ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

২৪ ঘণ্টায় ঢাকার দুই সিটিতে ভর্তি ৩০৫ জন

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: ১৮২ জন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ১২৩ জন
ঢাকার দুই সিটির বাইরে: ১৫৯ জন

অর্থাৎ, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতেই গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

খুলনায় সর্বোচ্চ, বরিশালেও শতাধিক রোগী

ঢাকার বাইরে বিভাগভিত্তিক হিসাবেও ডেঙ্গুর প্রকোপের চিত্র উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন খুলনা বিভাগে—২৪৩ জন।

এ ছাড়া—

বরিশাল: ১৩২ জন
চট্টগ্রাম: ১২০ জন
রাজশাহী: ৮৭ জন
ময়মনসিংহ: ৬৯ জন
রংপুর: ৭ জন
সিলেট: ১ জন

এদিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে দেশের অন্যান্য এলাকায় মোট ১৫৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি ৩৫ হাজার ৮৪৬

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৩৫ হাজার ৮৪৬ জন।

এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৩ হাজার ২০৫ জন। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়ও ১ হাজার ১৭ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

আগস্টে বাড়ছে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা

চলতি বছরের মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে আগস্টে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে তুলনামূলক কম মৃত্যুর পর জুন থেকে পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়। জুনে ১৩ জনের মৃত্যুর পর জুলাইয়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬ জনে। আগস্টে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেড়ে হয়েছে ৪৩ জন।

অর্থাৎ, চলতি বছরের মোট ৯৭ মৃত্যুর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে আগস্ট মাসে। একই সঙ্গে আগস্টের শেষ দিনেও একদিনে চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন

ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ ও জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। বাড়ির আশপাশে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত পাত্র, টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানি কিংবা অন্যান্য পাত্রে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

জ্বর, শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, বমি কিংবা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বাড়লে দ্রুত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু: ৪ জন
চলতি বছরে মোট মৃত্যু: ৯৭ জন
আগস্টে মৃত্যু: ৪৩ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি: ১,১৬৩ জন
চলতি বছরে মোট হাসপাতালে ভর্তি: ৩৫,৮৪৬ জন
চলতি বছরে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র: ৩৩,২০৫ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ: ১,০১৭ জন

চলতি বছরের আগস্টে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!