ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

menu

শ্রমিক অসন্তোষে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ গাজীপুরের আরও এক পোশাক কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

শ্রমিক অসন্তোষে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ গাজীপুরের আরও এক পোশাক কারখানা

ছবিঃ সংগৃহীত

সহকর্মীকে থাপ্পড় মারার ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিক কম্পোজিট লিমিটেড পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। কারখানার মূল ফটকে বন্ধের নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের বেআইনিভাবে কাজ বন্ধ রাখা ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের কারণে সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, সুইং সেকশনের এক সিনিয়র অপারেটরকে থাপ্পড় মারার ঘটনার প্রতিবাদ এবং সংশ্লিষ্ট ইনচার্জের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা কর্মবিরতি পালন করছিলেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার বিচার না করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কারখানাটির শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কারখানার সামনে শিল্প পুলিশের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।

শ্রম আইন উল্লেখ করে কারখানা বন্ধের নোটিশ

সোমবার সকালে কারখানার মূল ফটকে প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ ওসমানীর স্বাক্ষরিত একটি নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়। এতে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা উল্লেখ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণার কথা জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর থেকে এবং রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে শ্রমিকেরা বেআইনিভাবে কাজ বন্ধ করে দেন এবং কারখানায় উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন। কারখানার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে সোমবার থেকে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, কারখানা পুনরায় চালুর অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে খোলার তারিখ শ্রমিকদের জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ কারখানাটি খুলতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

ইনচার্জের পদত্যাগের দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি

কারখানা কর্তৃপক্ষের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্নমত জানিয়েছেন কয়েকজন শ্রমিক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁরা জানান, সুইং সেকশনের একজন সিনিয়র অপারেটরকে থাপ্পড় মারার ঘটনার প্রতিবাদে এবং সংশ্লিষ্ট ইনচার্জের পদত্যাগের দাবিতে তাঁরা কাজ বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানার এক সুইং অপারেটর বলেন, “গত শনিবার দুপুরে সুইং সেকশনের সিনিয়র অপারেটরকে থাপ্পড় মারেন ইনচার্জ। পরে ওই ইনচার্জের পদত্যাগের দাবিতে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কর্মবিরতি পালন করেন। তার বিচার না করে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।”

শ্রমিকদের ভাষ্য, তাঁদের কর্মবিরতির মূল কারণ ছিল কর্মক্ষেত্রে একজন সহকর্মীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণের প্রতিবাদ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইনচার্জের বক্তব্য কিংবা ঘটনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

দুই দিন ধরে চলছিল কর্মবিরতি

শিল্প পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ইনচার্জের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শ্রমিকেরা টানা দুই দিন কর্মবিরতি পালন করেন। বিষয়টি নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলে শেষ পর্যন্ত সোমবার থেকে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, “সোমবার থেকে ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিক কম্পোজিট লিমিটেড কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী একজন স্টাফকে অব্যাহতি দিতে হবে। এ নিয়ে দুই দিন ধরে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছিলেন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কারখানার সামনে শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কারখানার সামনে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান হয়েছে কি না, সে তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

অনিশ্চয়তায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান

কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণায় শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও কাজে ফেরার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারখানা পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট তারিখ না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একদিকে কর্তৃপক্ষ কারখানার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টি সামনে এনে বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে, অন্যদিকে শ্রমিকেরা কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার দাবি করছেন। ফলে বিরোধটির সমাধানে শ্রমিকদের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।

কারখানা কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে উৎপাদন কার্যক্রম কবে স্বাভাবিক হবে। আপাতত কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!