বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের নকশাগত আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের সময়োপযোগী প্রতিস্থাপন এবং কঠোর নিরাপত্তা মূল্যায়নের মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনকাল বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ুষ্কালও ভবিষ্যতে বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় কারিগরি শর্ত পূরণ, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরমাণু নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে রূপপুরের নির্ধারিত ৬০ বছরের পরও বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কেন্দ্রটির আয়ুষ্কাল ৮০ কিংবা ১০০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এ জন্য কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের অবস্থা, নিরাপত্তাব্যবস্থা, উপকরণের ক্ষয় এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রয়োজন হবে।
রূপপুরের নকশাগত আয়ুষ্কাল ৬০ বছর
পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় নির্মিত এ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটে ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
এটি তৃতীয় প্রজন্মের উন্নত নিরাপত্তাব্যবস্থাসম্পন্ন পারমাণবিক চুল্লি প্রযুক্তি, যা সাধারণত থ্রি প্লাস জেনারেশন হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের চুল্লিতে উন্নত প্রকৌশল নকশা, একাধিক নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি মোকাবিলার বিভিন্ন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
রূপপুরের নকশাগত পরিচালনকাল ৬০ বছর ধরা হয়েছে। তবে নকশাগত আয়ুষ্কাল মানেই নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে—বিষয়টি এমন নয়। অনেক দেশে নির্ধারিত পরিচালনকাল শেষ হওয়ার আগে বা পরে বিস্তারিত নিরাপত্তা মূল্যায়ন করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালন অনুমোদন বাড়ানো হয়।
এ ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো, কেন্দ্রটির গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো, ব্যবস্থা ও যন্ত্রাংশ নির্ধারিত নিরাপত্তার মান বজায় রেখে কাজ করতে পারছে কি না।
কীভাবে ৬০ বছর থেকে ৮০ বা ১০০ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে আয়ুষ্কাল?
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনকাল বাড়ানো একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল প্রকৌশল প্রক্রিয়া। শুধু পুরোনো যন্ত্রাংশ মেরামত বা নতুন প্রযুক্তি স্থাপন করলেই আয়ুষ্কাল বাড়ানো যায় না। কেন্দ্রের নকশা, উপকরণের অবস্থা, নিরাপত্তা বিশ্লেষণ এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণ—সবকিছু বিবেচনায় নিতে হয়।
রূপপুরের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার জন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
১. চুল্লির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের অবস্থা মূল্যায়ন
পারমাণবিক চুল্লির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ দীর্ঘ সময় ধরে তাপ, চাপ ও বিকিরণের প্রভাবে থাকে। বিশেষ করে রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের উপকরণগত পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়।
এসব উপকরণের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণে পরীক্ষা, বিশ্লেষণ এবং প্রকৌশলগত মূল্যায়ন প্রয়োজন। কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিরাপদ পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছাড়া কেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানো সম্ভব নয়।
২. নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন
পাম্প, ভালভ, কেবল, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ সময়ের সঙ্গে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে। এসব উপকরণের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মেরামত বা প্রতিস্থাপন করতে হবে।
কিছু যন্ত্রাংশ নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলানো সম্ভব হলেও চুল্লির সব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান একইভাবে প্রতিস্থাপন করা যায় না। তাই কোন অংশ কত দিন নিরাপদে ব্যবহার করা যাবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত তথ্য ও পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হয়।
৩. নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থার আধুনিকায়ন
প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, সেন্সর, পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম এবং ডিজিটাল নিরাপত্তাব্যবস্থা হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে।
তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত করার আগে সেটির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য যাচাই করা অপরিহার্য। নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হলে নির্ধারিত প্রকৌশলগত প্রক্রিয়া ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন অনুসরণ করতে হয়।
৪. নিয়মিত নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মূল্যায়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। কেন্দ্রের কাঠামো, যন্ত্রাংশ, জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা, বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলার সক্ষমতা পর্যালোচনা করতে হয়।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা এবং পরমাণু নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণ ছাড়া রূপপুরের পরিচালনকাল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
রাশিয়ার কালিনিন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কী শেখার আছে?
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ুষ্কাল বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাশিয়ার কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কালিনিন বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ১৯৮৪ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ১৯৮৬ সালে চালু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৪ ও ২০১১ সালে তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিট উৎপাদনে আসে। কেন্দ্রটি রাশিয়ার বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রাথমিক পরিচালনকাল শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রটির প্রথম দিকের ইউনিটগুলোর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা মূল্যায়ন, যন্ত্রাংশের আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে পরিচালনকাল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
কালিনিনের অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, নির্ধারিত পরিচালনকাল শেষ হলেই একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ করতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা সব ক্ষেত্রে নেই। বরং নিরাপত্তা ও কারিগরি শর্ত পূরণ করা গেলে অতিরিক্ত সময় পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে রাশিয়ার কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিচালনকাল বাড়ানোর অভিজ্ঞতা সরাসরি রূপপুরে প্রয়োগ করা যাবে না। দুই কেন্দ্রের নকশা, যন্ত্রাংশ, পরিচালন পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা মূল্যায়নের ফল আলাদা হতে পারে। রূপপুরের ক্ষেত্রে নিজস্ব কারিগরি তথ্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রূপপুরের আয়ুষ্কাল বাড়াতে এখন থেকেই প্রস্তুতি জরুরি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনকাল বাড়াতে হলে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দীর্ঘ মেয়াদে সচল রাখার পরিকল্পনা শুরু থেকেই নিতে হবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিবিড় পরিচর্যার প্রস্তুতি আগে থেকে না থাকলে ভবিষ্যতে আয়ুষ্কাল বাড়ানোর সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
তাঁর বক্তব্যের আলোকে রূপপুরের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল তৈরি, যন্ত্রাংশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ কেবল যন্ত্রাংশ মেরামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে পরিচালনসংক্রান্ত নথি সংরক্ষণ, উপকরণের ক্ষয় বিশ্লেষণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া এবং নিরাপত্তা সংস্কৃতি বজায় রাখার বিষয়ও জড়িত।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পাওয়া যাবে কি না, সেটিও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হওয়া দরকার।
আয়ুষ্কাল বাড়লে অর্থনৈতিক সুবিধা কী?
একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল অর্থ, দীর্ঘ সময় এবং জটিল প্রকৌশলগত প্রস্তুতি প্রয়োজন হয়। তাই বিদ্যমান কেন্দ্র নিরাপদে আরও কয়েক দশক পরিচালনা করা সম্ভব হলে নতুন কেন্দ্র নির্মাণের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
পরিচালনকাল বাড়ানো সম্ভব হলে সম্ভাব্য সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে অতিরিক্ত সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন;
নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরির চাপ কিছুটা কমানো;
বিদ্যমান দক্ষ জনবল ও পরিচালনব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো;
দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা আরও কার্যকর করা।
তবে আয়ুষ্কাল বাড়ানোর জন্যও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, নিরাপত্তাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হতে পারে। ফলে মেয়াদ বাড়ানো অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে কি না, তা নির্ধারণে সম্ভাব্য ব্যয়, উৎপাদনক্ষমতা, বিদ্যুতের চাহিদা এবং বিকল্প উৎসের সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
অর্থাৎ, শুধু নতুন কেন্দ্র নির্মাণের ব্যয় এড়ানোই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার মোট ব্যয় ও নিরাপত্তার বিষয়গুলো একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনে কী ভূমিকা রাখতে পারে রূপপুর?
বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, জ্বালানি আমদানির ব্যয় এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রশ্নে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কয়লা বা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সরাসরি বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয় না।
তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত বলা যায় না। তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ এবং পারমাণবিক উপকরণের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।
রূপপুরের পরিচালনকাল বাড়ানো গেলে এবং কেন্দ্রটি নিরাপত্তার শর্ত পূরণ করে নির্ভরযোগ্যভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহে অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে। কিন্তু এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য কারিগরি সক্ষমতা, স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অপরিহার্য।
১০০ বছর পরিচালনা কি বাস্তবসম্মত?
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ৮০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত পরিচালিত হবে—এমন সিদ্ধান্ত এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ৬০ বছরের নকশাগত আয়ুষ্কালের পর আরও দীর্ঘ সময় পরিচালনা করতে হলে কেন্দ্রটির গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের অবস্থা, নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা, আধুনিকায়নের সম্ভাবনা এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালনকাল বাড়ানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও সব কেন্দ্রের ক্ষেত্রে একই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে চুল্লির গুরুত্বপূর্ণ অংশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা এবং কেন্দ্রের সামগ্রিক অবস্থা এ ক্ষেত্রে নির্ধারক ভূমিকা পালন করে।
তাই রূপপুরের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—প্রথম দিন থেকেই কঠোর নিরাপত্তা মান বজায় রাখা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ পরিচালনার জন্য বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা তৈরি করা।
সব প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে নির্ধারিত ৬০ বছরের পরও রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে ৮০ বা ১০০ বছর পর্যন্ত পরিচালনার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে প্রকৌশলগত মূল্যায়ন, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এবং নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর।

