জাতীয় গ্রিডে সংযোগের লক্ষ্যে এগোচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ স্তরে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে ইউনিটটির চুল্লিতে প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ক্ষমতাস্তরে চুল্লির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। সব প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হলে ইউনিটটিকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম আশা করছে, নভেম্বরের শেষ নাগাদ গ্রিডে সংযোগ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হবে।
বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ স্তরে পৌঁছেছে। এর ফলে চুল্লির ভেতরে প্রথমবারের মতো স্বয়ংক্রিয় ও নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার রুশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অগ্রগতির মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট চালুর প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। এখন বিভিন্ন ক্ষমতাস্তরে চুল্লির কার্যকারিতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলোর কার্যক্রম পরীক্ষা করা হবে। এসব পরীক্ষার ফলাফল ও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণের ভিত্তিতে পরবর্তী পর্যায়ে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে ইউনিটটির সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ স্তরে পৌঁছানো প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত পুরো দলের জন্য বড় অর্জন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নভেম্বরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে ইউনিটটির সংযোগ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হবে।
কী এই ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ স্তর?
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রিতভাবে শুরু ও বজায় রাখার প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ স্তরে পৌঁছানো বলতে এমন একটি প্রাথমিক পর্যায়কে বোঝায়, যখন চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির মাধ্যমে এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।
পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়ায় একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বিভাজিত হলে শক্তির পাশাপাশি নিউট্রন নির্গত হয়। এসব নিউট্রন অন্য নিউক্লিয়াসের বিভাজন ঘটালে বিক্রিয়াটি ধারাবাহিকভাবে চলতে পারে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই বিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে উৎপন্ন তাপ দিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়। সেই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করে।
তবে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়া এক বিষয় নয়। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে চুল্লি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনসহ পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করতে হয়।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটও এখন সেই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর ফলাফল কেন্দ্রটির গ্রিড সংযোগ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রমের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নভেম্বরের শেষ নাগাদ গ্রিডে সংযোগের প্রত্যাশা
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভের বক্তব্য অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের সংযোগ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করার প্রত্যাশা রয়েছে।
গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এর মাধ্যমে কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সরবরাহের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে গ্রিডে সংযোগ স্থাপনের পরও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা ও ধাপে ধাপে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রম চলতে পারে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যবস্থার সমন্বিত কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এ পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
তাই গ্রিড সংযোগের প্রত্যাশিত সময়সীমা গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রকৃতপক্ষে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় নির্ভর করবে পরীক্ষার ফলাফল, নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর।
দুই ইউনিটেই স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা বা এপিসিএস স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে রোসাটম।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও প্রক্রিয়ার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয় করা যায়। চুল্লির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, পরিচালনাগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস (আরএএসইউ) সরবরাহ করা এপিসিএস ব্যবস্থায় ৪৩টি সিস্টেমের আওতায় প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি যুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত সাত হাজারের বেশি প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
বিপুলসংখ্যক যন্ত্রপাতি ও প্রক্রিয়ার তথ্য একত্রে পর্যবেক্ষণের সুবিধা থাকায় পরিচালনাকারীরা কেন্দ্রটির বিভিন্ন অংশের কার্যক্রম সম্পর্কে সমন্বিত ধারণা পেতে পারবেন। এর ফলে সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা মিলবে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো নির্ধারিত পরিচালনাগত সীমার মধ্যে চুল্লির কার্যক্রম বজায় রাখা এবং নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনায় অপারেটরদের সহায়তা করা।
প্রথম ইউনিটে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল টুইনভিত্তিক প্রযুক্তি
প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক চালনা কার্যক্রমে সহায়তা দিতে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম বা ওআইএসএস যুক্ত করেছে রোসাটম। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার বাইরে রোসাটমের নির্মিত কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস বা আরএএসইউ ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তির সহায়তায় ওআইএসএস তৈরি করেছে।
ডিজিটাল টুইন বলতে কোনো বাস্তব যন্ত্র, ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়ার কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজিটাল মডেলকে বোঝায়। এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিচালনাগত তথ্য বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ওআইএসএস প্রাথমিক চালনা বা স্টার্টআপ কার্যক্রমে অপারেটরদের সহায়তা করছে। দ্বিতীয় ইউনিটেও একই প্রযুক্তি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাথমিক চালনা পর্যায়ে বিভিন্ন ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করতে হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও প্রক্রিয়ার অবস্থা বুঝতে হয়। ওআইএসএসের মতো প্রযুক্তি এসব তথ্যকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সহায়তা করতে পারে।
সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা শনাক্তে এআইসিএসের ভূমিকা
ওআইএসএসের একটি অংশ হিসেবে এআইসিএস পরিচালনাগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে সহায়তা করে।
রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা ৩৬০টি প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট সিস্টেমের তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে অপারেটরদের করণীয় নির্ধারণে সহায়তা দেওয়ার জন্য এতে ৮০টির বেশি নির্দেশিকা রয়েছে।
এ ছাড়া জটিল পরিচালনাগত তথ্য সহজভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের দ্রুত ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে এই ব্যবস্থা।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো সংবেদনশীল স্থাপনায় বিপুল পরিমাণ তথ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি। স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে পরিচালনাকারীদের কাজ সহজ করতে পারে।
তবে এসব প্রযুক্তি অপারেটরদের সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। কেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত কর্মী, নির্ধারিত পরিচালনাপদ্ধতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি অপরিহার্য।
বাংলাদেশ-রাশিয়া সহযোগিতার বড় প্রকল্প রূপপুর
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সহযোগিতার বৃহত্তম উদ্যোগগুলোর একটি। আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন প্রযুক্তি জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়ার সময় কমানো, পরিচালন ব্যয় হ্রাস এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের নির্ভরযোগ্য সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।
রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নতুন একটি উৎস যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তবে প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে হলে নিরাপদ পরিচালনা, নিরবচ্ছিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ স্তরে পৌঁছানো এবং নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হওয়া প্রকল্পটির বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। একই সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় কেন্দ্রটির পরীক্ষামূলক চালনা কার্যক্রমে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হয়েছে।
এখন বিভিন্ন ক্ষমতাস্তরে চুল্লির কার্যকারিতা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় যাচাই কার্যক্রম সম্পন্ন করার দিকে নজর থাকবে। এসব ধাপ সফলভাবে শেষ হলে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
রোসাটমের ঘোষিত প্রত্যাশা অনুযায়ী, নভেম্বরের শেষ নাগাদ গ্রিড সংযোগের কাজ সম্পন্ন হতে পারে। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রকৃত সময় নির্ভর করবে পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অগ্রগতির ওপর।
সব মিলিয়ে, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের এই অগ্রগতি বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এখন মূল লক্ষ্য হলো প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করে ইউনিটটিকে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা।

