ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

menu

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবার চেইন রিঅ্যাকশন, গ্রিডে বিদ্যুৎ আসতে পারে নভেম্বরে নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবার চেইন রিঅ্যাকশন, গ্রিডে বিদ্যুৎ আসতে পারে নভেম্বরে  নিজস্ব প্রতিবেদক

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুরে অর্জিত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে সফলভাবে শুরু হয়েছে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া বা নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন। রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয় বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের আশা, পরবর্তী কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন যথাযথভাবে সম্পন্ন হলে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া এবং জাতীয় গ্রিডে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়া এক বিষয় নয়। চুল্লির শক্তি ধাপে ধাপে বাড়ানো, টারবাইন ও জেনারেটরের কার্যকারিতা পরীক্ষা, গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করার পরই বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হবে।

রূপপুরে কী ঘটেছে?

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া যায়। এরপর রোববার বিকেলে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা হয়।

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই পর্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, পারমাণবিক জ্বালানির পরমাণু বিভাজনের মাধ্যমে যে তাপ উৎপন্ন হয়, তা নিয়ন্ত্রণে রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হয়।

নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়ায় একটি পরমাণুর বিভাজন থেকে নির্গত নিউট্রন অন্য পরমাণুর বিভাজন ঘটায়। এভাবে ধারাবাহিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হয়। পারমাণবিক চুল্লির বিশেষ নকশা, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের মাধ্যমে এই বিক্রিয়াকে নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখা হয়।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার অর্থ হলো, প্রকল্পটি কেবল নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি স্থাপনের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; বরং বাস্তব পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারিগরি কার্যক্রমে প্রবেশ করেছে।

এখন কীভাবে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ?

পারমাণবিক চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ধাপে ধাপে এর শক্তি বাড়ানো হয়। এ সময় চুল্লির তাপমাত্রা, চাপ, নিউট্রন প্রবাহ, শীতলীকরণব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

পরমাণু শক্তি প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, চেইন রিঅ্যাকশন শুরুর পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরবর্তী কারিগরি ধাপে প্রবেশ করবে। এ পর্যায়ে ধীরে ধীরে চুল্লির শক্তি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।

প্রথম ধাপ: পারমাণবিক বিক্রিয়ায় তাপ উৎপাদন। চুল্লির ভেতরে পারমাণবিক জ্বালানির নিয়ন্ত্রিত বিভাজনের মাধ্যমে বিপুল তাপ উৎপন্ন হয়।

দ্বিতীয় ধাপ: বাষ্প তৈরি। উৎপন্ন তাপ ব্যবহার করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা অনুযায়ী বাষ্প তৈরি করা হয়। রূপপুরের মতো চাপযুক্ত পানির চুল্লিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক তাপ স্থানান্তরব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তৃতীয় ধাপ: টারবাইন ঘোরানো। বাষ্পের শক্তি কাজে লাগিয়ে টারবাইন ঘোরানো হয়।

চতুর্থ ধাপ: জেনারেটরে বিদ্যুৎ উৎপাদন। টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটর যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে।

পঞ্চম ধাপ: জাতীয় গ্রিডে সংযোগ। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের পর উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় করে সরবরাহ করা হয়।

এই প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা জরুরি। বিশেষ করে পারমাণবিক চুল্লি, টারবাইন, জেনারেটর ও জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কারিগরি প্রক্রিয়া।

নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ আসার সম্ভাবনা

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পরবর্তী ধাপগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে নভেম্বরের মধ্যেই রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে এটি একটি সম্ভাব্য সময়সীমা; চূড়ান্তভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর তারিখ নির্ভর করবে পরীক্ষার ফলাফল, নিরাপত্তা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো পর্যায়ে কারিগরি সমস্যা দেখা দিলে বা অতিরিক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার আগে উৎপাদনব্যবস্থার বিভিন্ন অংশের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। এ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থিতিশীলতা, জেনারেটরের কার্যক্রম, সুরক্ষাব্যবস্থা এবং গ্রিডের সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামঞ্জস্য যাচাই করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে কেন গুরুত্বপূর্ণ রূপপুর?

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ, জ্বালানির উৎসে বৈচিত্র্য আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই প্রকল্প বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি বড় প্রযুক্তিগত সংযোজন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

প্রকল্পটির দুটি ইউনিটের প্রতিটির পরিকল্পিত উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। সে হিসাবে দুটি ইউনিট চালু হলে কেন্দ্রটির মোট স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

তবে স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা এবং বাস্তবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ এক নয়। প্রকৃত উৎপাদন নির্ভর করবে ইউনিটের কার্যক্রম, রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রিডের চাহিদার ওপর।

রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থায় নতুন একটি উৎস যুক্ত হবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস বৈচিত্র্যময় করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস, কয়লা, তরল জ্বালানি এবং আমদানি করা বিদ্যুতের ভূমিকা রয়েছে। জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বিদ্যুৎ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে বৈচিত্র্য বাড়বে। পারমাণবিক জ্বালানির তুলনামূলক উচ্চ শক্তিঘনত্বের কারণে অল্প পরিমাণ জ্বালানি থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ তাপ উৎপাদন করা সম্ভব।

তবে রূপপুর চালু হলেই বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা সম্পূর্ণ দূর হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। পারমাণবিক জ্বালানি সংগ্রহ, বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

কেন্দ্রটির অর্থনৈতিক সুফল নির্ভর করবে উৎপাদন ব্যয়, ঋণ পরিশোধ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, জ্বালানির মূল্য এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের কার্যকর ব্যবহারের ওপর।

পারমাণবিক নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিতে হবে

পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সুবিধা থাকলেও এর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চুল্লির তাপমাত্রা ও চাপ নিয়ন্ত্রণ, জরুরি শীতলীকরণব্যবস্থা, বিকিরণ পর্যবেক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি—সবকিছু নির্ধারিত মান অনুযায়ী পরিচালনা করতে হয়।

চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হওয়ার পর চুল্লির শক্তি ধাপে ধাপে বাড়ানোর সময় এসব নিরাপত্তাব্যবস্থা বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। প্রতিটি পর্যায়ে নির্ধারিত কারিগরি মান পূরণ করা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের বিষয়।

একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীদের প্রশিক্ষণ, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগব্যবস্থা এবং পরিবেশ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা শুধু চুল্লির প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না; বরং দক্ষ জনবল, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, স্বাধীন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ তদারকিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য

প্রথম ইউনিটে চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হওয়ার পাশাপাশি রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তবে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরুর সময়ও নির্মাণকাজের অগ্রগতি, যন্ত্রপাতি পরীক্ষা, জ্বালানি লোডিং, নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং কমিশনিংয়ের বিভিন্ন ধাপের ওপর নির্ভর করবে।

দুটি ইউনিট চালু হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট স্থাপিত ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় কেন্দ্রটির ভূমিকা আরও বাড়বে।

সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত অগ্রগতি। তবে প্রকল্পটির প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে নিরাপদে কমিশনিং সম্পন্ন করা, নির্ভরযোগ্যভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জাতীয় গ্রিডে কার্যকর সংযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন সক্ষমতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে।

এ জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনবল, পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, নিরাপত্তা মান বজায় রাখা এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো।

সবশেষে, নভেম্বরের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, তা বাস্তবায়িত হবে কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। পরবর্তী কারিগরি পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সফলভাবে সম্পন্ন হলে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ আরও সুগম হবে।

রূপপুরে চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হওয়া তাই শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি অগ্রগতি নয়; এটি বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!