জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে—এমন সন্দেহে ২১৫ কেজি ওজনের একটি কালো কষ্টিপাথর উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা পাথরটির সিজার মূল্য ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় শ্রী কৃষ্ণ (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। মোবাইল ফোনসহ জব্দ করা মালামালের মোট সিজার মূল্য ১ কোটি ৭ লাখ ৫১ হাজার টাকা।
রোববার (২৬ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামে বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ অভিযানে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়।
যৌথ অভিযানে কষ্টিপাথর উদ্ধার
জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, পাঁচবিবি উপজেলার খামারপাড়া গ্রামে কষ্টিপাথর উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ২১৫ কেজি ওজনের একটি কালো কষ্টিপাথর উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পাথরটি ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় খামারপাড়া গ্রামের শ্রী ভবেন্দ্র কৃষ্ণের ছেলে শ্রী কৃষ্ণকে (৩৪) আটক করা হয়। অভিযানের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
উদ্ধার করা পাথরটির নির্ধারিত সিজার মূল্য ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মোবাইল ফোনের মূল্যসহ জব্দ করা মালামালের মোট সিজার মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ৫১ হাজার টাকা।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতিনিধির কাছে পাথর হস্তান্তর
২০ বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা কষ্টিপাথরটি পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার-সংশ্লিষ্ট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, আটক শ্রী কৃষ্ণকে জব্দ করা মালামালের প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ পাঁচবিবি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রাচীন ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—এমন কোনো পাথর বা বস্তু উদ্ধার হলে তার প্রকৃতি, ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে উদ্ধার করা পাথরটির প্রকৃত পরিচয় ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন প্রয়োজন।
পাচার প্রতিরোধে নজরদারির গুরুত্ব
বাংলাদেশ থেকে মূল্যবান পাথর, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বা ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বস্তু অবৈধভাবে দেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাঁচবিবিতে এই উদ্ধার অভিযানেও বিজিবি, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে অংশ নেয়।
তবে উদ্ধার করা পাথরটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং ভারতে পাচারের পরিকল্পনার পেছনে কোনো চক্র রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তদন্তের ফল পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে।
আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে আরও তথ্য জানা যাবে।

