প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করার ঘটনায় আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত বাস নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে দেওয়া তাঁর ওই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)।
তবে আবু বকর সিদ্দিককে কখন, কোথা থেকে এবং কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বাস নিয়ে পোস্টে বিতর্কিত মন্তব্য
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে নগরীতে প্রবেশ করেন।
এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও বাস থেকে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার অভিবাদনের জবাব দেন। তাঁর রাজশাহী সফর ঘিরে নগরীর বিভিন্ন সড়কে মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।
পরে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত বাস নিয়ে একটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। সেখানে রাজশাহী সফরে প্রধানমন্ত্রী কেন লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রুয়েটের বাস ব্যবহার করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’
মন্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে এটিকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক বক্তব্য হিসেবে দেখেন এবং মন্তব্যকারীর পরিচয় শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মন্তব্যটি নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে দেওয়া মন্তব্যটির নিন্দা জানিয়েছেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতারা। তাঁদের মতে, রাষ্ট্রের সরকারপ্রধানকে ঘিরে এ ধরনের বক্তব্যের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে এ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আলী আশরাফ মাসুমও মন্তব্যটির পেছনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কোনো বাস্তব হুমকি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানান।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া কোনো মন্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা তা বাস্তব নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে তদন্ত ও প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ বলেছিল, মন্তব্যটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে
ঘটনাটি সামনে আসার পর রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র ও উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান মন্তব্যটিকে উদ্বেগজনক, অপরাধমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি জানিয়েছিলেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। মন্তব্যকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরপর আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়। তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বিবরণ, তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নম্বর, অভিযোগের ধারা কিংবা আদালতে হাজির করার তথ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা?
রাষ্ট্রের সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বক্তব্য প্রকাশিত হলে সেটির প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে কোনো বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করার আগে তদন্তের ফলাফল ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারিত হওয়া উচিত।
আবু বকর সিদ্দিকের গ্রেপ্তারের ঘটনায় এখন নজর রয়েছে পুলিশি তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার দিকে। তাঁর মন্তব্যটি নিছক উসকানিমূলক বক্তব্য ছিল, নাকি এর সঙ্গে কোনো বাস্তব নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা।

