ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

menu

আয়কর রিটার্ন না দিলে কী ক্ষতি, করযোগ্য আয় না থাকলেও কখন জমা দিতে হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

আয়কর রিটার্ন না দিলে কী ক্ষতি, করযোগ্য আয় না থাকলেও কখন জমা দিতে হবে?

ছবিঃ সংগৃহীত

আয় করযোগ্য সীমার নিচে, তাই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই—এমন ধারণা অনেকের। আবার অনেকে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেওয়ার পর বছরের পর বছর রিটার্ন জমা দেন না। তাঁদের ধারণা, আয়কর না দিলে সরকারের রাজস্ব কমতে পারে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। আইন অনুযায়ী রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তা না দিলে জরিমানা, অতিরিক্ত কর এবং বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক কাজে জটিলতার মুখে পড়তে পারেন করদাতা।

আয়কর রিটার্ন শুধু সরকারকে কর দেওয়ার হিসাব নয়; এটি একজন ব্যক্তির আয়, সম্পদ, বিনিয়োগ, দায় ও কর পরিশোধের আনুষ্ঠানিক বিবরণ। ব্যাংকঋণ, সম্পত্তি কেনাবেচা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিংবা নির্দিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণের সময় এই নথি প্রয়োজন হতে পারে। ফলে নিয়মিত রিটার্ন জমা না দেওয়ার প্রভাব শুধু কর পরিশোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; ব্যক্তিগত আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতায় আয়কর ব্যবস্থাপনায় টিআইএনধারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও টিআইএন নেওয়া এবং নিয়মিত রিটার্ন জমা দেওয়া এক বিষয় নয়। যাঁদের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা দেওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু টিআইএন থাকলেই প্রত্যেক ব্যক্তির সব পরিস্থিতিতে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক—এমন ধারণাও সঠিক নয়। ব্যক্তির আয়, পেশা, সেবা গ্রহণের ধরন এবং প্রযোজ্য আইনি বিধান বিবেচনা করতে হয়।

রিটার্ন জমা না দিলে কী ধরনের জরিমানা হতে পারে?

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারায় রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জরিমানার বিধান রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট করদাতার পরিস্থিতি ও আইনের শর্ত অনুযায়ী কর কর্তৃপক্ষ জরিমানা আরোপ করতে পারেন।

সাধারণভাবে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্য করের ১০ শতাংশের বিধান প্রাসঙ্গিক। আইনে ন্যূনতম জরিমানার পরিমাণ এবং আগে আয় নিরূপণ হয়েছে কি না, তার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ জরিমানার সীমাও নির্ধারিত রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে অতিরিক্ত দৈনিক জরিমানার বিধানও প্রযোজ্য হতে পারে।

তবে রিটার্ন জমা না দিলেই প্রত্যেক করদাতার ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হয় না। জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণে করদাতার পূর্ববর্তী কর নিরূপণ, প্রযোজ্য বিধান, ব্যর্থতার সময়কাল এবং সংশ্লিষ্ট আইনি শর্ত বিবেচনা করতে হয়।

এ কারণে দীর্ঘদিন রিটার্ন জমা না দিয়ে থাকলে বিষয়টি উপেক্ষা না করে নিজের কর-সংক্রান্ত অবস্থান যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর বিষয়ে অভিজ্ঞ পেশাজীবীর পরামর্শ নিয়ে বকেয়া রিটার্ন জমার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

করযোগ্য আয় না থাকলেও কি রিটার্ন দিতে হবে?

আয়কর রিটার্ন নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর একটি হলো—করযোগ্য আয় না থাকলে রিটার্ন দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বাস্তবে কর দিতে হবে কি না এবং রিটার্ন জমা দিতে হবে কি না, দুটি আলাদা বিষয়।

কোনো ব্যক্তির আয় নির্ধারিত করমুক্ত সীমার নিচে থাকলে তাঁর ওপর আয়কর নাও ধার্য হতে পারে। কিন্তু আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে। একইভাবে, কিছু নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার প্রমাণ প্রয়োজন হয়।

তাই শুধু আয় কম বা করযোগ্য নয়—এমন যুক্তিতে রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। নিজের আয়, পেশা, টিআইএন এবং প্রযোজ্য আইনি শর্ত যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, যাঁদের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক নয়, তাঁদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট আর্থিক প্রয়োজন বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে আয় ও সম্পদের হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রযোজ্য নিয়মে রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

টিআইএন থাকলেই কি প্রতিবছর রিটার্ন দিতে হবে?

টিআইএন হলো করদাতাকে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত একটি নম্বর। এটি থাকলেই প্রত্যেক ব্যক্তিকে সব পরিস্থিতিতে রিটার্ন দিতে হবে—বিষয়টি এমন নয়। তবে আয়কর আইন অনুযায়ী যাঁদের রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাঁদের নিয়মিত রিটার্ন জমা দিতে হয়।

আয়কর রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে করযোগ্য আয় ছাড়াও আইননির্ধারিত অন্যান্য শর্ত প্রাসঙ্গিক হতে পারে। আবার কোনো নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের সময় রিটার্ন জমার প্রমাণ দেখানোর বিধান থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

অতএব, টিআইএন নেওয়ার পর রিটার্ন জমার বিষয়টি অবহেলা না করে নিজের কর-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়মিত যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাঁরা চাকরি করেন, ব্যবসা পরিচালনা করেন, পেশাগত আয় করেন কিংবা সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

ব্যাংকঋণ ও সম্পত্তি কেনাবেচায় কী সমস্যা হতে পারে?

ব্যাংকঋণ নেওয়া, সম্পত্তি কেনাবেচা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা কিংবা বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের সময় নিজের আয়ের উৎস ও আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন বা রিটার্ন জমার প্রমাণ সহায়ক নথি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

রিটার্নে একজন করদাতা তাঁর আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ, দায় এবং কর পরিশোধের তথ্য তুলে ধরেন। ফলে একাধিক বছরের রিটার্ন তাঁর আর্থিক অবস্থার ধারাবাহিক বিবরণ দিতে পারে। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ যাচাইয়ের সময় অন্যান্য নথির পাশাপাশি এসব তথ্য চাইতে পারে।

রিটার্ন না থাকলে প্রয়োজনীয় আর্থিক নথি উপস্থাপন করতে অসুবিধা হতে পারে। তবে রিটার্ন না থাকলেই প্রত্যেক ব্যাংকঋণ বা সম্পত্তি কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নয়। সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ধরন, প্রতিষ্ঠানের শর্ত এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।

এ ছাড়া আইন অনুযায়ী যেসব সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার প্রমাণ প্রয়োজন, সেসব ক্ষেত্রে যথাযথ নথি না থাকলে সেবা পেতে বিলম্ব বা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।

রিটার্ন না দিলে কর ছাড় ও আর্থিক সুবিধা হারানোর ঝুঁকি

সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন জমা না দেওয়ার ফলে কিছু কর-সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী বিলম্বে রিটার্ন জমা দিলে কর হিসাবের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের প্রয়োজনও হতে পারে।

তবে সব করদাতার ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা বা ছাড় প্রযোজ্য নয়। আয়, বিনিয়োগ, কর নিরূপণের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট করবর্ষের বিধানের ওপর কর-সুবিধা নির্ভর করে। তাই রিটার্ন জমা না দেওয়ার কারণে ঠিক কত টাকা ক্ষতি হবে, তা ব্যক্তিভেদে আলাদা হতে পারে।

যাঁরা নিয়মিত রিটার্ন জমা দেন, তাঁরা নিজেদের আয় ও করের হিসাব প্রতিবছর হালনাগাদ রাখতে পারেন। এতে কর পরিশোধের তথ্য সংরক্ষণ করা সহজ হয় এবং ভবিষ্যতে আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় নথি দ্রুত উপস্থাপন করা যায়।

রিটার্ন জমা দিলেই কি কর দিতে হবে?

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া মানেই কর পরিশোধ করতে হবে—এ ধারণাও সঠিক নয়। রিটার্ন হলো নির্দিষ্ট আয়বর্ষে একজন করদাতার আয়, সম্পদ, দায়, বিনিয়োগ ও কর-সংক্রান্ত তথ্যের বিবরণ। অন্যদিকে, কর দিতে হবে কি না, তা নির্ভর করে করযোগ্য আয়, করমুক্ত সীমা, প্রযোজ্য করহার এবং আইনের অন্যান্য বিধানের ওপর।

কোনো ব্যক্তির আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকলে এবং অন্য কোনো কারণে কর প্রদেয় না হলে তাঁকে আয়কর দিতে নাও হতে পারে। তবে তাঁর ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক কি না, সেটি আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

একইভাবে, কোনো ব্যক্তির আয় থেকে উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে রিটার্নের মাধ্যমে সেই আয় ও করের তথ্য উপস্থাপন করা যায়। ফলে নিজের কর-সংক্রান্ত অবস্থান স্পষ্ট করতে রিটার্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সুতরাং, কর দিতে হবে কি না—এই অনিশ্চয়তার কারণে রিটার্ন জমা না দিয়ে বসে থাকা ঠিক নয়। বরং নিজের প্রকৃত আয় ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী হিসাব তৈরি করে আইন অনুসারে রিটার্ন জমা দেওয়া উচিত।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমার সুযোগ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে করদাতারা ঘরে বসেই নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে রিটার্ন জমা দিতে পারেন।

অনলাইনে রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে সাধারণত করদাতার টিআইএন, পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য, আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ, দায় এবং প্রযোজ্য করের বিবরণ প্রস্তুত রাখতে হয়। তথ্য পূরণের আগে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করলে ভুলের আশঙ্কা কমে।

২০২৬-২৭ করবর্ষে ব্যক্তি করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কারা এই বাধ্যবাধকতার বাইরে রয়েছেন, কাগজে রিটার্ন দেওয়ার বিশেষ অনুমতি কীভাবে পাওয়া যাবে এবং রিটার্ন জমার সর্বশেষ সময়সীমা কত—এসব বিষয়ে প্রকাশের আগে এনবিআরের হালনাগাদ নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।

করবর্ষভেদে রিটার্ন জমার সময়সীমা, ছাড়, অতিরিক্ত কর এবং বিশেষ সুবিধার নিয়ম পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পুরোনো কোনো নির্দেশনা বা পূর্ববর্তী করবর্ষের সময়সূচির ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা উচিত।

সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়ার সুবিধা

সময়মতো রিটার্ন জমা দিলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাওয়া যায়।

প্রথমত, জরিমানার ঝুঁকি কমে। আইন অনুযায়ী রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা দেওয়া বিলম্বজনিত জটিলতা এড়াতে সহায়তা করে।

দ্বিতীয়ত, আর্থিক নথি হালনাগাদ থাকে। প্রতিবছর আয়, সম্পদ, দায় ও করের হিসাব সংরক্ষিত থাকলে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।

তৃতীয়ত, ব্যাংকিং ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সুবিধা হয়। কোনো প্রতিষ্ঠান আয় বা কর-সংক্রান্ত নথি চাইলে আগের বছরের রিটার্ন সহায়ক হতে পারে।

চতুর্থত, নিজের কর-সংক্রান্ত অবস্থান স্পষ্ট থাকে। কত আয় হয়েছে, কত কর প্রযোজ্য এবং কত কর পরিশোধ করা হয়েছে—এসব তথ্য নিয়মিত হিসাবের মধ্যে থাকে।

পঞ্চমত, ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনা সহজ হয়। নিয়মিত আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখার ফলে সম্পদ বৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও দায়ের তথ্য তুলনা করা সহজ হয়।

রিটার্ন জমার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি—

নিজের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দেওয়া আইনত বাধ্যতামূলক কি না, তা যাচাই করুন।
আয়, বিনিয়োগ, সম্পদ ও দায়ের তথ্য যথাযথ নথির সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
উৎসে কর কাটা হয়ে থাকলে তার প্রমাণ সংরক্ষণ করুন।
আগের বছরের রিটার্ন ও কর পরিশোধের তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী প্রস্তুত রাখুন।
সংশ্লিষ্ট করবর্ষের নির্ধারিত সময়সীমা ও অনলাইন জমার নিয়ম যাচাই করুন।
আগে রিটার্ন জমা না দিয়ে থাকলে সম্ভাব্য জরিমানা ও বকেয়া দায় সম্পর্কে কর কর্তৃপক্ষের পরামর্শ নিন।

রিটার্নে ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া থেকেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই অনুমাননির্ভর তথ্য না দিয়ে প্রকৃত নথির ভিত্তিতে রিটার্ন তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের রাজস্বের পাশাপাশি নিজের স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার মাধ্যমে সরকার করদাতার আয় ও কর-সংক্রান্ত তথ্য পায়। এতে কর ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আহরণ এবং করদাতার তথ্য সংরক্ষণে সহায়তা হয়। তবে রিটার্ন জমা দেওয়ার গুরুত্ব শুধু সরকারের রাজস্ব আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

একজন করদাতার নিজের আর্থিক নথি হালনাগাদ রাখা, আয় ও সম্পদের হিসাব স্বচ্ছ রাখা এবং প্রয়োজনের সময় বৈধ আয়ের তথ্য উপস্থাপনের জন্যও রিটার্ন গুরুত্বপূর্ণ। আইন অনুযায়ী রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করলে জরিমানা, অতিরিক্ত কর এবং নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণে জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাই করযোগ্য আয় নেই—এমন ধারণার ভিত্তিতে রিটার্ন জমার বিষয়টি উপেক্ষা না করে নিজের পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য আইন যাচাই করা প্রয়োজন। নিয়মিত হিসাব সংরক্ষণ এবং সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়ার অভ্যাস ভবিষ্যতের আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

মূল কথা হলো, আয়কর দিতে হবে কি না এবং রিটার্ন জমা দিতে হবে কি না—এ দুটি আলাদা বিষয়। নিজের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম প্রযোজ্য, তা জেনে সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!