ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

menu

জাপানের বাজারে রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, বাণিজ্য ঘাটতি ৭০০ মিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ১০:১৭ এএম

জাপানের বাজারে রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ, বাণিজ্য ঘাটতি ৭০০ মিলিয়ন ডলার

ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম বড় ও সম্ভাবনাময় পোশাক বাজার জাপান। প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের এ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য ধরে রেখেছে চীন ও ভিয়েতনাম। দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশও গত কয়েক বছরে জাপানে পোশাক রপ্তানিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। তবে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রতিযোগিতাপূর্ণ এ বাজারে প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। পণ্যের বৈচিত্র্য, গুণগত মান, উৎপাদন সক্ষমতা এবং জাপানের কঠোর মানদণ্ড পূরণের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাকে এ পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

এ পরিস্থিতিতে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্টের (ইপিএ) সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো, রপ্তানির নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রত্যাশাও জোরালো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভর না করে চামড়াজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে পারলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে। একই সঙ্গে জাপানের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উৎপাদন-দক্ষতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে দেশের শিল্প খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য নেই। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরে জাপান থেকে বাংলাদেশ ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

ফলে দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। এ ঘাটতি কমাতে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ বাড়ানো এবং রপ্তানির নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবং বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে রপ্তানি আয় বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে জাপানের মতো উন্নত অর্থনীতির দেশে পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দেশের শিল্প খাতের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পোশাক রপ্তানিতে চীন-ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিযোগিতা

জাপানের পোশাক বাজারে চীন ও ভিয়েতনামের শক্ত অবস্থান বাংলাদেশের জন্য বড় প্রতিযোগিতামূলক চ্যালেঞ্জ। এ দুই দেশ উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশও জাপানের বাজারে রপ্তানি বাড়িয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রধান তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও জাপানের বাজারে সেই সক্ষমতার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি। এ বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরি করতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের নকশা, মান, সময়মতো সরবরাহ এবং পরিবেশ ও শ্রমমান-সংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে।

জাপানের ক্রেতারা সাধারণত পণ্যের মান, নির্ভরযোগ্যতা, উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সরবরাহের ধারাবাহিকতার ওপর গুরুত্ব দেন। তাই বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের এসব ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জাপানি ক্রেতাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপরও মনোযোগ দিতে হবে।

ইপিএর সুবিধা কাজে লাগানোর প্রত্যাশা

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে পণ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার, শুল্কসংক্রান্ত সুবিধা এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে চুক্তির সম্ভাব্য সুবিধা বাস্তবে কাজে লাগাতে হলে উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান এবং বাজারের চাহিদা পূরণের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে ইপিএ বাস্তবায়নে যৌথ কর্মপরিকল্পনা ও সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাংলাদেশের পণ্যের জন্য নতুন বাজার তৈরির বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইপিএর সুবিধা কেবল শুল্ক ছাড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং উৎপাদনব্যবস্থার আধুনিকায়নের সুযোগও যুক্ত হতে পারে। ফলে চুক্তির সুবিধা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সরকারি নীতিসহায়তার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ।

পোশাকের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের সুযোগ

জাপানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে পণ্যের বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হিমায়িত খাদ্য এবং হালকা প্রকৌশল পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এসব পণ্যের ক্ষেত্রে জাপানের নির্ধারিত মান, নিরাপত্তাবিধি, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং সার্টিফিকেশন-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং ধারাবাহিকভাবে মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম বলেন, জাপানের বাজারে হিমায়িত খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হলে দেশটির নির্ধারিত মান বজায় রাখা জরুরি। পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়া ও সার্টিফিকেশন-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করতে পারলেই জাপানের বাজারে প্রবেশ এবং সফলভাবে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রপ্তানিকারকদের পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং বাজারের চাহিদা সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি জাপানি ক্রেতাদের পছন্দ ও ভোক্তাদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নতুন পণ্য বাজারজাত করার উদ্যোগও প্রয়োজন।

জাপানের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি কাজে লাগানোর তাগিদ

বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামো ও শিল্প খাতে জাপানের বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস কে তৌফিক এম হক বলেন, গবেষণার মাধ্যমে জাপানের বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান কাজে লাগানোর সুযোগগুলো চিহ্নিত করতে হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম যোগাযোগ অবকাঠামো এবং তৃতীয় টার্মিনালের মতো প্রকল্পে জাপানের বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশটির প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কতটা কাজে লাগানো যাচ্ছে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পণ্যের মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা তৈরির সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন, বন্দর ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন হলে রপ্তানিকারকদের পণ্য নির্ধারিত সময়ে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো সহজ হবে।

জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, নীতির ধারাবাহিকতা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কার্যকর অবকাঠামো নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চীন থেকে সরে আসা বিনিয়োগ আকর্ষণের সম্ভাবনা

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাপানের বিনিয়োগ আকর্ষণ করে সেই বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে দেশটির বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এতে কার্যকর ব্যবসায়িক মডেল গড়ে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, চীন থেকে জাপানের বিনিয়োগ অন্যত্র সরে আসার যে প্রবণতা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশও সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে পারে।

এ ধরনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য নতুন উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তোলা, স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অনুযায়ী জমি, অবকাঠামো, দক্ষ কর্মী, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জাপানের বাজারে এগোতে যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা জরুরি

জাপানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর পথে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স বজায় রাখা, উৎপাদনব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো এবং বাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ।

এ ছাড়া জাপানি ভাষা, ব্যবসায়িক সংস্কৃতি ও ক্রেতাদের প্রত্যাশা সম্পর্কে ধারণা থাকা রপ্তানিকারকদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে। দেশটির আমদানিকারক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলাও বাজার সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি পর্যায়ে বাণিজ্য আলোচনা ও নীতিগত সহযোগিতার পাশাপাশি ব্যবসায়ী সংগঠন, রপ্তানিকারক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। রপ্তানি সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করা, মান যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ানো এবং জাপানের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এ প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারে।

রপ্তানি বাড়াতে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও তা বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। ইপিএর সম্ভাব্য সুবিধা কাজে লাগানো, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সফর থেকে প্রত্যাশিত সুফল পেতে হলে আলোচনার পাশাপাশি বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা, ব্যবসায়িক সহযোগিতা এবং রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জরুরি।

সব মিলিয়ে, জাপানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর জন্য শুধু একটি চুক্তির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। পণ্যের মান, উৎপাদন সক্ষমতা, সরবরাহব্যবস্থা, বিনিয়োগ এবং বাজারের চাহিদা পূরণে কার্যকর অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারলেই জাপানের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!