দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন টিউমারের সঙ্গে লড়াই করছেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন। লন্ডনে চিকিৎসাধীন এই অভিনেতার শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। বর্তমানে তাকে কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে না; ওষুধের মাধ্যমেই চলছে চিকিৎসা। আগের তুলনায় কথাবার্তার জড়তা কমেছে, পাশাপাশি হাঁটাচলাও স্বাভাবিক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব লিটন এরশাদ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমকে লিটন এরশাদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আল্লাহর ইচ্ছায় ইলিয়াস কাঞ্চন আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। এই অভিনেতার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
কেমোথেরাপি নয়, ওষুধেই চলছে চিকিৎসা
নিসচা মহাসচিব লিটন এরশাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস কাঞ্চনের চিকিৎসায় আগে কেমোথেরাপি নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি তার ইমিউনোথেরাপি দেওয়ার কথাও ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কেমোথেরাপির প্রয়োজন হচ্ছে না। আপাতত ওষুধের মাধ্যমেই তার চিকিৎসা চলছে।
চিকিৎসার পাশাপাশি তার শারীরিক সক্ষমতারও উন্নতি হচ্ছে। কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রে আগের যে জড়তা ছিল, তা ধীরে ধীরে কমছে। হাঁটাচলাও আগের তুলনায় স্বাভাবিক হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার মধ্যে শারীরিক অবস্থার এই উন্নতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
তবে তার চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ, পুরোপুরি সুস্থ হতে কতটা সময় লাগতে পারে কিংবা কবে দেশে ফিরবেন—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
১০ মাস চিকিৎসার পর দেশে ফিরেছিলেন
প্রায় ১০ মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর গত আগস্টে দেশে ফিরেছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। তবে দেশে অবস্থান করেছিলেন মাত্র সাত দিন। এরপর আবার চিকিৎসার জন্য লন্ডনে ফিরে যান তিনি।
দেশে ফেরার পরও তার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আগ্রহ ছিল। লন্ডনে ফিরে কেমোথেরাপি নেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তা প্রয়োজন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন লিটন এরশাদ। এখন ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
ইলিয়াস কাঞ্চনের চিকিৎসা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত চিকিৎসা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার রোগের বর্তমান অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে পাওয়া তথ্য নিসচার মহাসচিবের বক্তব্যের ভিত্তিতেই জানা যাচ্ছে।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে বার্তা দিয়েছেন ইলিয়াস কাঞ্চন
গত ২২ অক্টোবর ছিল জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তিনি লন্ডনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রিয় দেশ থেকে দূরে থাকলেও তার মন পড়ে আছে দেশের মানুষের কাছে এবং দীর্ঘদিনের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে।
অসুস্থতার সময়ে যারা তার খোঁজখবর নিয়েছেন, ভালোবাসা জানিয়েছেন এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করেছেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তার এই বার্তায় স্পষ্ট হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সঙ্গে তার আবেগ ও সম্পৃক্ততা অটুট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে কাজ করে আসছেন এই অভিনেতা।
চলচ্চিত্র থেকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন
ইলিয়াস কাঞ্চন বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতাদের একজন। বিশেষ করে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয়জনকে হারানোর অভিজ্ঞতা থেকে তিনি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে সড়ক নিরাপত্তা, চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।
তার উদ্যোগে নিরাপদ সড়কের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা, দায়িত্বশীল চালনা এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।
সুস্থতার খবরে স্বস্তি ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করা ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক অবস্থার উন্নতির খবর তার ভক্ত, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে কেমোথেরাপি ছাড়াই ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা চলা এবং কথাবার্তা ও হাঁটাচলায় উন্নতির খবরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।
তবে ব্রেন টিউমারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসার ফলাফল ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল।
ইলিয়াস কাঞ্চনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন নিসচার মহাসচিব লিটন এরশাদ। তার চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি নিয়ে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীরাও আশাবাদী।

