বিবাহবিচ্ছেদের পরও অনেক নারীর কাছে অধরা থেকে যাচ্ছে তাঁদের আইনগতভাবে প্রাপ্য দেনমোহর। কাবিননামায় নির্ধারিত অর্থ আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে বছরের পর বছর। কোনো কোনো মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় লাগছে ৬ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত। আবার আদালতের রায় বা ডিক্রি পাওয়ার পরও অনেক ক্ষেত্রে আদায় হচ্ছে না দেনমোহরের অর্থ। ফলে বিবাহবিচ্ছেদের পর নতুন করে জীবন শুরু করার পরিবর্তে দীর্ঘ আইনি লড়াই, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে অনেক নারীকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পারিবারিক আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা, আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার, রায় কার্যকরে জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা দেনমোহর আদায়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আইন সংস্কার, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং আদালতের আদেশ কার্যকর করার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করার দাবি উঠেছে।
সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি রায়ও দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, বিয়ের সময় বকেয়া রাখা দেনমোহর স্ত্রী দাবি করলে তা পরিশোধ করতে হবে। আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও স্বামী অযথা দেনমোহর পরিশোধে কালক্ষেপণ করলে আদালত মূল দেনমোহরের পাশাপাশি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিতে পারবেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন ও আদালতের নির্দেশনা যথেষ্ট নয়; এসবের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও জরুরি।
ছয় বছর ধরে আদালতের বারান্দায় হালিমা ও নাজনীন
সকালের রোদ ঝলমল করলেও হালিমা কিংবা নাজনীনের জীবনে যেন সেই আলোর ছটা নেই। দুই সন্তানকে নিয়ে তাঁদের আদালতকেন্দ্রিক লড়াই চলছে ছয় বছর ধরে। বিয়ের সম্পর্ক শেষ হয়েছে, কিন্তু শেষ হয়নি কাবিননামায় নির্ধারিত দেনমোহরের অর্থ পাওয়ার অপেক্ষা। নিজেদের প্রাপ্য অর্থ আদায় করতে গিয়ে একদিকে তাঁদের বহন করতে হচ্ছে আইনি লড়াইয়ের ব্যয়, অন্যদিকে সামলাতে হচ্ছে সন্তানদের লালন-পালন ও দৈনন্দিন জীবনের চাপ।
সময় সংবাদকে নাজনীন বলেন, ‘ছয় বছর ধরে এটার জন্য ঘুরছি। আমার দেনমোহর দিয়ে দিক, এটাই আমার প্রাপ্য। আমি আর তার কাছে কিছুই চাইতে চাই না। তিনি কিছুই করছেন না, শুধু প্রতি মাসে মামলার তারিখ পিছিয়ে দিচ্ছেন।’
হালিমা বলেন, ‘বাচ্চারা অনেক ছোট। আমি আমার দেনমোহরের টাকা সঠিক সময়ে পেতে চাই। আমি আমার সাবেক স্বামীর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ রাখতে চাই না।’
তাঁদের অভিজ্ঞতা দেখায়, বিবাহবিচ্ছেদের পর দেনমোহর আদায়ের লড়াই কেবল অর্থ পাওয়ার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নারীর আর্থিক নিরাপত্তা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং সাবেক স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের বাইরে স্বাধীনভাবে জীবন পরিচালনার সুযোগ।
আদালতের ডিক্রি পেয়েও অর্থ আদায় হয়নি
দেনমোহর আদায়ের দীর্ঘসূত্রতার আরেকটি উদাহরণ মাহফুজা সুলতানা। নথিতে থাকা এই বাদীর ২০১৯ সালে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে দেনমোহর আদায়ের মামলায় ২০২৩ সালে তাঁর পক্ষে ডিক্রি দেন আদালত। কিন্তু রায় পাওয়ার পরও সমস্যার সমাধান হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশনার পর ওয়ারেন্ট জারি হলেও তাঁর সাবেক স্বামীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। ফলে আদালতের ডিক্রি থাকা সত্ত্বেও আজও দেনমোহরের অর্থ আদায় করতে পারেননি তিনি।
এ ঘটনা বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মামলা নিষ্পত্তি করে রায় দেওয়া এবং সেই রায় বাস্তবে কার্যকর করে ভুক্তভোগীকে তাঁর প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া এক বিষয় নয়। কোনো নারী বছরের পর বছর আইনি লড়াই করে ডিক্রি পেলেও তা কার্যকর করতে না পারলে ন্যায়বিচারের সুফল তাঁর কাছে পৌঁছায় না।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রায় কার্যকরের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও নানা জটিলতা থাকলে দেনমোহর আদায়ের জন্য ভুক্তভোগী নারীদের অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয়। তাই দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি আদালতের আদেশ কার্যকর করার ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
কেন দীর্ঘায়িত হচ্ছে দেনমোহরের মামলা?
আইনজীবীদের মতে, পারিবারিক আদালতে মামলার চাপ, বিচারকাজের বিভিন্ন ধাপ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার কারণে অনেক মামলা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী মাহমুদুল আলম শাহীন বলেন, ‘পারিবারিক আদালত আছে ১৪টি। এসব আদালতে দেওয়ানি মামলাও পরিচালিত হয়। এ কারণে মামলার জটিলতা তৈরি হয়।’
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনের সব বিষয় খতিয়ে দেখে অগ্রসর হতে হয়। এর বাইরে কিছু করা সম্ভব নয়।’
আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, যথাযথ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি বিষয় যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। তবে বিচারপ্রক্রিয়ার এসব ধাপ যেন অযথা দীর্ঘ না হয়, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা ও সময়মতো শুনানি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার বা বারবার সময় নেওয়ার প্রবণতা মামলা দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে আর্থিকভাবে দুর্বল বাদীদের ওপর চাপ বাড়ে এবং দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে আসে।
দেনমোহর পরিশোধে গড়িমসি করলে ক্ষতিপূরণের সুযোগ
দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার ও দীর্ঘসূত্রতা বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ আদালত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত হাসানের মতে, দেনমোহরের বিষয়টি স্বীকৃত এবং তা নিয়ে বিরোধ না থাকলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘মামলাগুলোর ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। দেনমোহরের বিষয়টি যেহেতু স্বীকৃত থাকে এবং তা নিয়ে বিরোধ না থাকে, সে ক্ষেত্রে আপিল আদালত ওই অংশের ওপর স্থগিতাদেশ না দিলে কার্যকরের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা সম্ভব।’
আইনজীবীদের মতে, দেনমোহরের দাবি ও পরিমাণ নিয়ে বিরোধ না থাকলে সেই অংশের নিষ্পত্তি বা আদায় অযথা বিলম্বিত না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এতে ভুক্তভোগী নারী অন্তত তাঁর স্বীকৃত প্রাপ্য অর্থ দ্রুত পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে কোনো মামলায় অর্থ আদায় বা রায় কার্যকরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশ, আপিলের অবস্থা এবং প্রযোজ্য আইনি বিধান বিবেচনা করা জরুরি।
হাইকোর্টের রায়: দাবি করলেই বকেয়া দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে
বিয়ের সময় বকেয়া রাখা দেনমোহর স্ত্রী দাবি করলে তা পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আবদুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। পরে ৬ অক্টোবর ৩২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত পর্যবেক্ষণ দেন, আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বামী যদি দেনমোহর পরিশোধে অযথা গড়িমসি বা কালক্ষেপণ করেন এবং স্ত্রীকে তাঁর প্রাপ্য অর্থ আদায়ের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালত মূল দেনমোহরের পাশাপাশি স্ত্রীকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন।
আদালতের এ পর্যবেক্ষণ দেনমোহর আদায়ে দীর্ঘসূত্রতার শিকার নারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেনমোহর স্ত্রীর স্বীকৃত অধিকার। তা পরিশোধে অযৌক্তিক বিলম্বের কারণে কোনো নারীকে বছরের পর বছর মামলা চালাতে হলে সেই ভোগান্তির বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় আসতে পারে।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট আরও স্পষ্ট করেন, দেওয়ানি চুক্তি বা আইনের সুস্পষ্ট ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো অবস্থাতেই দেনমোহরের কোনো অংশ কমানো, হ্রাস করা কিংবা মওকুফ করার আইনি এখতিয়ার কোনো আদালতের নেই।
আইনজীবীদের মতে, এ রায়ের তাৎপর্য হলো, দেনমোহরকে কেবল পারিবারিক সমঝোতার বিষয় হিসেবে না দেখে আইনগতভাবে স্বীকৃত পাওনা হিসেবে বিবেচনা করা এবং তা আদায়ে অযৌক্তিক বিলম্বের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা।
পারিবারিক আদালতে ৭৪ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন
দেশে পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত মামলার জটও দেনমোহর আদায়ে দীর্ঘসূত্রতার একটি বড় প্রেক্ষাপট। সম্প্রতি সংসদে দেওয়া এক পরিসংখ্যানে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের পারিবারিক আদালতগুলোতে ৭৪ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বিচারাধীন মামলার এই সংখ্যা পারিবারিক আদালতের ওপর চাপের বিষয়টি সামনে আনে। এসব মামলার মধ্যে দেনমোহর ছাড়াও পারিবারিক সম্পর্ক ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ফলে আদালতের সীমিত সক্ষমতার মধ্যে দ্রুত শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং রায় দেওয়ার কাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তবে মামলার জট থাকলেও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে দেনমোহরের পরিমাণ ও পাওনা নিয়ে বিরোধ না থাকলে সংশ্লিষ্ট মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আদেশ কার্যকরের ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন আইনজীবীরা।
আইন আছে, বাস্তবায়নে ঘাটতি: মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ
দেনমোহর আদায়ের সমস্যা সমাধানে শুধু নতুন আইন প্রণয়ন বা বিদ্যমান আইনের সংস্কার যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাঁদের মতে, আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জবাবদিহি এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘অনেক জেন্ডার-সংবেদনশীল আইন হয়েছে। কিন্তু আইনগুলো বাস্তবায়নের জন্য যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো দরকার, তা আমরা গড়ে তুলতে পারিনি। এ জায়গায় আমাদের নজর দেওয়া প্রয়োজন।’
তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগের মিল রয়েছে। কারণ, আইনে অধিকার স্বীকৃত থাকলেও বাস্তবে তা পেতে দীর্ঘ সময় লাগলে ভুক্তভোগীদের কাছে সেই অধিকার কার্যকর হয়ে ওঠে না। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল নারীদের জন্য দীর্ঘ মামলা পরিচালনা করা কঠিন। মামলা চালানোর খরচ, যাতায়াত, সময়ের অপচয় এবং সন্তানদের দায়িত্ব সামলানোর চাপ তাঁদের আরও সংকটে ফেলে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনি সহায়তা সহজলভ্য করা, পারিবারিক আদালতের সক্ষমতা বাড়ানো, শুনানির সময়সূচি কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং রায় বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দেনমোহর নির্ধারণ ও পরিশোধেও সচেতনতা জরুরি
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেনমোহর আদায়ের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিচারব্যবস্থার সংস্কার ও কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিয়ের সময় থেকেই সচেতনতা বাড়ানো দরকার। দেনমোহর নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনা করা এবং নির্ধারিত অর্থ কীভাবে ও কখন পরিশোধ করা হবে, তা স্পষ্ট রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
দেনমোহর নির্ধারণের সময় এককালীন পরিশোধের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে—যদি তা সংশ্লিষ্ট পক্ষের সম্মতিতে আইনসম্মতভাবে নির্ধারিত হয়। তবে সামর্থ্য অনুযায়ী দেনমোহর নির্ধারণের অর্থ এই নয় যে, স্ত্রীর আইনগতভাবে স্বীকৃত পাওনা ইচ্ছামতো কমিয়ে দেওয়া বা পরিশোধ না করার সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেনমোহরকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে না দেখে স্ত্রীর অধিকার ও স্বামীর আইনগত দায় হিসেবে বিবেচনা করার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেনমোহর পরিশোধে অযৌক্তিক বিলম্ব হলে দ্রুত আইনি প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে।
দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকর করাই বড় চ্যালেঞ্জ
বিবাহবিচ্ছেদের পর দেনমোহর আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা নারীর আর্থিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে ছয় বছর ধরে আদালতে ঘুরেও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়া নারীর অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে ডিক্রি পাওয়ার পরও অর্থ আদায় করতে না পারার ঘটনা—দুটিই দেখায়, সমস্যা শুধু মামলা নিষ্পত্তিতে সীমাবদ্ধ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পারিবারিক আদালতের সক্ষমতা বাড়ানো, মামলার অযথা বিলম্ব কমানো, আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আদালতের রায় দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি দেনমোহর পরিশোধে গড়িমসি বা অযৌক্তিক কালক্ষেপণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
সব মিলিয়ে, দেনমোহর আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি অধিকারকে বাস্তব প্রাপ্তিতে রূপ দেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আইন ও আদালতের নির্দেশনা তখনই কার্যকর হবে, যখন বিবাহবিচ্ছেদের পর কোনো নারীকে নিজের স্বীকৃত পাওনা আদায়ের জন্য বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় অপেক্ষা করতে হবে না।

