ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

menu

কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৬, ০১:৩১ পিএম

কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান

ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টা ৩ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহের এই অগ্রগতি কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের প্রস্তুতি কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি পরিবহনের পুরো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা থেকে পাবনার ঈশ্বরদী পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। জ্বালানিবাহী গাড়িবহরের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে পুরো যাত্রাপথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়।

ভোরে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ভোর ৪টা ৫৬ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি ঈশ্বরদীর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সাত মিনিটের যাত্রা শেষে সকাল ১০টা ৩ মিনিটে বহরটি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি পরিবহনের মতো সংবেদনশীল কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করে।

এর আগে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে ইউরেনিয়ামের চালান নিয়ে একটি বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা চালানটি গ্রহণ করেন। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় জ্বালানিটি ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্পে নেওয়া হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান ইউরেনিয়ামের চালান পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জ্বালানিবাহী গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।

দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাত চালানে আসবে জ্বালানি

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং বা পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আনা হবে আরও দুটি চালান। সব মিলিয়ে দুই ইউনিটের জন্য মোট নয়টি চালানে জ্বালানি সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বরের মধ্যে সব চালান দেশে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে। তবে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি, নিরাপত্তা যাচাই, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের শর্ত পূরণও গুরুত্বপূর্ণ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে জ্বালানি পরিবহন, সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং চুল্লিতে ব্যবহারের প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করতে হয়। তাই জ্বালানির চালান পৌঁছানোর পরও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতি প্রয়োজন।

ডিসেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের আশা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যেতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনা নির্ভর করছে কেন্দ্রের কারিগরি প্রস্তুতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন হওয়ার ওপর। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা পরবর্তী অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বৈচিত্র্য আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

দেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত এই কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশে পারমাণবিক প্রযুক্তিনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির প্রতিটি ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন করা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান পৌঁছানোয় জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে পরিকল্পিত সব চালান দেশে পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরবর্তী ধাপে অগ্রগতি আসতে পারে।

তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর চূড়ান্ত সময় নির্ভর করবে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি, নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর। এখন জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নির্ধারিত নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করাই সংশ্লিষ্টদের প্রধান লক্ষ্য।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!