ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

menu

১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর চালু, নিয়ন্ত্রণে আসবে অবৈধ ফোন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১০:২৬ এএম

১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর চালু, নিয়ন্ত্রণে আসবে অবৈধ ফোন

ছবিঃ সংগৃহীত

অবৈধ ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং দেশে হ্যান্ডসেটের বৈধতা নিশ্চিত করতে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর যাচাই করে অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা এবং সেগুলোর ব্যবহার ও কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে এনইআইআর চালুর প্রথম ধাপেই ক্লোন করা সব মোবাইল ফোন বন্ধ করা সম্ভব হবে না। বিশেষ করে একই আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে একাধিক হ্যান্ডসেট সচল রাখার মতো জটিলতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও সময় প্রয়োজন হবে। এ সমস্যা সমাধানে দ্বিতীয় ধাপে ফোনের নিবন্ধন বাতিল বা ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্প্রতি বিটিআরসির কমিশন সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, উদ্যোগটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে চুরি হওয়া ও অবৈধভাবে আমদানি করা মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই এবং মোবাইল ফোনকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

কীভাবে কাজ করবে এনইআইআর

এনইআইআর হলো মোবাইল হ্যান্ডসেটের পরিচিতি শনাক্ত ও ব্যবস্থাপনার একটি কেন্দ্রীয় নিবন্ধনব্যবস্থা। প্রতিটি মোবাইল ফোনের একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি নম্বর থাকে, যাকে বলা হয় ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই)। মোবাইল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার সময় এই নম্বরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা সম্ভব।

এনইআইআর ব্যবস্থার আওতায় হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর ও নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে ফোনটির বৈধতা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফলে অনুমোদনহীনভাবে আমদানি করা বা নির্ধারিত নিয়মের বাইরে থাকা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে সেগুলোর নেটওয়ার্ক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

বর্তমানে বাজারে বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোনের বৈধতা যাচাই এবং অবৈধ হ্যান্ডসেটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে অননুমোদিত পথে আমদানি করা ফোন, চুরি হওয়া হ্যান্ডসেট এবং আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন বা ক্লোন করার মাধ্যমে ব্যবহৃত ফোন শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।

এনইআইআর চালুর মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে কোনো ফোনের আইএমইআই নম্বর শনাক্ত করাই তার প্রকৃত মালিকানা বা বৈধতার সব তথ্য নিশ্চিত করে না। এ কারণে নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন এবং তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম ধাপে কী কী সুবিধা চালু হবে

বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এনইআইআরের প্রথম ধাপে ব্যবস্থাটির মূল সুবিধাগুলো চালু করা হবে। এ পর্যায়ে অবৈধ হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা এবং সেগুলোর ব্যবহার ও কেনাবেচা নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তবে একই আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে একাধিক মোবাইল ফোন চালানোর মতো সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান প্রথম ধাপে সম্ভব হবে না। ক্লোন করা হ্যান্ডসেটের ক্ষেত্রে একই পরিচিতি নম্বর একাধিক ফোনে ব্যবহার করা হলে সেগুলো আলাদাভাবে শনাক্ত করা জটিল হয়ে উঠতে পারে।

বিটিআরসির কমিশন সভার কার্যবিবরণীতেও বলা হয়েছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত ক্লোন হ্যান্ডসেটগুলো প্রথম ধাপে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে না। দ্বিতীয় ধাপে প্রয়োজনীয় সুবিধা যুক্ত করার মাধ্যমে এ সমস্যার কার্যকর সমাধানের আশা করা হচ্ছে।

অর্থাৎ, এনইআইআর চালু হলেই সব অবৈধ ও ক্লোন ফোন একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। বরং ধাপে ধাপে নিবন্ধনব্যবস্থা কার্যকর করা এবং শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া উন্নত করার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে চালু হতে পারে ডি-রেজিস্ট্রেশন

এনইআইআর ব্যবস্থার দ্বিতীয় ধাপে মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিল বা ডি-রেজিস্ট্রেশন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ সুবিধার মাধ্যমে একটি হ্যান্ডসেটের নিবন্ধিত মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিবন্ধন বাতিলের প্রক্রিয়া সহজ করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মোবাইল ফোন কেনাবেচা, উপহার দেওয়া কিংবা অন্য কোনোভাবে মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডসেটের তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও নিবন্ধনব্যবস্থা ভূমিকা রাখতে পারে।

দ্বিতীয় ধাপে এ ধরনের সুবিধা যুক্ত হলে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন ও মালিকানার তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ক্লোন করা ফোন শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে দ্বিতীয় ধাপ কবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

আগে থেকেই সচল ফোনগুলো নিবন্ধনের আওতায়

বিটিআরসি জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআরে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে আগে থেকেই ব্যবহৃত ফোনগুলোর ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা চালুর পর নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আমদানিকারকদের কাছে থাকা অবিক্রীত মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে বাজারে বিক্রির অপেক্ষায় থাকা হ্যান্ডসেটগুলোর তথ্যও নিবন্ধনব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে।

এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নতুন ব্যবস্থা চালুর আগে বিদ্যমান হ্যান্ডসেট, আমদানিকারক এবং বাজারে থাকা অবিক্রীত ফোনের তথ্য যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা। নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি থাকলে বৈধ ফোন শনাক্তকরণ এবং অবৈধ হ্যান্ডসেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তাই এনইআইআর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে প্রচার

এনইআইআর চালুর আগে গ্রাহক ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পরিকল্পনা করেছে বিটিআরসি। এ জন্য নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার আগে অন্তত দুই মাস প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ প্রচারের মাধ্যমে গ্রাহকদের হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই, কেনার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত নিয়ম সম্পর্কে জানানো হবে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন বিক্রেতা, আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নতুন ব্যবস্থার আওতায় কী ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হবে, সে বিষয়েও সচেতন করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে অননুমোদিত উৎস থেকে মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। কোনো ফোনের বৈধতা নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে সেটি মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে পারে। এ কারণে ক্রেতাদের নির্ভরযোগ্য বিক্রয়কেন্দ্র থেকে ফোন কেনা এবং ক্রয়রসিদ সংরক্ষণ করার বিষয়ে সচেতন করা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বৈধভাবে কেনা কোনো ফোনের নিবন্ধন বা আইএমইআই-সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিলে গ্রাহক কীভাবে অভিযোগ জানাবেন এবং কী প্রক্রিয়ায় সমাধান পাবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকাও জরুরি।

অবৈধ ফোনের বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব

বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের বাজারে বৈধ আমদানির পাশাপাশি অননুমোদিত পথে হ্যান্ডসেট প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে। এসব ফোনের ক্ষেত্রে আমদানি, শুল্ক পরিশোধ ও অনুমোদনসংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

এনইআইআর ব্যবস্থা কার্যকর হলে অবৈধভাবে আমদানি করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈধ আমদানিকারক ও নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

এ ছাড়া চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের পরিচিতি নম্বর শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলোর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে চুরি করা ফোন পুনরায় বিক্রির প্রবণতা নিরুৎসাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এসব সুফল পেতে হলে নিবন্ধনব্যবস্থার পাশাপাশি আইন প্রয়োগ, অভিযোগ গ্রহণ, তথ্য যাচাই এবং গ্রাহকসেবা কার্যকর রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভুল শনাক্তকরণের কারণে বৈধ ফোন যেন অযথা নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

আগের উদ্যোগের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে বাস্তবায়ন

হ্যান্ডসেট শনাক্তকরণ ও অবৈধ ফোন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ বাংলাদেশে নতুন নয়। এর আগে ২০২১ সালে পরীক্ষামূলকভাবে এনইআইআর চালু করা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন কারণে সে সময় উদ্যোগটি প্রত্যাশিতভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এবার তৃতীয়বারের উদ্যোগে ব্যবস্থাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিটিআরসি।

আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ধাপে ধাপে ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা, তথ্যভান্ডার প্রস্তুত করা, গ্রাহকদের সচেতন করা এবং প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করার মাধ্যমে নতুন উদ্যোগকে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এনইআইআর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, মোবাইল ফোন আমদানিকারক, বিক্রেতা এবং গ্রাহকদের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। কোনো পক্ষের তথ্যগত বা প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকলে পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে।

তাড়াহুড়া নয়, কার্যকর সমাধানে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, অবৈধ মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ করতে চায় সরকার। তবে এ বিষয়ে তাড়াহুড়া করা হবে না। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর সমাধান বের করা হবে, যাতে আগের মতো উদ্যোগটি ব্যর্থ না হয়।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), সরকার ও গ্রাহক—সবার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এনইআইআর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের এ অবস্থান থেকে স্পষ্ট, শুধু প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালু করাই নয়, বরং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এনইআইআর কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাস্তবায়নের সাফল্য নির্ভর করবে কার্যকর ব্যবস্থাপনায়

আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর চালুর উদ্যোগ অবৈধ মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে হ্যান্ডসেটের তথ্যভান্ডারের নির্ভুলতা, আইএমইআই নম্বর যাচাইয়ের কার্যকারিতা, ক্লোন ফোন শনাক্তকরণ, নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং গ্রাহকসেবার মানের ওপর।

বিশেষ করে বৈধভাবে কেনা ফোন যেন ভুলবশত অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত না হয়, চুরি হওয়া ফোনের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং মালিকানা পরিবর্তনের তথ্য হালনাগাদ করা সম্ভব হয়—এসব বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি।

পাশাপাশি নতুন ব্যবস্থা চালুর ফলে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাতে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে জন্য নিয়মকানুন, যাচাইপ্রক্রিয়া এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির পদ্ধতি স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।

সব মিলিয়ে, এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে দেশে অবৈধ ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রথম ধাপে সব ধরনের ক্লোন ফোন বন্ধ করা সম্ভব না হওয়ায় দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ই শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ধারণ করবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!