রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে টানা ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এ দেশের নাগরিক এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে সবার সমান অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, তিনি মুসলমান এবং বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় পরিচয়ও মুসলমান। তবে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও নাগরিক অধিকার বেশি বা কম হতে পারে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমি একজন মুসলমান। আমাকে রাজনৈতিক কারণে বাধ্য হয়ে ১৭ বছর বিদেশে থাকতে হয়েছিল। মুসলমান হিসেবে বাংলাদেশে আমি হয়তো সংখ্যাগুরু। কিন্তু এই দেশের ওপর আপনার যে অধিকার আছে, এই দেশের ওপর আমারও সেই অধিকার আছে। এই রাষ্ট্র আপনাকে যা দেবে, এই রাষ্ট্র আমাকেও তাই দেবে।’
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের পরিচয় ও অধিকারই হবে মুখ্য। ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্যের শিকার না হন, সে জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
মুক্তিযুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয় নয়, লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জীবন বাজি রেখে যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। সেই মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। অনেকে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষের ধর্মীয় পরিচয় কোনো বিবেচ্য বিষয় ছিল না।
তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিষ্টান। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন এবং একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল তাৎপর্য হচ্ছে এমন একটি দেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রত্যেক মানুষ স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারবেন এবং নাগরিক হিসেবে নিজের অধিকার ভোগ করবেন। সেই ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস। তাই স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
গণতন্ত্রের আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় আসেনি
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে দেশে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা এবং মানুষের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন। ছাত্র-জনতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে নেমে এসেছেন।
এসব আন্দোলনে মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষ একে অপরের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। বরং সবার লক্ষ্য ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে মানুষ যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে জনগণের মতামতের মূল্য থাকবে, মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবেন এবং প্রত্যেকে নিজের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও ঐক্যবদ্ধ ছিলেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই বছরের আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। শিক্ষার্থী, তরুণ, যুবক, নারী, শিশু ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও অধিকার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা ছিল অভিন্ন।
তারেক রহমান বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছেন। এ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মানুষের পরিচয় ছিল তারা বাংলাদেশের নাগরিক এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছিলেন।
তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় স্বৈরাচার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গুলি চালিয়েছে। এতে অনেকে শহীদ হয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়ার সময় চিকিৎসকেরা কারও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করেননি। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ নাকি খ্রিষ্টান—তা জানতে চেয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। বরং আহত মানুষকে বাঁচানো এবং তাঁর চিকিৎসা নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, মানুষের জীবন, অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে এই মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সবার’
বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয়কে সবার অভিন্ন পরিচয় হিসেবে তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয়। মানুষ যে ধর্মের অনুসারীই হোন না কেন, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে তিনি এ দেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের অংশ।
তিনি বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সবার।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের এই দেশের ওপর সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে সবার জন্য সমান সুযোগ, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আলাদা করে দেখা বা কোনো নাগরিকের অধিকার সীমিত করার সুযোগ থাকা উচিত নয়।
তারেক রহমানের বক্তব্যে নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তিনি মনে করেন, দেশের সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা গেলে একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
শহীদদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগের লক্ষ্য ছিল এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন এবং সবাই মিলেমিশে থাকতে পারবেন।
তিনি বলেন, এসব সংগ্রামে মানুষ জীবন দিয়েছেন একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বৈষম্যহীন দেশের প্রত্যাশায়। তাই শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে এমন সমাজ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, দল ও মতের ভিন্নতা মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে না।
তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন না, আমরা সবাই মিলে সেই বাংলাদেশটি, প্রত্যাশিত বাংলাদেশটি গড়ে তুলি, যেই বাংলাদেশের জন্য দল, মত, ধর্ম, বর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন সময়ে অকাতরে আমরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে পারস্পরিক বিভেদ ও বিদ্বেষ পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা ধর্মীয় ভিন্নতা যেন জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী
প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রত্যেক নাগরিকের সহযোগিতা চান। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান—সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি শুধু সরকারের একার প্রচেষ্টায় সম্ভব হয় না। এ জন্য প্রয়োজন জনগণের অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক ঐক্য। দেশের সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিভাজনের পরিবর্তে নাগরিকদের অভিন্ন স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিবেশ তৈরি করাও রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বক্তব্যের শেষে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি শান্তিপূর্ণ, সম্প্রীতিময় ও বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তোলার কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য ও বিএনপির নেতারা
চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সরকারের একাধিক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিএনপির নেতা এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীসহ সরকারের প্রতিমন্ত্রীরা অংশ নেন। এ ছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে ও দুপুরে রংপুর ও রাজশাহীতে শারদীয় দুর্গাপূজার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি, নাগরিক অধিকার ও জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে মূলত একটি বার্তাই উঠে এসেছে—বাংলাদেশের পরিচয় কোনো একক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ, সমান নাগরিক অধিকার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতেই একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

