ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

menu

পদ্মা ব্যারাজ থেকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তারেক রহমানের কাছে রাজশাহীবাসীর নানা প্রত্যাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৬, ১০:১১ এএম

পদ্মা ব্যারাজ থেকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তারেক রহমানের কাছে রাজশাহীবাসীর নানা প্রত্যাশা

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে আসছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তেমনি নতুন করে সামনে এসেছে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশা। পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও রপ্তানি, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে চান স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

রাজশাহীকে কৃষি, শিক্ষা ও শিল্পের সমন্বিত অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে উৎপাদিত আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন এবং তরুণদের জন্য স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার দাবি রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও।

তাই রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতা ও জনসভায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগের সূচনা করবে।

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত রাজশাহী

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে রাজশাহী নগরীতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কাজ চালানো হয়েছে। ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভার মঞ্চ নির্মাণ, মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, সৌন্দর্যবর্ধন এবং আশপাশের সড়ক সংস্কারের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, জনসভার জন্য ৫৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩৫ ফুট প্রস্থের মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় শতাধিক মাইক এবং চারটি এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে, যাতে জনসভায় উপস্থিত মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে ও দেখতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। তবে দলীয় আয়োজনের বাইরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে রয়েছে নানা প্রত্যাশা। বিশেষ করে বেকারত্ব কমানো, শিল্পকারখানা স্থাপন, শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং নগরীর নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কী বলেন, তা জানতে আগ্রহী তাঁরা।

কর্মসংস্থান রাজশাহীবাসীর প্রধান প্রত্যাশা

রাজশাহীর উন্নয়ন আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো কর্মসংস্থান। শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বাড়লেও তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

স্থানীয় শিক্ষক লুৎফর রহমানের প্রত্যাশা, রাজশাহীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেবে। তাঁর মতে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি।

বেসরকারি চাকরিজীবী জুবায়ের আহমেদ মনে করেন, বেকারত্ব কমানোর পাশাপাশি বেসরকারি খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্যও যৌক্তিক বেতনকাঠামো ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

গৃহবধূ আসমাউল হুসনার ভাষ্য, রাজশাহী শিক্ষানগরী হিসেবে পরিচিত হলেও ভালো চাকরির সুযোগ তুলনামূলক সীমিত। এ কারণে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও অনেক তরুণকে নিজেদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজ পেতে সমস্যায় পড়তে হয়। তাঁর প্রত্যাশা, রাজশাহীতে বড় শিল্পকারখানা ও নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়বে।

ব্যবসায়ী আব্দুল আলিমও মনে করেন, রাজশাহী বিভাগের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য শিল্পায়ন জরুরি। বিশেষ করে নারীদের জন্য নিজ এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে তাঁদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের দাবি

রাজশাহী ও আশপাশের জেলা কৃষি উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির সুযোগ বাড়ানো না গেলে কৃষকেরা অনেক সময় তাঁদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা, আধুনিক সংরক্ষণাগার, হিমাগার এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের দাবি রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো, বাজার সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তরুণদের প্রত্যাশার মধ্যে রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) গড়ে তোলা। তাঁদের মতে, কৃষি গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, শিল্পায়ন ও রপ্তানি কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে রাজশাহীর অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড গড়ে উঠলে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে জমি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্যাস, যোগাযোগব্যবস্থা, বিনিয়োগ এবং বাজারসংযোগ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ ঘিরে প্রত্যাশা

রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়ন আলোচনায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পদ্মা নদীর পানিসম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনা, কৃষিতে সেচের সুবিধা বৃদ্ধি এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পানিসংকট মোকাবিলার প্রত্যাশার সঙ্গে প্রকল্পটি জড়িত।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরতে চান। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে প্রকল্পটির বাস্তব সুফল নির্ভর করবে এর কারিগরি পরিকল্পনা, পরিবেশগত প্রভাব, অর্থায়ন, নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পানিব্যবস্থাপনার ওপর। তাই প্রকল্পের অনুমোদন বা ঘোষণার পাশাপাশি বাস্তবায়নের সময়সীমা ও অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা

রাজশাহী অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিমান যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনব্যবস্থা উন্নয়নের দাবিও রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কার্গো বিমান চালু এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।

তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির সুযোগ বাড়তে পারে। বিশেষ করে দ্রুত পচনশীল কৃষিপণ্য পরিবহনে উন্নত কার্গো সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কার্গো কার্যক্রম সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, নিয়মিত ফ্লাইট, পণ্য সংরক্ষণ, শুল্ক ও রপ্তানি প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

রাজশাহীর হারানো চিনি ও রেশমশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও উন্নয়ন আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নতুন বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর পরিচালনার মাধ্যমে এসব খাত পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যাশা রয়েছে।

চিকিৎসা ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন

রাজশাহীর স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার দাবিও প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং শিশু হাসপাতাল চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী ও আশপাশের জেলার মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।

এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে বিরতিহীন ট্রেন চালু এবং কলকাতার সঙ্গে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে যাত্রী চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, অর্থায়ন এবং আন্তদেশীয় সমন্বয়ের ওপর।

নগর উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা

রাজশাহী নগরীর অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।

তিনি জানান, নগরীর বিমান চত্বর থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের সড়ক নির্মাণ, বিভিন্ন সড়ক প্রশস্তকরণ, ৩০টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ ও ফুটসাল গ্রাউন্ড উন্নয়ন এবং সিনিয়র সিটিজেন পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরীর যোগাযোগব্যবস্থা, খেলাধুলার সুযোগ এবং প্রবীণদের বিনোদন ও অবসর কাটানোর পরিবেশ উন্নত হতে পারে।

তবে নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ গণপরিবহন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। রাজশাহীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও নাগরিক চাহিদা বিবেচনায় এসব খাতে সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে।

বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর প্রত্যাশা

রাজশাহী জেলার বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ জানিয়েছেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে কারখানাগুলো পুরোপুরি চালু করার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা গেলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা, আর্থিক দায়, যন্ত্রপাতির সক্ষমতা, কাঁচামাল সরবরাহ, বাজার চাহিদা এবং বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করতে হবে।

কারখানা চালুর ঘোষণা বাস্তবে রূপ দিতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেসব দাবি তুলে ধরতে চান নেতারা

রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আলোচনায় যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন;
পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা;
কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল ও ইপিজেড গড়ে তোলা;
বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা;
কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি সুবিধা বাড়ানো;
রাজশাহী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা ও কার্গো সুবিধা চালু;
রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা;
শিশু হাসপাতাল চালু ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন;
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কলকাতার সঙ্গে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ;
শিক্ষার্থীদের আবাসনসংকট নিরসন এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা;
নগরীর সড়ক, খেলার মাঠ ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা

প্রধানমন্ত্রীর সফর ও জনসভা ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় তিন স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, সাদাপোশাকে পুলিশ, স্ট্যাটিক ফোর্স ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের পথেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

জনসভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে।

প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তবায়নেই নজর রাজশাহীবাসীর

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের দাবিগুলোর বাস্তবায়নই হবে এ সফরের তাৎপর্য নির্ধারণের অন্যতম বিষয়।

পদ্মা ব্যারাজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, কৃষিপণ্য রপ্তানি, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন—প্রতিটি বিষয়ই এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনবেন এবং বাস্তবায়নযোগ্য দাবিগুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া গেলে উন্নয়ন কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সব মিলিয়ে, রাজশাহীর মানুষের কাছে এই সফর শুধু একটি রাজনৈতিক জনসভা নয়; বরং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর নতুন সুযোগ। এখন দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে কোন দাবিগুলো গুরুত্ব পায় এবং সেগুলো বাস্তবায়নে কী ধরনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!