ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

menu

বিজয়া দশমী আজ: প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে বিসর্জন হোক অন্যায় ও অশুভ শক্তির নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২১, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

বিজয়া দশমী আজ: প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে বিসর্জন হোক অন্যায় ও অশুভ শক্তির  নিজস্ব প্রতিবেদক

ছবিঃ সংগৃহীত

পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুরের পরাজয় কেবল দেবতা ও অসুরের মধ্যকার যুদ্ধের কাহিনি নয়; বরং এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তি এবং অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর চিরন্তন বিজয়ের প্রতীক। সেই বিশ্বাস, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক চেতনার মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন আজ বিজয়া দশমী। পাঁচ দিনের পূজা, প্রার্থনা, আরতি, ঢাকের বাদ্য আর উৎসবের আনন্দ শেষে আজ দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা, তবে রেখে যাবে নতুন প্রত্যয়, সম্প্রীতি ও শুভশক্তির বিজয়ের প্রত্যাশা।

আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠীতে সন্তানসন্ততিসহ মর্ত্যে আগমনের পর দশমীতে দেবী দুর্গার কৈলাসে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে শারদীয় দুর্গাপূজার। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস ও প্রচলিত আচার অনুযায়ী, বিজয়া দশমী দেবীর বিদায়ের দিন হলেও এটি একই সঙ্গে বিজয়, কল্যাণ ও নতুন আশার বার্তা বহন করে। প্রতিমা বিসর্জনের সময় ভক্তদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘আসছে বছর আবার হবে’—যেখানে মিশে থাকে বিদায়ের বেদনা, আবার ফিরে পাওয়ার আনন্দ এবং আগামী দিনের প্রত্যাশা।

তবে বিজয়া দশমীর তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান কিংবা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অন্যায়, হিংসা, বিদ্বেষ, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর যে শিক্ষা দেবী দুর্গার মহিষাসুরবধের কাহিনিতে প্রতিফলিত হয়েছে, তা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাই উৎসবের সমাপ্তিতে বড় প্রশ্ন হয়ে ওঠে—আমরা কি শুধু প্রতিমার সামনে অশুভ শক্তির পরাজয় উদ্‌যাপন করছি, নাকি নিজেদের জীবন থেকেও অন্যায় ও অসংগতিকে দূর করার অঙ্গীকার করছি?

মহিষাসুরবধের শিক্ষা: অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের বিজয়

হিন্দু পুরাণে মহিষাসুরকে অত্যাচার, অহংকার ও অশুভ শক্তির প্রতীক হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। দেবতাদের সম্মিলিত শক্তির প্রকাশ হিসেবে দেবী দুর্গার আবির্ভাব এবং মহিষাসুরের বিরুদ্ধে তাঁর বিজয় শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার প্রতীক হয়ে উঠেছে। যুগে যুগে এই কাহিনি মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং ন্যায় ও সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

কিন্তু বাস্তব সমাজে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নারী নির্যাতন, ধর্মীয় বিদ্বেষ, সামাজিক বৈষম্য ও দুর্বল মানুষের অধিকার হরণের মতো নানা সমস্যা এখনো বিদ্যমান। কোথাও মানুষ ন্যায়বিচার পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা করেন, কোথাও অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতার প্রভাবে বঞ্চিত হন অসহায় মানুষ। আবার কোথাও ধর্মীয় বা সামাজিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে হয় নাগরিকদের।

এমন বাস্তবতায় বিজয়া দশমীর শিক্ষা নতুন করে ভাবার অবকাশ তৈরি করে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সত্যের পক্ষে অবস্থান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন—এসবের মধ্য দিয়েই শুভশক্তির বিজয়ের আদর্শ বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হতে পারে।

অশুভ শক্তিকে পরাজিত করার প্রতীকী কাহিনি তাই কেবল পৌরাণিক সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিনের জীবনে অসততা পরিহার করা, অন্যের অধিকারকে সম্মান করা এবং অন্যায় দেখলে নীরব না থাকার মধ্য দিয়েও এই শিক্ষাকে ধারণ করা সম্ভব।

দেবীবন্দনা ও নারীর মর্যাদা: কথার সঙ্গে কাজের মিল জরুরি

দুর্গাপূজার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নারীশক্তির আরাধনা। দেবী দুর্গাকে শক্তি, সাহস, সুরক্ষা ও কল্যাণের প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। দশভুজা দেবীর প্রতিটি অস্ত্র যেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এবং শুভশক্তির প্রতিষ্ঠার বার্তা বহন করে।

কিন্তু দেবীকে শক্তির প্রতীক হিসেবে পূজা করার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব হচ্ছে, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, পারিবারিক সহিংসতা, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ সীমিত রাখার মতো সমস্যা সমাজে এখনো উদ্বেগের কারণ।

নারীকে সম্মান করা কেবল আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। পরিবারে তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা এবং নির্যাতনের শিকার নারীর ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সহজ করা জরুরি।

দেবী দুর্গার আরাধনার প্রকৃত সামাজিক তাৎপর্য তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন নারীরা ভয় ও বৈষম্যহীন পরিবেশে নিজেদের অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারবেন। নারীশক্তির বন্দনা এবং নারীর প্রতি বাস্তব আচরণের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা করাই হতে পারে বিজয়া দশমীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।

ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধন হোক উৎসবের স্থায়ী শিক্ষা

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বহু মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি বৃহত্তর সামাজিক আয়োজন। পূজামণ্ডপের আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মানুষের পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় এবং উৎসবের আনন্দে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার সুযোগ তৈরি করে।

তবে ধর্মীয় সম্প্রীতি কেবল উৎসবের কয়েকটি দিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর প্রকৃত অর্থ হলো—প্রতিটি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করা।

কোনো ব্যক্তি যেন ধর্মীয় পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা ভিন্নমতের কারণে বৈষম্য, হয়রানি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। একই সঙ্গে গুজব, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে দূরে থাকা এবং ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করাও জরুরি।

বিজয়া দশমী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠা ছাড়া শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ তখনই সর্বজনীন হয়ে ওঠে, যখন তার শিক্ষা মানুষের দৈনন্দিন আচরণে প্রতিফলিত হয়।

সামাজিক বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার

অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে বিজয়ের বার্তা সামাজিক বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সঙ্গেও সম্পর্কিত। সমাজে অর্থনৈতিক অবস্থান, পেশা, লিঙ্গ, ধর্ম কিংবা সামাজিক পরিচয়ের কারণে মানুষের মধ্যে যে বিভাজন তৈরি হয়, তা দূর করতে প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ।

দরিদ্র মানুষের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা একটি মানবিক সমাজ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

একইভাবে, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ সবার জন্য নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যায়কারীর পরিচয় বা অবস্থান যা-ই হোক, আইন ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সমান নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

উৎসবের আনন্দ তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন সমাজের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের জীবনেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিজয়া দশমীর শিক্ষা তাই শুধু ব্যক্তিগত শুভকামনায় সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও মানবিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

প্রতিমা বিসর্জন ও পরিবেশ সুরক্ষার দায়িত্ব

বিজয়া দশমীর অন্যতম প্রধান আনুষ্ঠানিকতা প্রতিমা বিসর্জন। পূজা শেষে ভক্তরা শোভাযাত্রার মাধ্যমে প্রতিমা নিয়ে নদী, পুকুর কিংবা নির্ধারিত বিসর্জনস্থলে যান। বিদায়ের এই মুহূর্তে আনন্দ ও বিষাদের পাশাপাশি থাকে আগামী বছর আবার দেবীর আগমনের প্রত্যাশা।

তবে প্রতিমা বিসর্জনের সময় পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। নদী ও জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রং, সাজসজ্জার উপকরণ এবং অন্যান্য বর্জ্য যেন পানিদূষণ ও জলজ পরিবেশের ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।

এ জন্য পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার, নির্ধারিত স্থানে বিসর্জন, বর্জ্য সংগ্রহ এবং বিসর্জন-পরবর্তী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। আয়োজক, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে ধর্মীয় আচার পালন এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব।

প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণও মানবিক মূল্যবোধের অংশ। তাই দেবীকে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি নদী, জলাশয় ও প্রকৃতিকে পরিচ্ছন্ন রাখার অঙ্গীকারও বিজয়া দশমীর শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

বিদায়ের বেদনায় মিশে থাকে নতুন আগমনের প্রত্যাশা

বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় ভক্তদের চোখে যেমন বিদায়ের অশ্রু দেখা যায়, তেমনি উচ্চারিত হয় আগামী বছরের প্রত্যাশা। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর এই আয়োজন শারদীয় দুর্গোৎসবের আবেগঘন সমাপ্তি তৈরি করে।

প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাসে দেবী দুর্গার কৈলাসে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে মর্ত্যে তাঁর পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু দেবীর সঙ্গে যুক্ত শক্তি, সাহস, কল্যাণ ও ন্যায়ের আদর্শ মানুষের জীবন থেকে বিদায় নেওয়ার নয়। বরং এই আদর্শকে ধারণ করেই নতুন দিনের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় তৈরি হয়।

বিজয়ার শুভেচ্ছা তাই কেবল ব্যক্তিগত সুখ-সমৃদ্ধি কামনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি পরিবারে শান্তি, সমাজে সম্প্রীতি, মানুষের মধ্যে ভালোবাসা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী অবস্থান নেওয়ারও আহ্বান।

বিজয়ার প্রকৃত সার্থকতা মানুষের কল্যাণে

দেবী দুর্গার মর্ত্য থেকে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু সমাজ থেকে অন্যায়, হিংসা, বৈষম্য ও বিদ্বেষ দূর করার সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না। এ সংগ্রাম প্রতিদিনের, প্রতিটি মানুষের এবং পুরো সমাজের।

প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গে যদি মানুষের মন থেকে বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা ও সংকীর্ণতা দূর করার অঙ্গীকার তৈরি হয়, তবে বিজয়া দশমীর তাৎপর্য আরও গভীর হয়ে উঠবে। নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং পরিবেশ সুরক্ষার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই উৎসবের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত হতে পারে।

বিজয়া দশমী আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শুভশক্তির বিজয় শুধু একটি পৌরাণিক ঘটনার স্মরণ নয়; এটি ন্যায়, সত্য ও মানবিকতার পক্ষে প্রতিদিন নতুন করে দাঁড়ানোর প্রেরণা।

প্রতিমা বিসর্জন হোক বিদায়ের আবেগময় আয়োজন, কিন্তু বিসর্জন যেন না হয় মানবিকতা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতির। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, নারীর মর্যাদা রক্ষা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ই হোক বিজয়া দশমীর সবচেয়ে বড় শিক্ষা। সবাইকে জানাই শুভ বিজয়া দশমীর আন্তরিক শুভেচ্ছা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!