ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

‘অনৈতিক সম্পর্ক’ ঠেকাতে ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

‘অনৈতিক সম্পর্ক’ ঠেকাতে ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর দাবি

ছবিঃ সংগৃহীত

মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর এবং ছেলেদের ১৮ বছর করার দাবিসহ আট দফা দাবিতে পঞ্চগড়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রাররা। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এ স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এর আগে একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার সমিতি পঞ্চগড়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রাররা অংশ নেন।

বিয়ের বয়স পুনর্নির্ধারণের দাবি

মানববন্ধনে নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার নেতারা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং নারীর ১৮ বছর নির্ধারিত রয়েছে। তাদের দাবি, দেশের সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিয়ের বয়স পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

তাদের ভাষ্য, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছেলেদের ১৮ বছর এবং মেয়েদের ১৬ বছর বয়সে বিয়ের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশেও বাস্তবতা বিবেচনায় একই ধরনের বয়স নির্ধারণ করা হলে সামাজিক কিছু সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে তারা মনে করেন।

নিকাহ রেজিস্ট্রারদের দাবি, বিয়ের নির্ধারিত বয়স বেশি হওয়ায় অনেক তরুণ-তরুণী অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এতে পারিবারিক ও সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। একই সঙ্গে তাদের বক্তব্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাল্যবিয়ের প্রবণতাও কমছে না।

তবে বিয়ের বয়স কমানোর দাবিটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিশু সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে মত রয়েছে।

নিকাহ রেজিস্ট্রারদের আরও সাত দাবি

বিয়ের বয়স পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রাররা আরও সাতটি দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—

১. নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অধিক্ষেত্র বহাল রাখা;
২. নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৭৫ বছর করা;
৩. বাবার অবর্তমানে তার ছেলেকে নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগের সুযোগ দেওয়া;
৪. নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের হয়রানি বন্ধ করা;
৫. ডিও লেটার প্রথা বন্ধ করা;
৬. বিবাহ রেজিস্ট্রারদের ফি বৃদ্ধি করা;
৭. বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে নোটারি পাবলিকের হলফনামা প্রথা বন্ধ করা।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

আয়োজকরা জানান, দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিষয়গুলো বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

তাদের মতে, নিকাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সহজ করতে বিদ্যমান ব্যবস্থার কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের দায়িত্ব, অধিক্ষেত্র, অবসর বয়স ও ফি কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানও জরুরি।

যারা উপস্থিত ছিলেন

কর্মসূচিতে মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার সমিতি পঞ্চগড়ের সভাপতি এ আর এম শহীদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি আরাফাত ইদ্রিস ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বোদা উপজেলা শাখার সভাপতি মাশরুল আলম রাজু, আটোয়ারী উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল মোতালেব, দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শামসুল আলম এবং তেঁতুলিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি আজমত আলীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিকাহ রেজিস্ট্রাররা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

মানববন্ধন শেষে নেতারা তাদের আট দফা দাবি দ্রুত বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!