ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬

menu

হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম

হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব

ছবিঃ সংগৃহীত

সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এ অর্থ ফেরত পাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এ তথ্য জানান। হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে সৌদি সরকারের কাছ থেকে অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

ধর্মমন্ত্রী জানান, ফেরত পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোকে দেওয়া হবে। এর ফলে হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়সংক্রান্ত আর্থিক বিষয় নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলো অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত পাওয়ার এ ঘটনা উল্লেখযোগ্য সাফল্য। আগের হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ ফেরত পাওয়ার নজির ছিল না বলেও জানান তিনি।

৩৪০ হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে অর্থ ফেরত

২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্সের আওতাবহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয়ের প্রসঙ্গ সামনে এনে সৌদি আরবের কাছে আটকে থাকা অর্থ ফেরত চাওয়া হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

হজের সময় অসুস্থতা বা জরুরি স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে অনেক হজযাত্রীর চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা ব্যয়, বিমার আওতা এবং সংশ্লিষ্ট অর্থের হিসাব নিষ্পত্তি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। হজযাত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়সংক্রান্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার ঘটনা এ ধরনের আর্থিক হিসাব ও দাবি নিষ্পত্তির গুরুত্বও তুলে ধরে।

হজ এজেন্সিগুলোকে দেওয়া হবে ফেরত পাওয়া অর্থ

ধর্মমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরব থেকে ফেরত পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলোকে দেওয়া হবে। তবে কোন এজেন্সি কত টাকা পাবে, কী প্রক্রিয়ায় অর্থ বণ্টন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের সঙ্গে এর আর্থিক হিসাব কীভাবে সমন্বয় করা হবে—এসব বিষয়ে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

হজযাত্রীদের ব্যয়সংক্রান্ত অর্থের স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আর্থিক দায়দায়িত্ব স্পষ্ট রাখা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে হজ ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা ব্যয়, বিমার আওতা এবং অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার বিষয়টিও গুরুত্ব পেতে পারে।

বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে গুরুত্ব

সৌদি আরব থেকে ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ রিয়াল ফেরত পাওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের জন্য আর্থিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ধর্মমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগ হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে।

ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, আগের হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ ফেরত পাওয়ার নজির ছিল না। ফলে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের চিকিৎসা ব্যয়সংক্রান্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি হজ ব্যবস্থাপনায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়সংক্রান্ত বিষয়ে সৌদি আরব থেকে প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা ফেরত পাওয়া গেছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের হিসাব নিষ্পত্তি করা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!