ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

menu

বায়োমেট্রিক না দিলে বাতিল হবে অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

বায়োমেট্রিক না দিলে বাতিল হবে অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন

ছবিঃ সংগৃহীত

অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ না দিলে সংশ্লিষ্ট আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে অনলাইনে আবেদন করেও নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য না দেওয়া আবেদনকারীদের আবেদন আর সক্রিয় থাকবে না। আবেদন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং দীর্ঘদিন ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা আবেদনগুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। ইসি সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিস্টেম ম্যানেজারকে নির্দেশনা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ।

নির্ধারিত সময়ে বায়োমেট্রিক না দিলেই আবেদন বাতিল

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটার নিবন্ধনের জন্য অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য দিতে হবে। কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক দিতে না এলে নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর আবেদনটি সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

এ জন্য ভোটার নিবন্ধন ব্যবস্থার সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে আবেদন সক্রিয় রাখা বা বাতিল করার প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

তবে নির্ধারিত সময়সীমা কত দিন হবে, কোন তারিখ থেকে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হবে এবং আবেদন বাতিল হওয়ার পর পুনরায় আবেদন করার সুযোগ কীভাবে দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

অসম্পূর্ণ আবেদন নিষ্পত্তিতে গুরুত্ব

ভোটার নিবন্ধনের অনলাইন ব্যবস্থা চালু থাকায় আবেদনকারীরা ঘরে বসেই প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা না হলে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় না। ফলে কিছু আবেদন অসম্পূর্ণ অবস্থায় থেকে যেতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বায়োমেট্রিক সম্পন্ন না করা আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্পত্তির আওতায় আসবে। এতে আবেদন ব্যবস্থাপনা সহজ করা এবং অসম্পূর্ণ আবেদন শনাক্ত করার প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে আবেদন বাতিলের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য ও নির্দেশনা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ে বায়োমেট্রিক দিতে পারবেন না, তাঁদের জন্য পুনরায় আবেদন বা প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে কমিশনের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রয়োজন।

ভোটার নিবন্ধন ফরম ও অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিষ্পত্তির নির্দেশ

এদিকে মাঠপর্যায়ের নির্বাচন অফিসগুলোতে সংরক্ষিত ভোটার নিবন্ধন ফরম এবং গুদামে থাকা অপ্রয়োজনীয় ও নিষ্পত্তিযোগ্য দ্রব্যাদি সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্তও নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে মাঠপর্যায়ের নির্বাচন অফিসগুলোতে সংরক্ষিত স্ক্যান ও আপলোড করা ভোটার নিবন্ধন ফরম-২ এবং গুদামে থাকা অপ্রয়োজনীয় ও নিষ্পত্তিযোগ্য দ্রব্যাদি আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

তবে ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংরক্ষিত ফরম-২ আগের নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অফিসে সংরক্ষণ করতে হবে। অর্থাৎ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরোনো ফরম ও অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিষ্পত্তি করা হলেও ওই সময়সীমা পর্যন্ত সংরক্ষিত ফরম-২ সংরক্ষণের নির্দেশনা বহাল থাকবে।

কাগজপত্র নিষ্পত্তিতে মানতে হবে নির্দিষ্ট নিয়ম

নির্বাচন কমিশন আরও নির্দেশনা দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সেগুলো মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, কাগজপত্র নিষ্পত্তির সময় নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে এবং সেগুলো যেন যথাযথ প্রক্রিয়ায় পুনর্ব্যবহারের উপযোগী করা যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত নথি ও অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নির্ধারিত নিয়মে নিষ্পত্তি করা হলে সংরক্ষণাগারের জায়গা ব্যবস্থাপনা সহজ হতে পারে। পাশাপাশি পুরোনো নথি ব্যবস্থাপনা ও দাপ্তরিক কার্যক্রমেও শৃঙ্খলা আনার সুযোগ তৈরি হবে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ

অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের ব্যবস্থা এবং পুরোনো ফরম ও অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিষ্পত্তির নির্দেশনা—দুটিই নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অসম্পূর্ণ আবেদন ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে অপর সিদ্ধান্তে মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোর নথি ও সংরক্ষণব্যবস্থা গুছিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার তারিখ, বায়োমেট্রিক দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং আবেদন বাতিলের পর পুনরায় নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের বিস্তারিত নির্দেশনা জানা গেলে আবেদনকারীদের জন্য বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!