ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬

menu

‘যেখানে আপনাদের আটকাবে, সেই জায়গাকে যন্তরমন্তরে পরিণত করুন’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

‘যেখানে আপনাদের আটকাবে, সেই জায়গাকে যন্তরমন্তরে পরিণত করুন’

ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ করার কর্মসূচি নিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। তবে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি, কড়া নিরাপত্তা ও ব্যারিকেডের কারণে বিক্ষোভকারীরা নির্ধারিত স্থানে জড়ো হতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নেতা অজিঙ্কা সিন্ধে।
তিনি বলেছেন, “যেখানে আপনাদের আটকাবে, সেই জায়গাকে যন্তরমন্তরে পরিণত করুন।” তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলে পৌঁছাতে বাধা দেওয়া হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার পরিমাণ, এর কারণ এবং নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
যন্তরমন্তরে কঠোর নিরাপত্তা, বিক্ষোভকারীদের প্রবেশে বাধার অভিযোগ
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তরমন্তর এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সদস্যদের সারিবদ্ধ অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি আকাশে ড্রোন উড়তে এবং বিভিন্ন স্থানে ভারী লোহার ব্যারিকেড বসানো থাকতে দেখা গেছে বলে বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এসব ব্যবস্থার কারণে তাঁরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি। পরিস্থিতির কারণে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিক্ষোভস্থলে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া কয়েকজন সাংবাদিককে আটক করার অভিযোগও উঠেছে। বিবিসির সাংবাদিক গীতা পান্ডের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিউজলন্ড্রি ও স্ক্রলসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের পুলিশ আটক করেছে।
তবে সাংবাদিকদের আটকের কারণ, তাঁদের কতক্ষণ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।
প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারী আটকের দাবি
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় এক হাজার বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দ্বীপসহ দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতাও রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আটকের এই সংখ্যা এবং আটক ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, আটক ব্যক্তিদের তালিকা কিংবা নির্ভরযোগ্য একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ছাড়া সংখ্যাটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়।
বিক্ষোভকারীদের আটক ও নির্ধারিত স্থানে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে তা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ কী কারণে এমন নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে, তা জানা জরুরি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ কেন চাইছেন আন্দোলনকারীরা?
আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে কয়েক কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সীমিত করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
ককরোচ জনতা পার্টির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সরকারের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য দেখাচ্ছেন। তাঁদের ভাষ্য, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে সব রাজনৈতিক দল ও ভোটার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখতে পারেন।
তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার তালিকা, নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যা, সংশোধনপ্রক্রিয়া এবং বাদ পড়া ভোটারদের তথ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন। শুধু রাজনৈতিক অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
আগের আন্দোলনের পর আবারও পদত্যাগের দাবি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগে যন্তরমন্তরে দীর্ঘ আন্দোলন করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। ওই আন্দোলনের মাধ্যমে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নিশ্চিত হয়েছিল বলে দলটির আন্দোলনসংক্রান্ত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনে নেমেছে দলটি। তাদের লক্ষ্য, ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এবং নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
তবে সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের সঙ্গে দলটির আন্দোলনের সম্পর্ক এবং ঘটনার সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট প্রকাশের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
ধ্রুব রাঠীকে গ্রেপ্তারের দাবি, যাচাই প্রয়োজন
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জার্মানি থেকে আন্দোলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ধ্রুব রাঠীর গ্রেপ্তারের দাবি, তাঁর অবস্থান এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের আগে তাঁর নিজের বক্তব্য, প্রতিনিধির প্রতিক্রিয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি যাচাই করা প্রয়োজন।
আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে?
যন্তরমন্তরে প্রবেশে বাধা পাওয়ার পর আন্দোলনকারীদের বিকল্প স্থানে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নেতা অজিঙ্কা সিন্ধে। তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করতে না পারলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
এখন আন্দোলনকারীরা কোথায় এবং কীভাবে কর্মসূচি পালন করবেন, আটক নেতাকর্মীদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত আসবে এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী প্রতিক্রিয়া জানাবে—সেদিকেই নজর থাকবে।
ভোটার তালিকা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অধিকার—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও আলোচনায় আসতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে পুলিশ, নির্বাচন কমিশন, আন্দোলনকারী দল এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

 

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!