ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

menu

এই সেই ছেলে, যার লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল মায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

এই সেই ছেলে, যার লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল মায়ের

ছবিঃ সংগৃহীত

সিলেটের জকিগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলের লাঠির আঘাতে পিয়ারা বেগম (৬৩) নামে এক মায়ের মৃত্যু হয়েছে। জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়া ও টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধের একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছেলে সুমন আহমদের (৩২) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পরিবারের আরও চার সদস্য। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

রোববার (২৬ অক্টোবর) রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পিয়ারা বেগমের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ সুমন আহমদকে আটক করেছে। এ ঘটনায় হামলার শিকার পরিবারের সদস্য শাহীন আহমদ বাদী হয়ে সুমন আহমদ ও অপর ভাই শামীম আহমদকে (৪৭) আসামি করে মামলা করেছেন।

নিহত পিয়ারা বেগম জকিগঞ্জ পৌর এলাকার পঙ্গবট গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের স্ত্রী।

সম্পত্তি ও টাকা নিয়ে বিরোধ

পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়া এবং টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে সুমন আহমদের সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরোধ চলছিল। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সুমন সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। পাশাপাশি তিনি তাঁদের কাছে টাকা দাবি করছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৎমা কুটিনা বেগমের (৪৫) ওপর লাঠি দিয়ে হামলা করেন সুমন। এতে তাঁর চোখে আঘাত লাগে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

এরপরও পারিবারিক বিরোধের অবসান হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

রাতের হামলায় আহত পাঁচজন

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত প্রায় ১১টার দিকে আবারও টাকা দাবি করেন সুমন আহমদ। একই সঙ্গে বাড়ির জায়গা-সম্পত্তি তাঁর নামে লিখে দেওয়ার কথা বলেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি লাঠি দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় পিয়ারা বেগম, তাঁর সৎমা কুটিনা বেগম, শাহীন আহমদ (৩৮), শাহীন আহমদের স্ত্রী শাহানা বেগম (৩২) এবং তাঁদের আড়াই বছর বয়সী মেয়ে ইসরাত জাহান গুরুতর আহত হয়।

হামলার পর স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে পিয়ারা বেগম মারা যান। পরিবারের অন্য আহত সদস্যদের চিকিৎসা চলছিল বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

নেশার টাকার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ

মামলার বাদী শাহীন আহমদ অভিযোগ করেন, জায়গা-সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়া এবং নেশার টাকার জন্য সুমন কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের চাপ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে তাঁর দাবি।

শাহীন আহমদ আরও বলেন, হামলায় তাঁর স্ত্রী শাহানা বেগম ও মেয়ে ইসরাত জাহান গুরুতর আহত হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া সৎমা কুটিনা বেগমের চোখের আঘাতও গুরুতর।

তবে নেশার টাকা দাবি ও হামলার পেছনের কারণ সম্পর্কে এসব বক্তব্য মামলার বাদী ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা, কারাগারে সুমন

এ ঘটনায় হামলার শিকার শাহীন আহমদ বাদী হয়ে সুমন আহমদ ও তাঁর অপর ভাই শামীম আহমদকে আসামি করে মামলা করেছেন।

জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পিয়ারা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে সুমন আহমদকে তাঁর বসতঘর থেকে আটক করা হয়।

ওসি আরও জানান, রোববার সুমন আহমদকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পারিবারিক বিরোধের পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ

জায়গা-সম্পত্তি ও অর্থ নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের আহত হওয়া এবং শেষ পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের নারী সদস্য ও শিশুরাও হামলার শিকার হওয়ায় ঘটনাটি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে হামলার প্রকৃত কারণ, প্রত্যেক আসামির ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!