ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

menu

ফুটপাত দখল করে দোকান বসলেই মামলা, মালামাল জব্দের হুঁশিয়ারি

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম

ফুটপাত দখল করে দোকান বসলেই মামলা, মালামাল জব্দের হুঁশিয়ারি

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান বসালে এখন থেকে সরাসরি মামলা দায়ের এবং দোকানের মালামাল জব্দ করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে সড়ক ও ফুটপাত দখলের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। বিশেষ করে নিউমার্কেট এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আগামী সপ্তাহে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে বিশেষ মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

অবৈধ হকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে ডিএসসিসি

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীর যানজট, যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টির পেছনে অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। এসব কারণে নগরবাসীকে প্রতিদিন নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঢাকাবাসী এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চায়। তাই মানবিকতার দোহাই দিয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর সুযোগ নেই। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত নিয়মের বাইরে দোকান বসালে মালামাল জব্দের পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএসসিসি প্রশাসকের এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে সংস্থাটির কঠোর অবস্থানের কথা উঠে এসেছে। সড়ক ও ফুটপাত পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী রাখা এবং যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা কমানোই এ ধরনের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

নিউমার্কেটে আগামী সপ্তাহে আবারও উচ্ছেদ অভিযান

রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রশাসক জানান, আগামী সপ্তাহে সেখানে পুনরায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো অবস্থাতেই সড়কের ওপর হকার বসতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

নিউমার্কেট এলাকায় সড়ক ও ফুটপাতের ওপর দোকান বসানো হলে পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়। পাশাপাশি যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি ও যানজটের আশঙ্কা বাড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ডিএসসিসি।

তবে উচ্ছেদ কার্যক্রমের পাশাপাশি দখলমুক্ত জায়গা যাতে পুনরায় অবৈধভাবে দখল না হয়, সে বিষয়েও নিয়মিত তদারকি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নগরীর পরিবেশ রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে বাড়ি, ভবন, সড়ক, নালা-নর্দমা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। যেসব স্থানে পানি জমে মশার বংশবিস্তার হতে পারে, সেসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মসূচির ওপর নির্ভর না করে বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র ও নির্মাণাধীন ভবনের জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি মশক নিধন অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানান প্রশাসক।

বায়ুদূষণ ও যানজট নিরসনেও চলবে প্রচার

রাজধানীর পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি সচেতনতামূলক র‍্যালি ও প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত থাকবে বলে জানান মো. আবদুস সালাম।

নগরীর বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, যত্রতত্র ময়লা না ছড়ানো এবং সড়ক ও ফুটপাত দখল না করার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করা এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

মালিবাগে এসটিএস সরিয়ে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা

পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে মালিবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ের সামনে থেকে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।

তিনি জানান, জনস্বার্থে সিআইডি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে ওই এসটিএসটি স্থানান্তর করা হয়েছে। সেখানে এখন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সচল রাখতে নতুন একটি এসটিএস নির্মাণের কাজ চলছে, যা চলতি মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

এসটিএস হলো এমন একটি নির্ধারিত স্থান, যেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য সাময়িকভাবে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে পরিবহন করা হয়। ফলে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে উপযুক্ত স্থানে এসটিএস স্থাপন গুরুত্বপূর্ণ।

সিআইডি কার্যালয় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতা অভিযান

‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি সিআইডি কার্যালয় থেকে শুরু হয়। পরে শান্তিনগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন হয়ে ফকিরাপুলে গিয়ে শেষ হয়।

অভিযান চলাকালে ডিএসসিসি প্রশাসক বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার এবং অবৈধ দোকান অপসারণের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নগরীর সড়ক ও ফুটপাতের অবস্থা সম্পর্কেও খোঁজ নেন তিনি।

দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে সিটি করপোরেশনের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাইকিং ও সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়োজন করা হয়।

পরিচ্ছন্ন ও দখলমুক্ত রাজধানী গড়ার লক্ষ্য

রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশক নিধন কার্যক্রম এবং অবৈধ দোকানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে নগরবাসীর দুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে নিয়মিত তদারকি, আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা এবং নাগরিকদের সহযোগিতার ওপর। বিশেষ করে উচ্ছেদের পর সড়ক ও ফুটপাত পুনরায় দখল হওয়া ঠেকানো এবং বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

ডিএসসিসি প্রশাসকের হুঁশিয়ারি অনুযায়ী, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসালে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে রাজধানীতে পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!