ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

menu

পরকীয়ার সন্দেহে নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ, চুল কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম

পরকীয়ার সন্দেহে নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ, চুল কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়া

ছবিঃ সংগৃহীত

ঝিনাইদহে পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে ৪০ বছর বয়সী এক নারীকে মারধর, মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেছেন। তবে শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

সম্প্রতি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করাতিপাড়া গ্রামের প্রামাণিক পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারীর সঙ্গে একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে একপর্যায়ে ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন।

পরকীয়ার সন্দেহ থেকে বিরোধ

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, করাতিপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করছিলেন কয়েকজন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে প্রথমে পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ ওই নারীর বাড়িতে যান। সেখানে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাঁকে শাসিয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর কিছুক্ষণ পর আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে ওই নারীর বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাঁরা ওই নারীর ওপর চড়াও হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি মাথার চুল কেটে দেওয়া হয় এবং শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতন করা হয়।

তবে ঘটনার প্রতিটি পর্যায়ের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে পুলিশি তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

চিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা

ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, নির্যাতনের সময় ওই নারীর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছে তাঁর চিকিৎসা করানো হয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর ছেলে অভিযোগ করেন, মায়ের চিৎকার শুনে ঘর থেকে বের হয়ে তিনি কয়েকজনকে তাঁর মাকে মাটিতে ফেলে শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগাতে দেখেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর ওই রাতেই ভুক্তভোগী নারী ঝিনাইদহ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা, এখনো গ্রেপ্তার নেই

ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। আসামিদের মধ্যে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে রয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় আরও একজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

তিনি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

তবে শনিবার পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলার তদন্তের অগ্রগতি, অভিযুক্তদের অবস্থান এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

ঘটনার বিষয়ে আব্দুর রশিদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আনোয়ার হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

ফলে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে পুলিশি অনুসন্ধান ও প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

নারী নির্যাতনের অভিযোগে তদন্তের অপেক্ষা

পরকীয়া সম্পর্কের সন্দেহকে কেন্দ্র করে কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা বা নির্যাতনের অভিযোগ গুরুতর। তবে এ ঘটনায় কে বা কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ঘটনার অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এখন ভুক্তভোগী পরিবারের প্রত্যাশা, পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!