ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

menu

জয়পুরহাটে তরুণীর সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৫

জয়পুরহাট প্রতিনিধি:

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১১:৪২ এএম

জয়পুরহাটে তরুণীর সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৫

ছবিঃ সংগৃহীত

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক কিশোরীর সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার পুনট ইউনিয়নের মালিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই নারীসহ উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর এক পক্ষের বিরুদ্ধে বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। তবে অপর পক্ষের দাবি, সালিস চলাকালে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

আহতদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের মধ্যে চারজনকে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত চিচোরন চন্দ্র মালীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মালিপাড়া গ্রামের ১৫ বছর বয়সী পল্লবীকে একই এলাকার ১৮ বছর বয়সী দোলন শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিন সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি পল্লবী তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে ঘটনাটি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামের মালিপাড়া এলাকায় সালিসের আয়োজন করা হয়। সেখানে দুই পক্ষের লোকজন উপস্থিত হন। সালিস চলাকালে কথাবার্তার একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

এ ঘটনায় এক পক্ষের তিনজন এবং অপর পক্ষের দুজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত যুবক দোলনের দাবি, তিনি পল্লবীর সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চেয়েছিলেন, তবে সিঁদুর দেননি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পল্লবীর পরিবারের সদস্যরা অন্য লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের পক্ষের কয়েকজনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দোলন বলেন, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের একজনের পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এ ছাড়া বাড়িঘর থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান দোলন।

তবে দোলনের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাড়িঘর ভাঙচুর, হামলা ও মালামাল লুটের অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকেও তদন্তের কোনো ফলাফল জানানো হয়নি।

সালিসে হামলার অভিযোগ অপর পক্ষের

অন্যদিকে, পল্লবীর বাবা শক্রু ঘন মালী বলেন, দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসার জন্য সালিসের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে আলোচনা শুরু হওয়ার একপর্যায়ে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে প্রতিপক্ষ তাঁদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শক্রু ঘন মালী বলেন, এ ঘটনায় তাঁদের পক্ষের তিনজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। আহত ব্যক্তি কিছুটা সুস্থ হলে থানায় মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে দুই পক্ষের অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল পাওয়া যায়নি। ফলে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, কে প্রথম হামলা চালিয়েছে এবং বাড়িঘর ভাঙচুর বা মালামাল লুটের অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ।

যা বলছেন ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি

পুনট ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম বলেন, বিজয়া দশমীর দিন মালিপাড়া গ্রামের পল্লবী নামের এক কিশোরীর সিঁথিতে সিঁদুর দিতে চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিয়ে সালিস বসে।

তিনি জানান, সালিসে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হন। সংঘর্ষের পর তাঁরা ঘটনাটি জানতে পারেন।

অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আলম বলেন, মালিপাড়া গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর তাঁরা পেয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে ঘিরে এমন বিরোধের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ সংঘর্ষে রূপ নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে। দুই পক্ষের অভিযোগ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!