ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

menu

বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাচ্ছে ঢাকাই মসলিন, আগ্রহী দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১০:৩১ এএম

বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাচ্ছে ঢাকাই মসলিন, আগ্রহী দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রায় ২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন আবারও বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথে এগোচ্ছে। ফুটি কার্পাস তুলা শনাক্তকরণ, হাতে অতি সূক্ষ্ম সুতা কাটা এবং ঐতিহ্যবাহী তাঁতে মসলিন বোনার প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের পর এবার তা বেসরকারি খাতে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের।

পুনরুদ্ধার করা মসলিন দেখে দেশি-বিদেশি ক্রেতা ও উদ্যোক্তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের পাশাপাশি দেশের শৌখিন ক্রেতাদের মধ্যেও এই ঐতিহ্যবাহী কাপড় নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতি চেয়ে ১৫ জন উদ্যোক্তা আবেদন করেছেন। উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

একসময় ঢাকাই মসলিন ছিল বাংলার ঐতিহ্য, আভিজাত্য ও বস্ত্রশিল্পের অন্যতম প্রতীক। এর সূক্ষ্ম বুনন, হালকা গঠন ও মিহি সুতার কারণে দেশ-বিদেশের রাজপরিবার, অভিজাত শ্রেণি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক কদর ছিল। দীর্ঘদিন হারিয়ে থাকার পর গবেষণা ও প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই কাপড় তৈরির সক্ষমতা ফিরে পাওয়াকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা

ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পরিচালক মো. আইয়ুব আলী বলেন, পাঠ্যবইয়ে পড়া বাঙালির ঐতিহ্য এখন নিজেরা তৈরি করতে পারছেন। শুধু কাপড় তৈরি নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিও পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের উদ্যোক্তা ও ক্রেতারা মসলিনের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ফ্রান্সে মুঘল ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করেন, এমন কয়েকজনও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ গজ মসলিন নেওয়ার অনুরোধ এসেছে।

প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, দেশে বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমতি চেয়ে ১৫ জন উদ্যোক্তা আবেদন করেছেন। উপযুক্ত উদ্যোক্তাদের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উৎপাদনের প্রযুক্তি হস্তান্তরের নিয়ম ও পদ্ধতিও নথিভুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনরুদ্ধার করা প্রযুক্তি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হলে মসলিন উৎপাদন ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। তবে উৎপাদন শুরুর সময়সীমা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, তুলার জোগান, কারিগর তৈরি এবং উদ্যোক্তাদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।

এখনই বিক্রি হচ্ছে না প্রকল্পের মসলিন

মসলিনের নমুনা দেখে দেশীয় শৌখিন ও সচ্ছল ক্রেতাদের পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতারাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে এসব নমুনা প্রদর্শন করা হয়েছে। তবে প্রকল্পের আওতায় তৈরি কাপড় এখনই বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা নেই।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থা গড়ে উঠলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ঢাকাই মসলিন বাজারে ছাড়া হবে। অর্থাৎ গবেষণা ও নমুনা তৈরির পর্যায় পেরিয়ে এখন উৎপাদনকে বাণিজ্যিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২৭টি শাড়ি, ২০টি স্কার্ফ এবং রুমালসহ ১১ ধরনের নমুনা কাপড় তৈরি করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে তৈরি করা হয় আরও ৩১টি শাড়ি ও ১৪টি স্কার্ফ। এসব নমুনা বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে।

মসলিনের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু কাপড় তৈরি করলেই হবে না; একই সঙ্গে এর মান বজায় রাখা, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বাজারজাতকরণ এবং ক্রেতাদের কাছে পণ্যের ঐতিহ্য ও বিশেষত্ব তুলে ধরাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

কীভাবে পুনরুদ্ধার হলো ঢাকাই মসলিন

ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধারের উদ্যোগে ঐতিহাসিক নথি, গবেষণাপত্র, পুরোনো বস্ত্রের নমুনা এবং জাদুঘরে সংরক্ষিত উপকরণ বিশ্লেষণ করা হয়। দীর্ঘ গবেষণার মাধ্যমে ঐতিহাসিক মসলিনে ব্যবহৃত তুলার জাত, সুতা তৈরির পদ্ধতি এবং কাপড় বোনার কৌশল সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হয়।

প্রকল্পের মুখ্য গবেষক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মঞ্জুর হোসেন জানান, জেমস টেলরের এ স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা, অধ্যাপক আবদুল করিমের ঢাকাই মসলিন এবং সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল লিনিয়াসের স্পিসিস প্ল্যান্টারাম বই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ঐতিহাসিক মসলিনের নমুনা পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামের সহায়তাও নেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তুলার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণার অংশ হিসেবে সংগ্রহ করা ৩৯টি তুলার নমুনার মধ্যে ছয়টি জাত শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষায় গাজীপুরের কাপাসিয়া এলাকার তুলার সঙ্গে ঐতিহাসিক মসলিনে ব্যবহৃত ফুটি কার্পাস তুলার ডিএনএর প্রায় ৯৬ শতাংশ মিল পাওয়া যায় বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ঐতিহাসিক নথি ও জেমস টেলরের বিবরণ পর্যালোচনা করে কাপাসিয়ায় ফুটি কার্পাস তুলা পাওয়ার সম্ভাবনা চিহ্নিত করা হয়েছিল। কাপাসিয়ার পাশাপাশি তিতাবাদি নামের একটি স্থান নিয়েও অনুসন্ধান চালানো হয়। এসব গবেষণার ভিত্তিতে তুলা চাষ, হাতে সুতা কাটা এবং ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

সাধারণ মসলিনের চেয়ে ঢাকাই মসলিন আলাদা কেন

ঢাকাই মসলিনের বিশেষত্ব শুধু এর পাতলা কাপড় বা সূক্ষ্ম বুননে সীমাবদ্ধ ছিল না। নির্দিষ্ট জাতের তুলা, দক্ষ হাতে সুতা কাটা, বিশেষ ধরনের তাঁত এবং কারিগরদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা—সবকিছুর সমন্বয়ে তৈরি হতো এই ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র।

ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল, বিশেষ করে সোনারগাঁ, কাপাসিয়া এবং শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর অববাহিকার উর্বর পলল মাটি ফুটি কার্পাস তুলা উৎপাদনের জন্য উপযোগী ছিল।

এই তুলা থেকে অতি সূক্ষ্ম সুতা তৈরি করা ছিল অত্যন্ত দক্ষতানির্ভর কাজ। সুতা কাটার সময় পরিবেশের আর্দ্রতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। শুষ্ক বাতাসে সূক্ষ্ম সুতা সহজে ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে সকাল বা সন্ধ্যার আর্দ্র পরিবেশে সুতা কাটার প্রচলন ছিল বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ পাওয়া যায়।

দক্ষ নারী ও পুরুষ কারিগরেরা বংশপরম্পরায় অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তুলা থেকে সুতা তৈরি এবং তাঁতে কাপড় বুনতেন। এই জ্ঞান ও দক্ষতার ধারাবাহিকতা হারিয়ে যাওয়ায় মসলিনের ঐতিহ্যবাহী উৎপাদনপদ্ধতিও একসময় বিলুপ্ত হয়ে পড়ে।

প্রকল্প পরিচালক আইয়ুব আলীর ভাষ্য, কাপাসিয়ার তুলা থেকে তৈরি সুতায় সিল্কের মতো স্পর্শ পাওয়া যায়। তাঁর মতে, ঐতিহাসিক মসলিনের বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে ফুটি কার্পাস তুলার জাত শনাক্ত করা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তুলা চাষ থেকে তাঁত—কারিগর তৈরির উদ্যোগ

মসলিন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ফুটি কার্পাস তুলা, হাতে কাটা সুতা এবং ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তুলার জাত শনাক্ত হওয়ার পর গাজীপুরে তুলা বোর্ডের জমি এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে তুলা চাষ করা হয়। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদন বাড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তুলা উৎপাদন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

কারিগর তৈরির জন্য কুমিল্লার চান্দিনায় খাদি কাপড় তৈরির কাজে যুক্ত প্রায় ৪০০ জনের মধ্য থেকে বাছাই করে ছয়জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। হাতে সুতা কাটার চরকা তৈরি, তুলা থেকে সুতা প্রস্তুত, নাটাই করা, তাঁতে সুতা সাজানো এবং কাপড় বোনার বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়।

আইয়ুব আলী জানান, প্রশিক্ষিত কারিগরদের পাশাপাশি মসলিন হাউসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৩০ জন তাঁতি ও কারিগরকেও উৎপাদন কার্যক্রমে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

অধ্যাপক মঞ্জুর হোসেন বলেন, বড় পরিসরে উৎপাদন করতে হলে ফুটি কার্পাস তুলার জোগান বাড়াতে হবে। এ জন্য উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তুলা চাষের প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেওয়া এবং চুক্তিভিত্তিক তুলা উৎপাদনের মাধ্যমে চাষি ও উৎপাদকদের মধ্যে সংযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থাৎ মসলিনের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুধু তাঁতশিল্পের ওপর নির্ভর করবে না। তুলাচাষি, সুতা প্রস্তুতকারক, তাঁতি, মান নিয়ন্ত্রণকর্মী এবং বিপণনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।

কর্মসংস্থান ও রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা

বেসরকারি খাতে ঢাকাই মসলিনের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফুটি কার্পাস তুলা চাষ, হাতে সুতা কাটা, কাপড় বোনা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিপণনসহ বিভিন্ন ধাপে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে সুপ্রতিষ্ঠিত। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী মসলিনের পুনরুদ্ধার যুক্ত হলে উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত বস্ত্রপণ্যের বাজারে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী পোশাক, বিলাসবহুল বস্ত্র এবং সংগ্রহযোগ্য পণ্যের বাজারে ঢাকাই মসলিনের চাহিদা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জাপানের ক্রেতাদের আগ্রহ সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে আগ্রহ প্রকাশ বা নমুনা চাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত রপ্তানি আদেশের সমতুল্য নয়।

এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে উৎপাদনের মান ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা, পর্যাপ্ত কাঁচামাল নিশ্চিত করা এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

দাম ও উৎপাদন ব্যয় বড় চ্যালেঞ্জ

ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে অতি সূক্ষ্ম সুতা তৈরি ও কাপড় বোনা সময়সাপেক্ষ এবং দক্ষতানির্ভর কাজ। ফলে ঢাকাই মসলিনের উৎপাদন ব্যয় সাধারণ কাপড়ের তুলনায় বেশি হতে পারে।

বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে মসলিনের দাম কত হবে, তা নির্ভর করবে তুলার জোগান, সুতা তৈরির ব্যয়, কারিগরের মজুরি, উৎপাদনে লাগা সময়, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিপণনব্যবস্থার ওপর।

উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বুননপদ্ধতির বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত দ্রুত উৎপাদনের চাপ যেন কাপড়ের সূক্ষ্মতা, গুণমান ও ঐতিহাসিক পরিচয়কে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে মসলিনের দাম রাখা সম্ভব হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে পরিকল্পিত উৎপাদনব্যবস্থা ও কার্যকর বিপণন গড়ে উঠলে বিভিন্ন ক্রেতাশ্রেণির জন্য পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার থেকে বাণিজ্যিক সাফল্যের পথে

প্রায় ২০০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া ঢাকাই মসলিন পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ঐতিহাসিক গবেষণা, ফুটি কার্পাস তুলা শনাক্তকরণ, হাতে সুতা কাটা এবং ঐতিহ্যবাহী তাঁতে কাপড় বোনার প্রযুক্তি পুনরুদ্ধারের পর এবার উৎপাদনকে বেসরকারি খাতে সম্প্রসারণের প্রস্তুতি চলছে।

দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের আগ্রহ, ১৫ উদ্যোক্তার আবেদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের নিয়ম নথিভুক্ত করার উদ্যোগ বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে পর্যাপ্ত তুলা উৎপাদন, দক্ষ কারিগর তৈরি, মানসম্মত কাপড় উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং কার্যকর বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর।

ঢাকাই মসলিনের পুনর্জাগরণ কেবল একটি হারিয়ে যাওয়া কাপড় ফিরিয়ে আনার ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, গবেষণা, কারিগরি দক্ষতা এবং বস্ত্রশিল্পের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ। পরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন এগিয়ে নেওয়া গেলে এই ঐতিহ্য ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন পরিচিতি তৈরি করতে পারে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!