ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

menu

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: টাস্কফোর্সের তদন্ত নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম

সাগর-রুনি হত্যা মামলা: টাস্কফোর্সের তদন্ত নিয়ে হাইকোর্টের আদেশ আজ

ছবিঃ সংগৃহীত

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আদেশ দেওয়ার জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। প্রায় ১৪ বছর আগে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা এবং এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আদালতের এ আদেশকে ঘিরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি কার্যতালিকার এক নম্বর ক্রমিকে রয়েছে।

আদালতে এ হত্যা মামলার বাদীপক্ষে থাকবেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির। অন্যদিকে, রিটকারীর পক্ষে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

র‍্যাবের পরিবর্তে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। আদালত মামলার তদন্ত থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‍্যাব) সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

আদালতের নির্দেশনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি।

৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় সেদিন এ বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের জন্য কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়।

কয়েক দফা সময় বাড়লেও মেলেনি তদন্তের চূড়ান্ত ফল

মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আদালতে একাধিকবার সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল, ২৩ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ছয় মাস করে সময় দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মামলাটি আবারও হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে।

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সময়ে তদন্তকারী সংস্থা পরিবর্তন এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের পর মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসে কি না, তা নিয়ে নিহত সাংবাদিকদের পরিবার, সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ রয়েছে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাসা থেকে উদ্ধার হয় মরদেহ

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি।

সাগর সারওয়ার মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী মেহেরুন রুনি এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ভোরে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। সাংবাদিক দম্পতির হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন, অপরাধীদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিচারের আওতায় আনার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

প্রথমে থানা পুলিশ, পরে ডিবি ও র‍্যাবের হাতে তদন্ত

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।

শুরুতে শেরেবাংলা নগর থানার একজন কর্মকর্তা মামলাটির তদন্ত করেন। পরে একই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমকে।

এরপর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেই থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সংস্থাটি মামলার তদন্ত পরিচালনা করে। তবে এত বছরেও মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা সম্ভব হয়নি।

তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে অগ্রগতি না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনে ২০১২ সালেই হাইকোর্টে রিট

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে ২০১২ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে।

রিটের শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন। এতে সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলার সঠিক তদন্ত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে তাঁরা ২০১২ সালে রিটটি করেছিলেন। পরে পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্ত র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় পার হলেও মামলার চূড়ান্ত অগ্রগতি না হওয়ায় হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে কী প্রত্যাশা

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্তের অগ্রগতি, সময় বাড়ানোর কারণ এবং মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আজকের শুনানিতে হাইকোর্ট কী নির্দেশনা দেন, টাস্কফোর্সের তদন্তের বিষয়ে নতুন কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় কি না এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আদালত কী জানতে চান—সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিচারের আওতায় আনা নিহতদের পরিবার ও সাংবাদিক সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি। তদন্তের নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে অগ্রসর হওয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!