বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলনের একপর্যায়ে শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় অবস্থান নেন। এতে মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও ভোগান্তি।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টার দিকে কালিয়াকৈরের এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেডসহ আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে প্রথমে আঞ্চলিক সড়কে আন্দোলন শুরু করেন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে সড়কে অবস্থান নেন এবং একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় গিয়ে অবরোধ করেন।
পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে। মহাসড়কে অবরোধের পর যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় যাত্রী ও পরিবহনচালকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

সকাল থেকে বিক্ষোভ, পরে মহাসড়ক অবরোধ
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে এসেনশিয়াল ক্লোথিং লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তাঁরা মিছিল নিয়ে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নেন।
এ সময় আন্দোলনরত শ্রমিকরা আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি দেওয়ার দাবি জানান বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে আশপাশের কয়েকটি কারখানার গেটে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ওই এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করে।
এরপর শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় অবস্থান নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন আটকে পড়ায় সাধারণ যাত্রী, পরিবহনশ্রমিক ও দূরপাল্লার যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
মহাসড়ক সচল করতে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং সড়কে যান চলাচল পুনরায় চালু করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে ৯টার দিকে এসেনশিয়াল গার্মেন্টসসহ আরও দুই-একটি কারখানার শ্রমিকরা বেতন ও মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে প্রথমে আঞ্চলিক সড়কে অবরোধ করেন। পরে তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এসে নিজেদের দাবি জানান।
মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, শিল্প পুলিশ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন।
তিনি জানান, সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য শ্রমিকদের ধৈর্য ধরতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ার বিষয়ে তাঁদের সতর্ক করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে। তবে অবরোধ কখন প্রত্যাহার করা হবে এবং মহাসড়কে পুরোপুরি যান চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
যানজটে ভোগান্তিতে যাত্রীরা
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক রাজধানীর সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। এই মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশে চলাচলকারী যানবাহন আটকে পড়ে।
দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলে কর্মজীবী মানুষ, দূরপাল্লার যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহনের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় মহাসড়ক দ্রুত সচল করা এবং শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সর্বশেষ পরিস্থিতি: মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মৌচাক এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল শিল্প পুলিশ ও জেলা পুলিশ।

