ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬

menu

গাবতলীতে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে সড়কের কাজ, আপত্তি উপেক্ষার অভিযোগ—দেখার কেউ নেই

গাবতলী প্রতিনিধি, আমিনুল আকন্দ

প্রকাশিত: অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

গাবতলীতে নিম্নমানের খোয়া দিয়ে সড়কের কাজ, আপত্তি উপেক্ষার অভিযোগ—দেখার কেউ নেই

ছবিঃ সংগৃহীত

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের মরিয়া থেকে পেরিহাট পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজে নিম্নমানের ধূসর খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারে আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মরিয়া থেকে পেরিহাট পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজ পায় মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৬ টাকা। প্রকল্পের নকশা ও নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী উন্নত মানের ইটের খোয়া ব্যবহার করে ছয় ইঞ্চি পুরুত্বের ভিত্তি তৈরি করে তার ওপর পিচ ঢালাই করার কথা রয়েছে।

নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের নির্মাণকাজে ধূসর রঙের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ব্যবহৃত এসব খোয়ার একটি অংশ নির্ধারিত মানের নয়। নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ শুরু করতে দেখে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ঠিকাদারের লোকজনকে বাধা দেন বলেও জানান তারা। তবে তাদের আপত্তি উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সড়কটি এলাকার মানুষের চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়নের অপেক্ষায় ছিলেন তারা। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করা হলে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সড়কটি টেকসই হবে না বলে আশঙ্কা তাদের।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি কাজ

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের নির্ধারিত কাজের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে দীর্ঘ সময়েও সড়কের কাজ শেষ হয়নি। নতুন অর্থবছরে এসে আবার নির্মাণকাজ শুরু করা হলেও শুরুতেই নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সড়কের ভিত্তি তৈরির কাজে মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নমানের খোয়া দিয়ে ভিত্তি তৈরি করে তার ওপর পিচ ঢালাই করা হলে বর্ষা মৌসুমে পানি ঢুকে সড়কের নিচের স্তর দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে ভাঙন, গর্তসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি দেখা দিতে পারে।

তাদের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত এই সড়কের কাজের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করে তারপর কাজ চালিয়ে যাওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

‘ভালো খোয়া পাওয়া যাচ্ছে না’, ঠিকাদারের বক্তব্য

নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি প্যারিস ইসলাম বলেন, বর্তমানে ভালো মানের খোয়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে সিরাজগঞ্জ থেকে আনা ভালো ও খারাপ মানের খোয়া মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

তবে প্রকল্পের নির্ধারিত মান অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‘নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের সুযোগ নেই’

এ বিষয়ে গাবতলী উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী রুম্মন ইসলাম বলেন, ঠিকাদার খোয়া রাস্তায় ফেলার সময় তাকে ফোন করেছিলেন। তিনি ঘটনাস্থলে যাননি। তবে ঠিকাদারকে ভালো মানের খোয়া ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর ইসলাম বলেন, বিষয়টি তারা পরিদর্শন করছেন। ঠিকাদারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হবে। নিম্নমানের খোয়াগুলো অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের খোয়া ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ঠিকাদারকে চিঠিও দেওয়া হবে। এরপরও অনিয়ম হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত নির্মাণকাজের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি প্রকল্পের নির্ধারিত মান অনুযায়ী উপকরণ ব্যবহার করে সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে, যাতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী সড়ক নির্মাণ সম্ভব হয়।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!