নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাপানিয়া কে.এম ফাজিল মাদ্রাসায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুনঃনিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, চাকরিপ্রত্যাশী ও সচেতন নাগরিকরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় মাদ্রাসার সামনে হাপানিয়া গ্রামবাসী ও সচেতন নাগরিকবৃন্দের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা ও চাকরিপ্রত্যাশীরা মাদ্রাসাটির সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।
নিয়োগে অর্থ লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার সাম্প্রতিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ অর্থ লেনদেন, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযোগের কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তাদের ভাষ্য, যোগ্য ও প্রকৃত চাকরিপ্রত্যাশীদের বাদ দিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকলে তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বক্তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে তদন্তে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে নিয়ম ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পুনঃনিয়োগ দেওয়ার দাবি তোলেন তারা।
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি
মানববন্ধনে বক্তারা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলাউদ্দীন শিরাজীর বিরুদ্ধেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বক্তারা বলেন, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পদত্যাগের ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারও ব্যক্তিগত প্রভাব, অর্থ লেনদেন বা স্বজনপ্রীতি থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে তা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে।
পুনঃনিয়োগের দাবি চাকরিপ্রত্যাশীদের
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া চাকরিপ্রত্যাশীরা বলেন, তারা যোগ্যতা ও নিয়ম মেনে নিয়োগ পাওয়ার প্রত্যাশায় আবেদন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। কিন্তু নিয়োগে অনিয়ম হয়ে থাকলে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব নথি, আবেদন, পরীক্ষার ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম যাচাই করে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বর্তমান নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন যারা
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শফিকুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, চাকরিপ্রত্যাশী আব্দুল কাইয়ুম ও সানাউল ইসলাম।
এ সময় চাকরিপ্রত্যাশী, হাপানিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সচেতন নাগরিকদের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, তাদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিরোধ তৈরি করা নয়; বরং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান। তাদের মতে, তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে নিয়োগ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের অবসান ঘটতে পারে।
তারা বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে যোগ্যতার ভিত্তিতে পুনঃনিয়োগ দিতে হবে। আর অভিযোগের সত্যতা না থাকলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে মাদ্রাসায় স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে এবং এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে।

