ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

মিডিয়ার সঙ্গে বিরোধে সরকারের লাভ নেই, এ কাজ স্বৈরাচারের:- তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

মিডিয়ার সঙ্গে বিরোধে সরকারের লাভ নেই, এ কাজ স্বৈরাচারের:- তথ্য উপদেষ্টা

ছবিঃ সংগৃহীত

দেশের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনলাইনে অপতথ্য, গুজব ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার ঠেকাতে মানুষের মধ্যে মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম-সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেছেন, এমন একটি সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োজন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে অনলাইনে অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সরকারপক্ষ ও বিরোধী পক্ষ—কাউকেই আলাদা করে না দেখে সবার জন্য একই আইনি কাঠামো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী এবং বাংলাদেশ জার্নালিস্টস কাউন্সিলের (বিজেসি) পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মানুষকে সুরক্ষা দেবে এমন সাইবার আইন প্রয়োজন

আলোচনা সভায় প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাইবার জগতে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, প্রতারণা, হয়রানি, গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে পড়ার মতো বিষয়গুলো মোকাবিলায় কার্যকর আইন প্রয়োজন।

তার মতে, আইন এমন হওয়া দরকার, যাতে একদিকে সাধারণ মানুষ সাইবার অপরাধ থেকে সুরক্ষা পান, অন্যদিকে মতপ্রকাশ ও সাংবাদিকতার স্বাভাবিক পরিবেশও বজায় থাকে।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন এখনো চূড়ান্তভাবে পাস হয়নি। ফলে আইনটির বিভিন্ন ধারা নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

‘অপতথ্য বন্ধে শুধু আইন যথেষ্ট নয়’

অনলাইনে অপতথ্য প্রতিরোধে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা।

এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিডিয়া লিটারেসি বা গণমাধ্যম-সংক্রান্ত সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মিডিয়া লিটারেসির মাধ্যমে কোনো তথ্য অনলাইনে প্রকাশ বা শেয়ার করার আগে তার উৎস, সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে যাচাই না করা তথ্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ কারণে সংবাদ ও তথ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সরকারবিরোধী অপতথ্য হলেও একই আইন

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাতহীনতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, সরকারপক্ষের বিরুদ্ধেও যদি গুজব, মিথ্যাচার বা অপতথ্য ছড়ানো হয়, তাহলে সেটিও একই আইনি কাঠামোর আওতায় বিবেচনা করতে হবে।

অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা না করে আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাইবার আইন প্রয়োগে সরকারপক্ষ, বিরোধীপক্ষ, ব্যক্তি বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য আলাদা মানদণ্ড তৈরি হলে আইনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।

অনলাইন সাংবাদিকতার নতুন ধরন নীতিমালায় আনার প্রস্তাব

আলোচনা সভায় অনলাইনভিত্তিক সাংবাদিকতার পরিবর্তিত ধরন ও নতুন নতুন মনিটাইজেশন ব্যবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকতার প্রচলিত কাঠামোর বাইরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের সাংবাদিকতা গড়ে উঠছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংবাদ ও কনটেন্ট থেকে আয় বা মনিটাইজেশনের নতুন পদ্ধতিও তৈরি হয়েছে।

এসব পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার সুযোগ

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে না পৌঁছানোয় সংশ্লিষ্টদের মতামত ও পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, আইন প্রণয়নের আগে এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও সংশোধন করা যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, আইন বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও সাইবার নিরাপত্তার ভারসাম্য

আলোচনা সভায় সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকতার পরিবেশ ও মতপ্রকাশের সুযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

ডিজিটাল মাধ্যমে সাংবাদিকতার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংবাদ প্রকাশ, তথ্য যাচাই, কনটেন্ট তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। ফলে সাংবাদিকতা ও সাইবার নিরাপত্তা—দুই ক্ষেত্রের প্রয়োজনকে বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর নীতিমালা তৈরির প্রয়োজনীয়তা আলোচনায় উঠে আসে।

বিজেসির পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা

আলোচনা সভায় প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী নিয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জার্নালিস্টস কাউন্সিল (বিজেসি)-এর পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনাও আলোচনায় আসে।

আইনের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কী ধরনের কাঠামো প্রয়োজন—এসব বিষয় নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা মতামত দেন।

সভায় বক্তারা ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন।

অপতথ্য প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর জোর

সবশেষে ডা. জাহেদ উর রহমানের বক্তব্যে অনলাইন নিরাপত্তা ও অপতথ্য প্রতিরোধে আইন এবং জনসচেতনতা—দুই দিককেই গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর সাইবার আইন প্রয়োজন হলেও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া প্রতিটি তথ্যকে যাচাই করার সক্ষমতা সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি করাও জরুরি। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সবার জন্য সমান কাঠামো নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন চূড়ান্ত হওয়ার আগে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত ও পর্যালোচনার মাধ্যমে আইনটিকে আরও কার্যকর করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!