ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

দুদকের মামলায় ধীরগতি, বিচারাধীন প্রায় ৮ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম

দুদকের মামলায় ধীরগতি, বিচারাধীন প্রায় ৮ হাজার

ছবিঃ সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা হাজার হাজার মামলা বছরের পর বছর ধরে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আইনে তদন্ত ও বিচার নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। কোনো কোনো মামলার তদন্ত শেষ করতেই এক বছরের বেশি সময় লাগছে, আবার বিচার শুরুর পরও বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে। এমনকি এক যুগেও অনেক মামলার বিচার শেষ না হওয়ার নজির রয়েছে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে দুদকের করা ৮ হাজারের বেশি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ৩ হাজার ৪৩৮টি মামলা। আর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে আরও ৪ হাজার ৮১৬টি মামলা। অর্থাৎ দুই স্তরের আদালত মিলিয়ে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ২৫৪টি।

দুদক আইনে তদন্ত শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং দুর্নীতি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বিধান থাকলেও বাস্তবে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত ও বিচার শেষ করা গেলে দুর্নীতির মামলার জট অনেকটাই কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে অপরাধ প্রমাণিত হলে দ্রুত সাজা নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে সমাজে দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি কার্যকর বার্তাও যেতে পারে।

আইনে ১২০ দিনে তদন্ত শেষ করার বিধান

দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২০(ক) ধারায় তদন্ত শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনের বিধান অনুযায়ী, ক্ষমতা প্রাপ্তির তারিখ থেকে অনধিক ১২০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা।

তবে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করা সম্ভব না হলে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে বিশেষ ও ব্যতিক্রমধর্মী পরিস্থিতিতে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও সর্বোচ্চ ৬০ কর্মদিবস সময় বাড়ানো যেতে পারে।

এরপরও তদন্ত শেষ করতে ব্যর্থ হলে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে ৯০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যর্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অদক্ষতার অভিযোগে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও আইনে উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু বাস্তবে অনেক মামলার তদন্ত এই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শেষ হচ্ছে না। কোনো কোনো মামলায় তদন্ত শেষ করতে এক বছর, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই বছর বা তারও বেশি সময় লাগছে।

বিচার শেষ করার কথা ৬০ দিনে

শুধু তদন্ত নয়, দুর্নীতির মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার ক্ষেত্রেও আইনে নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে।

১৯৫৮ সালের ‘দ্য ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ অনুযায়ী দুর্নীতি মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ জজ আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ওই আইনের ৬(ক) ধারায় মামলা আমলে নেওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান রয়েছে।

কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ৬০ দিনের পরিবর্তে অনেক মামলার বিচার শেষ হতে বছরের পর বছর লেগে যাচ্ছে। এমনকি এক যুগ পেরিয়ে গেলেও কোনো কোনো মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট

দুদকের মামলার বিচার দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ৯ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন একটি সার্কুলার জারি করে। এতে বিভাগীয় বিশেষ জজ ও বিশেষ জজ আদালতে দুর্নীতির মামলা আইন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সার্কুলারে জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজদের দুর্নীতির মামলাগুলো দ্রুততম সময়ে এবং আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্দেশনা ও আইনি বিধান থাকলেও বাস্তবে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমেনি। ফলে বছরের পর বছর ধরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা জমতে থাকছে।

কেস স্টাডি: তদন্তেই পেরিয়ে যাচ্ছে নির্ধারিত সময়
আবেদ আলী ও তার পরিবারের মামলা

বিসিএস প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আলোচিত সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন, তার স্ত্রী এবং ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করে দুদক।

২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি মামলাগুলো দায়ের করা হয়। এর মধ্যে সিয়ামের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত শেষ করতেই দুদকের প্রায় এক বছর সময় লাগে। তদন্ত শেষে দুদকের উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। তবে আবেদ আলী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত তখনও শেষ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদের মামলাতেও প্রায় এক বছর

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলা করে দুদক।

দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম মামলাটির তদন্ত করেন। তদন্ত শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগে। পরে গত বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ বিচারাধীন। আগামী ১১ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মামলায় তদন্তে সাড়ে পাঁচ মাস

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই মামলা করে দুদক।

দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান খান বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন।

প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস তদন্তের পর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মামলাটিতে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। বর্তমানে মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

মামলায় মোট ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

মতিউর রহমানের মামলায় তদন্তে প্রায় ১৪ মাস

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলা করে দুদক।

মামলাটির তদন্ত শেষ করতে প্রায় ১৪ মাস সময় লাগে। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি দুদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন করে।

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

নাজমা বেগমের মামলায় তদন্তে দুই বছর

বাপেক্সের সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মামলা করে দুদক।

মামলায় তার বিরুদ্ধে ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ৫০৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ৪০ লাখ ৬১ হাজার ১৯৩ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটির তদন্ত শেষ করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

অভিযোগপত্র দাখিলের পরও দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু মামলাটির অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বারবার অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ পেছানো হয়েছে।

গত ৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও আসামির অনুপস্থিতিতে সময় চেয়ে করা আবেদন আদালত মঞ্জুর করেন। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৮ অক্টোবর দিন ধার্য রয়েছে।

কেন নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ হয় না?

দুদকের পক্ষে মামলাগুলো পরিচালনাকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) দেলোয়ার জাহান রুমী বলেন, দুর্নীতির মামলার তদন্তে অনেক বিষয় যাচাই করতে হয়। অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের অবস্থান নির্ণয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা যাচাই, জিজ্ঞাসাবাদ, সম্পদ জব্দ এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ও অবস্থান শনাক্ত করার মতো বিষয় রয়েছে।

তার মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া, সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ এবং বিভিন্ন নথি তলবের ক্ষেত্রেও অনেক সময় বিলম্ব হয়। এসব কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিচার দীর্ঘ হওয়ার ক্ষেত্রেও আসামিপক্ষের সময় চাওয়া, সাক্ষীকে জেরা করতে সময় নেওয়া এবং উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশের মতো বিষয় সামনে আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ার কারণে শুধু সেই কারণেই মামলার পরবর্তী কার্যক্রম বাতিল হয়ে যায় না।

‘দুদকের সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হওয়ার সমস্যা দুদকের পুরোনো সমস্যা। সাম্প্রতিক সময়ে দুদকে অভিযোগ, তদন্ত ও মামলার চাপও বেড়েছে।

তার মতে, দুদকের জনবল ও সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। একজন কর্মকর্তার হাতে একাধিক মামলার তদন্তভার থাকায় সব মামলার তদন্ত নির্ধারিত সময়ে শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ড. ইফতেখারুজ্জামানের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত দীর্ঘায়িত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তথ্য-প্রমাণ পরিবর্তন বা সরিয়ে ফেলার সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে দুদকের কার্যক্রমে রাজনৈতিক বা আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের অভিযোগও দীর্ঘদিনের।

তবে তিনি বলেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর দুদকের কার্যক্রমে গতিশীলতা বাড়বে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে। তবে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত পুরোপুরি সমাধান করা সহজ নয় এবং এর জন্য সময় প্রয়োজন।

‘৬০ দিনের বিধান বাস্তবসম্মত নয়’

দুর্নীতি মামলার বিচার ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তার মতে, দুর্নীতির মামলা সাধারণত জটিল প্রকৃতির। এসব মামলায় বিপুল নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন, সম্পদের উৎস, একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা এবং অনেক সাক্ষীর বিষয় জড়িত থাকতে পারে। ফলে ৬০ দিনের মধ্যে সব মামলার বিচার শেষ করা বাস্তবসম্মত কি না, সেটি বিবেচনার বিষয়।

তার ভাষ্য, ৬০ দিনের সময়সীমা একটি আদর্শ বা প্রত্যাশার জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব বিচারপ্রক্রিয়ায় বিভিন্ন জটিলতা রয়েছে। বিশেষ আদালতের সংখ্যা, আদালতের ওপর মামলার চাপ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতিও মামলা নিষ্পত্তিতে প্রভাব ফেলছে।

তদন্ত ও বিচার—দুই পর্যায়েই দীর্ঘসূত্রতা

দুদকের মামলার বর্তমান চিত্রে দুটি পৃথক সমস্যা সামনে আসছে—প্রথমত, তদন্ত শেষ করতে আইনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে; দ্বিতীয়ত, তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র আদালতে যাওয়ার পরও বিচার দ্রুত শেষ হচ্ছে না।

আইনে তদন্তের জন্য ১২০ কর্মদিবস এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সময়ের বিধান থাকলেও একাধিক আলোচিত মামলায় তদন্ত শেষ করতে এক বছর বা তারও বেশি সময় লেগেছে। আবার অভিযোগপত্র দাখিলের পর অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য বিচারিক ধাপ শেষ করতেও দীর্ঘ সময় পার হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতির মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হলে শুধু তদন্তকারী সংস্থার সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না; আদালতে মামলাজট কমানো, পর্যাপ্ত বিশেষ আদালত, দক্ষ জনবল, সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ রোধেও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।

দ্রুত বিচার হলে কী প্রভাব পড়তে পারে?

সংশ্লিষ্টদের মতে, দুর্নীতির মামলার তদন্ত ও বিচার নির্ধারিত বা যৌক্তিক সময়ের মধ্যে শেষ হলে একদিকে যেমন বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমবে, অন্যদিকে অপরাধ প্রমাণিত হলে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার কারণে মামলার বাদী, সাক্ষী ও রাষ্ট্রপক্ষের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমতে পারে। তবে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে আসামির আইনগত অধিকার ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তাও সমানভাবে বজায় রাখা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে দুদকের হাজার হাজার বিচারাধীন মামলা এখন শুধু মামলাজটের পরিসংখ্যান নয়; আইনে নির্ধারিত সময়সীমা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার সক্ষমতা কোথায় আটকে আছে এবং কীভাবে দীর্ঘসূত্রতা কমানো যায়—এসব প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!