ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

৪ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

৪ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

ছবিঃ সংগৃহীত

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে গোপন তৎপরতা চালানোর অভিযোগে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহারের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চার আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসীন আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

রুলে আদালত জানতে চেয়েছেন, একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি এবং এসব কমিটির মাধ্যমে নেওয়া পদক্ষেপগুলো আইনগত এখতিয়ার বা কর্তৃত্ব ছাড়া গঠিত ও নেওয়া হয়েছে—এ কারণে সেগুলোকে বেআইনি ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না কেন।

একই সঙ্গে ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত সব তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হবে না কেন, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

চার আইনজীবীর রিট

রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস, এম লিটন আহমেদ, রাশেদুল হক খোকন ও বিপ্লব কুমার দাস।

রিটকারীদের দাবি, গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা আইনগত এখতিয়ারের বাইরে। তারা ওই প্রতিবেদনকে ‘যাচাইহীন’ দাবি করে এর ভিত্তিতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

রিটে বলা হয়, আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্য-অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত করা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। তবে সেই আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়ায় তারা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

যে প্রতিবেদনকে ঘিরে রিট

রিটে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ আগস্ট একটি অনলাইন পোর্টালে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক গোপনে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, পুরো কার্যক্রম মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে খোলা একটি ‘সিক্রেট গ্রুপ’-এর মাধ্যমে সমন্বয় করা হচ্ছিল।

তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার আইনগত বৈধতা নিয়েই রিটে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

টেলিগ্রাম গ্রুপ নিয়ে প্রতিবেদনে যা বলা হয়

ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ‘বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ নামে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রুপটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই টেলিগ্রাম গ্রুপের ২৮ পৃষ্ঠার স্ক্রিনশট এশিয়া পোস্টের হাতে এসেছে। সেখানে ৪০৪ জনের নাম শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সাংকেতিক নাম ব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি আরও ২১ জনের শুধু মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে বলেও দাবি করা হয়।

নিয়মিত বৈঠকের দাবিও ছিল প্রতিবেদনে

প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, গ্রুপটির সদস্যরা টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিয়মিত বৈঠকে অংশ নিতেন। অনলাইন ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগের মাধ্যমে কার্যক্রম সমন্বয়ের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রত্যেকের সম্পৃক্ততা এবং তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের আইনগত ভিত্তি—এসব বিষয়ই এখন রিটের মাধ্যমে আদালতের বিবেচনায় এসেছে।

হাইকোর্টের রুলে কী বলা হয়েছে

হাইকোর্টের জারি করা রুলে মূলত তিনটি বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি আইনগত এখতিয়ার ছাড়া গঠন করা হয়েছে কি না।

দ্বিতীয়ত, এসব কমিটির মাধ্যমে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে কি না।

তৃতীয়ত, ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে গঠিত সব তথ্য-অনুসন্ধান, ইনকোয়েরি ও তদন্ত কমিটি বিলুপ্ত ও প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হবে কি না।

এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দিতে হবে।

এখন আদালতের পরবর্তী প্রক্রিয়া

হাইকোর্টের রুল জারির ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদালতের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে। পরবর্তী শুনানিতে আদালত রিটে উত্থাপিত অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কমিটি গঠনের আইনগত ভিত্তি এবং শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের বৈধতার বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন।

এ পর্যায়ে আদালত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি; বরং কেন সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপগুলোকে বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং কেন তদন্ত কমিটিগুলো বিলুপ্তের নির্দেশ দেওয়া হবে না—সেই ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেছেন।

ফলে ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির ভবিষ্যৎ এবং এসব কমিটির মাধ্যমে নেওয়া পদক্ষেপের আইনগত বৈধতার বিষয়টি এখন হাইকোর্টের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!