ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

এনডিটিভিকে সাক্ষাৎকার:

ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার

ছবিঃ সংগৃহীত

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফিরে কারাবাসসহ যেকোনো আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। তবে দেশে ফেরার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে এবং আইনের কাঠামোর মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চান। তবে কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তার দেশে ফেরা হবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডিসেম্বরের মধ্যেই ফেরার ঘোষণা

এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়, বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য সময়সীমা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে দেশে ফেরার নির্দিষ্ট দিন, রুট বা প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

তিনি বলেন, দেশে ফিরে গেলে কারাবাসসহ যেকোনো আইনি পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য তিনি প্রস্তুত রয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তিও জানিয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে তিনি শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত পথ অনুসরণ করতে চান। তবে বাস্তবে তার প্রত্যাবর্তন কীভাবে হবে, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থান

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারত চলে যান। এরপর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলাও হয়েছে।

অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের রায়

আপনার সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এ রায় দেওয়া হয়।

তবে শেখ হাসিনা ওই বিচারপ্রক্রিয়া ও রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অর্থাৎ, তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বিচারপ্রক্রিয়াটিকে ন্যায্য মনে করছেন না।

এ বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগ, রায় ও শেখ হাসিনার বক্তব্যকে পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

‘কারাবাসসহ যেকোনো আইনি পরিণতির জন্য প্রস্তুত’

দেশে ফিরে কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা কারাবাসসহ যেকোনো আইনি পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছেন।

তার বক্তব্যের মধ্যে একই সঙ্গে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—একদিকে তিনি দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়াকে অন্যায্য বলে দাবি করেছেন।

ফলে দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলা ও আদালতের আদেশগুলো কীভাবে কার্যকর হবে, সেটি তার প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

বাংলাদেশ-ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের প্রশ্ন

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনাকে আরও প্রশ্ন করা হয়, তার দেশে ফেরার বিষয়ে বাংলাদেশ কিংবা ভারতের সরকারের সঙ্গে কোনো সরকারি বা গোপন যোগাযোগ হয়েছে কি না।

তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার যে ঘোষণা তিনি দিয়েছেন, সেটির বাস্তবায়নে দুই দেশের সরকারের ভূমিকা কী হবে বা প্রত্যাবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া কী হতে পারে—তা এখনো প্রকাশ্যে স্পষ্ট নয়।

দেশে ফেরার প্রক্রিয়া এখনো অনির্দিষ্ট

শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার ইচ্ছা ও সম্ভাব্য সময়সীমা সম্পর্কে তিনি অবস্থান জানিয়েছেন। কিন্তু কীভাবে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ কারণে তার ঘোষিত ডিসেম্বরের সময়সীমা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, দেশে ফেরার পর সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর ক্ষেত্রে কী ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে এবং আদালতের বিদ্যমান আদেশ কীভাবে কার্যকর হবে—এসব বিষয় পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!