এক পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি বলেছেন, একটি বাড়িতে একজন বিএনপি করবেন, আরেকজন ‘ফ্যাসিস্টের দল’ কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন—এমন পরিস্থিতি আর চলবে না।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগের প্রতিবাদে বিএনপির আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, “এক বাড়িতে বিএনপি করলে সবার বিএনপি হতে হবে। এক ভাই বিএনপি করবেন, এক ভাই ফ্যাসিস্টের দল করবেন, আরেক ভাই গুপ্তের দল করবেন—তা চলবে না। আমার বার্তা স্পষ্ট। আপনারা কিন্তু পার পাবেন না।”
তিনি আরও বলেন, যারা ফ্যাসিস্ট বা রাজাকার ছিলেন বলে বিএনপি মনে করে, তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে। এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেও তা ছিন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যারা ফ্যাসিস্ট বা রাজাকার ছিল, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তাদের সঙ্গে কোনো আত্মীয়তা থাকলে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করতে হবে।”
‘সেই দিন শেষ’—বললেন প্রতিমন্ত্রী
বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আহম্মদ সোহেল মনজুর। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কারণে বিএনপির নেত্রী ও দলটির নেতাকর্মীদের অভিভাবক হিসেবে বিবেচিত খালেদা জিয়া বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্টদের কারণে আমাদের নেত্রী, আমাদের অভিভাবক, আমাদের দেশের মা বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। সেই ফ্যাসিস্টদের আপনারা প্রশ্রয় দেবেন, তাদের সঙ্গে আত্মীয়তা করবেন—সেই দিন শেষ। একদম শেষ।”
তার বক্তব্যে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার পাশাপাশি বিএনপির বিরোধী হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
কাউখালীতে বিক্ষোভ ও আলোচনা সভা
এর আগে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগের প্রতিবাদে কাউখালী উপজেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলীয় ঐক্য এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহম্মদ সোহেল মনজুর দলীয় নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কর্মকাণ্ড ও সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি।
তবে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ব্যবহৃত ‘ফ্যাসিস্ট’ ও ‘রাজাকার’সহ রাজনৈতিক পরিচয়সংক্রান্ত শব্দগুলো তাঁর বক্তব্যের অংশ হিসেবে এসেছে; এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যাখ্যা রয়েছে।

