ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

চট্টগ্রামের চাপ কমাতে মোংলা বন্দরে নজর, RMG রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

চট্টগ্রামের চাপ কমাতে মোংলা বন্দরে নজর, RMG রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ

ছবিঃ সংগৃহীত

তৈরি পোশাক (RMG) রপ্তানিতে মোংলা বন্দরের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (BKMEA)। চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানো এবং পণ্য পরিবহনে বিকল্প বন্দর ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতেই এ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মোংলা বন্দরের সক্ষমতা, জাহাজ হ্যান্ডলিং সুবিধা, পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা এবং তৈরি পোশাক খাতের জন্য বন্দরটির সেবা আরও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা তুলে ধরলেন চেয়ারম্যান

বৈঠকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মুস্তাফা বন্দরের বর্তমান সক্ষমতা ও অবকাঠামোগত সুবিধা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, মোংলা বন্দরে সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফট এবং ২২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি বন্দরে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫২টি জাহাজের জন্য বার্থিং সুবিধা রয়েছে।

বন্দরটির এসব সক্ষমতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানি পণ্য পরিবহনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত হলে ব্যবহার বাড়ানোর কথা BKMEA-এর

BKMEA সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, মোংলা বন্দর থেকে যদি নির্ভরযোগ্য, দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক সেবা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এ বন্দরটির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো বিকল্প বন্দর ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামোগত সক্ষমতা থাকাই যথেষ্ট নয়। রপ্তানিকারকদের জন্য সময়মতো সেবা, পণ্য ওঠানামার দক্ষতা, পরিবহন ব্যয়, শিপিং সংক্রান্ত সুবিধা এবং সামগ্রিক অপারেশনাল নির্ভরযোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ।

সেবার ঘাটতি চিহ্নিত করতে যৌথ বৈঠকের প্রস্তাব

মোংলা বন্দরকে তৈরি পোশাক খাতের জন্য আরও কার্যকর করতে একটি যৌথ বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন BKMEA সভাপতি।

তিনি BKMEA, BGMEA, শিপিং এজেন্ট এবং ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের সমন্বয়ে বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানান। এ বৈঠকের মাধ্যমে মোংলা বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সেবার ঘাটতি, পরিচালনাগত সমস্যা এবং রপ্তানিকারকদের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তার মতে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ একসঙ্গে বসে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারলে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করা এবং তৈরি পোশাক খাতে মোংলা বন্দরের ব্যবহার সম্প্রসারণ করা সহজ হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমানোর সুযোগ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত। বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক ও কাঁচামাল আমদানি-রপ্তানির কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোর সক্ষমতা ও কার্যক্রম রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি মোংলা বন্দরের ব্যবহার বাড়ানো গেলে পণ্য পরিবহনে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে। এর ফলে নির্দিষ্ট একটি বন্দরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্য দ্রুত জাহাজীকরণ, নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছানো এবং সামগ্রিক লজিস্টিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ। মোংলা বন্দরের সক্ষমতা ও সেবা এসব ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা গেলে তৈরি পোশাক খাতে এর ব্যবহার বাড়তে পারে।

বাস্তব চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব

বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল বন্দরের সক্ষমতার পাশাপাশি বাস্তব অপারেশনাল সুবিধা নিশ্চিত করা। রপ্তানিকারক, শিপিং এজেন্ট ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডাররা বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হন, সেগুলো চিহ্নিত না করে শুধু সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পণ্য পরিবহনের সময়, সেবা পাওয়ার ধারাবাহিকতা এবং প্রতিযোগিতামূলক খরচ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে আলোচনায় উঠে আসে।

রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে কার্যকর লজিস্টিকস জরুরি

আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য, গুণগত মানের পাশাপাশি সময়মতো পণ্য সরবরাহও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবহন ও বন্দরের কার্যক্রমে বিলম্ব হলে রপ্তানিকারকদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে এবং ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এ কারণে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং কার্যকর লজিস্টিক ব্যবস্থা তৈরি করা তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মোংলা বন্দরকে এ ব্যবস্থার একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বন্দর কর্তৃপক্ষ, রপ্তানিকারক সংগঠন, শিপিং এজেন্ট ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রস্তাবিত যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সেই সমন্বয়ের ক্ষেত্র আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!