ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

উপাচার্য পরিবর্তন ঠেকাতে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

উপাচার্য পরিবর্তন ঠেকাতে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন

ছবিঃ সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেছেন। এতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পাঠদান, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

মূল ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শিক্ষার্থীরা চুয়েটের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর তারা ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে আবার চুয়েটের উপাচার্যের দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারছেন না। তাদের দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে তার নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করার সুযোগ দিতে হবে।

‘সায়েম স্যারকেই উপাচার্য হিসেবে চাই’

কর্মসূচিতে থাকা চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী প্রীতম সাহা বলেন, ‘আমরা সায়েম স্যারকে উপাচার্য হিসেবে চাই। এটাই আমাদের একমাত্র দাবি। তিনি তার পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন, তারপর যাবেন। এর আগে নয়। এই দাবিতে আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’

শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার পাশাপাশি তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।

বন্ধ পাঠদান-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম

শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাফতরিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়েছে।

শিক্ষক সমিতিরও পুনর্বহালের দাবি

শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির পাশাপাশি সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান নিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতিও।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষক সমিতির সদস্যরা। সেখানে তারা অধ্যাপক সায়েমকে আবার দায়িত্বে বহাল করার দাবি জানান।

চুয়েটের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক সমিতি রয়েছে। সেখানে সাধারণ সভার মাধ্যমে দাবি জানানো হয়েছে সদ্য সাবেক উপাচার্যকে যেন আবার তাকে কাজে বহাল করা হয়। আমি একজন শিক্ষক হিসেবে সেই দাবিকেই সমর্থন করছি।’

আগের রাতেও বিক্ষোভ

উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার রাতেও চুয়েট ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।

মিছিল শেষে তারা উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকেও তালা দেওয়া হয় এবং ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এতে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে।

৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তন

অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম গত ২৭ জুলাই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

নিয়োগের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার তাকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নতুন উপাচার্য নিয়োগের এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই চুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে তারা বিক্ষোভ, উপাচার্য ভবনে তালা এবং সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন।

আন্দোলনের প্রভাব পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে

উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমিতির অবস্থান এখন চুয়েটের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। একদিকে শিক্ষার্থীরা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন, অন্যদিকে শিক্ষক সমিতিও একই দাবিতে মানববন্ধন করেছে।

ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের দিকে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তারা অটল রয়েছেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!