ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

‘সারাজীবন কাঁদবি’ হুমকির দুই দিন পর বস্তাবন্দি মিলল ৬ বছরের ইসমাইলের মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

‘সারাজীবন কাঁদবি’ হুমকির দুই দিন পর বস্তাবন্দি মিলল ৬ বছরের ইসমাইলের মরদেহ

ছবিঃ সংগৃহীত

তোকে আমি এমন শিক্ষা দেবো, সারাজীবন কাঁদবি’—মুঠোফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শিশুটির বাবাকে এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এর দুই দিনের মাথায় নিখোঁজ ছয় বছরের শিশু মো. ইসমাইলের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয় এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া সংলগ্ন একটি খাল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে রোববার সকাল থেকে ইসমাইল নিখোঁজ ছিল।

নিহত মো. ইসমাইল বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আকবর হোসেনের ছেলে।

যেভাবে নিখোঁজ হয় শিশু ইসমাইল

পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ইসমাইল বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের হাওলাদার মার্কেটের একটি দোকানের দিকে যায়। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি সে।

শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকা, আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানানো হয় এবং শিশুটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলতে থাকে।

দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর মঙ্গলবার সকালে মুসলিমপাড়া সংলগ্ন খালের পানিতে একটি বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয় কয়েকজন। বস্তাটি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাটি উদ্ধার করে।

বস্তা খুলে ভেতর থেকে একটি শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি নিখোঁজ ইসমাইলের বলে শনাক্ত করেন।

মোবাইল কেনাবেচা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

নিহত শিশুটির চাচা মো. সৈকত ইসলাম বাবুর অভিযোগ, ইসমাইলের বাবা আকবর হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় মো. নান্নুর ছেলে মো. রোকনের মুঠোফোন কেনাবেচা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

পরিবারের দাবি, ইসমাইল নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই দিন আগে রোকন প্রকাশ্যে শিশুটির বাবাকে হুমকি দিয়েছিলেন। ওই সময় তাকে সন্তান হারানোর মতো পরিণতি ভোগ করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।

এর পরপরই ইসমাইল নিখোঁজ হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ রোকনের দিকে যায়। তাদের অভিযোগ, পূর্বের বিরোধের জের ধরে শিশুটিকে হত্যা করে বস্তাবন্দি অবস্থায় খালে ফেলে দেওয়া হতে পারে।

তবে শিশুটিকে হত্যার সঙ্গে রোকনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পরই মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সন্দেহভাজন রোকন আটক

শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় যুবক মো. রোকনকে আটক করেছে। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রিপন কুমার সাহা জানান, খাল থেকে উদ্ধার করা শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, সন্দেহভাজন রোকনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়েরের পর তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শোকের ছায়া পরিবারে

মাত্র ছয় বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ইসমাইলের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুই দিন ধরে নিখোঁজ শিশুটিকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় ছিলেন স্বজনরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।

পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য এবং আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!