গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের শিবের বাজার এলাকায় ডা. নুরুল সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ক্লাস চলাকালে সংঘটিত এ হামলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিকক্ষ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ক্লাস চলাকালে হামলার অভিযোগ
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলের মালিক লিটন মিয়ার সঙ্গে বিরোধের জেরে পার্শ্ববর্তী আব্দুল মান্নান ডিপটির নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলাকারীরা আকস্মিকভাবে স্কুলে ঢুকে শ্রেণিকক্ষ লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে অনেকে শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় চারটি মোটরসাইকেল ও দুটি ল্যাপটপও ভাঙচুর করা হয়।
আহত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে
হামলায় আহত শিক্ষার্থীরা হলেন—নাঈম ইসলাম, সাহেদ হোসেন, মেহেদী হাসান, রাসেল মিয়া, রিয়াদ, কবীর হোসেন ও সাগর শেখ।
আহত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন—শামীম মিয়া, সোহেল সরদার, মশিউর রহমান, জয় চৌধুরী ও অপু গুণ।
এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা মিনি বেগম, জহুরুল ইসলাম এবং প্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরী মাসুদ শেখ আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হামলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক
ক্লাস চলাকালে হঠাৎ হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
চেয়ারম্যানের নিন্দা
হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, ক্লাস চলাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনায় প্রশাসনিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মামলার প্রক্রিয়া চলছে: পুলিশ
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং ভাঙচুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
রাজধানীর বনানী থানাধীন মহাখালী মধ্যপাড়া এলাকার শাকেরিয়া মাদ্রাসা গলিতে জামিনে মুক্ত হয়ে ফের ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে শরিফ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশের হাতে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার পরও জামিনে বেরিয়ে তিনি আবারও মাদক ব্যবসা শুরু করেছেন। তার বাসভবনকে ঘিরে দিন-রাত মাদকসেবী ও ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ায় আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক এলাকার মধ্যে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিষয়টি নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও নিরাপত্তার কারণে অনেকে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন।
বাসভবন ঘিরে মাদকসেবীদের আনাগোনার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্র ও মাদকসেবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরিফের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, খুচরা বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে ইয়াবা সরবরাহের একটি নেটওয়ার্কও পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শরিফের বাড়িকে কেন্দ্র করে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের বাসিন্দাদের চলাচলেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অপরিচিত লোকজনের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন সময় সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে আতঙ্কে থাকেন অনেক বাসিন্দা।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
‘বেচমু বেশি, লাভ করমু কম’—এমন প্রচারণার অভিযোগ
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, শরিফ তার মাদক বিক্রির পরিধি বাড়াতে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। তার বিরুদ্ধে ‘বেচমু বেশি, লাভ করমু কম’ ধরনের কথা বলে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
মাদকসেবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ধরনের ইয়াবা তার কাছে পাওয়া যায় বলে তারা দাবি করেছেন। এমনকি নারী ক্রেতারাও তার কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ ছাড়া আশপাশের কয়েকজন মাদক কারবারি তাদের ইয়াবা বিক্রির জন্য শরিফের কাছে পাঠান—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মাদক সেবন ও গোপন বৈঠকের অভিযোগ
শরিফের বাড়িতে স্থানীয় চিহ্নিত অপরাধীদের যাতায়াত এবং সেখানে মাদক সেবন ও গোপন বৈঠক হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
তাদের ভাষ্য, আবাসিক এলাকায় এমন কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ছিনতাই, চুরি, মারামারি কিংবা অন্যান্য অপরাধের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের দাবি পুলিশের
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গত মাসে শরিফের বাসায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ শরিফ ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে বনানী থানা পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অল্প সময়ের মধ্যেই তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন। এরপর শরিফ আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শরিফের বিরুদ্ধে বনানী থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। তবে মামলার সংখ্যা, বর্তমান আইনি অবস্থান ও জামিনের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
‘জামিনে খরচ হওয়া টাকা তুলতে হবে’—অভিযোগ
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর শরিফ স্থানীয়দের কাছে ‘জামিনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে, সেই টাকা দ্রুত তুলতে হবে’—এমন কথা বলেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
তবে এই বক্তব্যের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং শরিফের বক্তব্যও প্রতিবেদনের সময় পাওয়া সম্ভব হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো আসামি জামিনে মুক্ত হওয়া মানেই তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া নয়। মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান থাকে এবং জামিনের শর্ত ভঙ্গ বা নতুন করে অপরাধে জড়িত হওয়ার অভিযোগ উঠলে আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিতে পারে।
‘জিরো টলারেন্স’ পুলিশের
এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। শরিফকে আমরা বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছিলাম। আদালত জামিন দিলে সেটি আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “জামিনে বের হয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি আমরা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তার এলাকায় আবারও অভিযান চালানো হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দ্রুত নজরদারি ও অভিযান চান এলাকাবাসী
স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় মাদকের এমন বিস্তার অব্যাহত থাকলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তরুণ প্রজন্ম। তাই শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযান নয়, পুরো এলাকায় মাদক সরবরাহের উৎস, বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, নিয়মিত পুলিশি টহল, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের বিষয়ে নজরদারি এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
মাদক কারবারের অভিযোগের সত্যতা, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং জামিনের পর নতুন করে অপরাধে জড়ানোর অভিযোগ—এসব বিষয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে স্পষ্ট হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মহাখালী মধ্যপাড়ার আবাসিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।

