সিগারেট, ওষুধ, মোবাইল ফোন ও ব্যাংকিংসহ ১১টি খাতে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রমে গতি আনতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের ভ্যাট অনুবিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
নতুন এ নির্দেশনার ফলে নির্ধারিত ১১টি খাতের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে। এতে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসনের কাছে ব্যবসা ও লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।
যেসব খাতে গুরুত্ব
এনবিআরের নতুন আদেশের আওতায় সিগারেট, ওষুধ, মোবাইল ফোন ও ব্যাংকিং খাত রয়েছে। এসব খাতের পাশাপাশি আরও কয়েকটি খাতকে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা হয়েছে।
অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের ভ্যাটসংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থায় সংরক্ষিত থাকবে। এতে রিটার্ন দাখিলের তথ্য যাচাই, রাজস্ব হিসাব পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য বিশ্লেষণ করা এনবিআরের জন্য সহজ হবে।
ভ্যাট ব্যবস্থায় আরও ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ
রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবেই অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে কাগজভিত্তিক রিটার্ন দাখিলের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি করদাতা ও রাজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের প্রয়োজনও কমানো সম্ভব হবে।
এনবিআরের এ উদ্যোগ ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় তথ্যের স্বচ্ছতা ও নজরদারি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত হলে রাজস্ব আদায়ের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে।
ব্যবসায়ীদের জন্য কী পরিবর্তন আসছে
নতুন নির্দেশনার আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে হবে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অনলাইন ভ্যাট ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে হবে।
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভুল বা তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণের বিষয়েও ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকতে হবে।
রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়ার প্রত্যাশা
এনবিআর দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাট ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার ফলে রাজস্ব প্রশাসনের কাছে নির্ধারিত খাতগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ভ্যাটসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পাওয়া যাবে।
এর মাধ্যমে রিটার্ন দাখিলের হার বাড়ানো, তথ্যের ঘাটতি কমানো এবং ভ্যাট ফাঁকি শনাক্তে নজরদারি জোরদারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রাজস্ব সংগ্রহের ক্ষেত্রে ডিজিটাল তথ্য ব্যবহারের পরিধিও বাড়বে।
নতুন আদেশের ফলে সিগারেট, ওষুধ, মোবাইল ফোন ও ব্যাংকিংসহ ১১টি খাতে ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া আরও প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে। এনবিআরের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ভ্যাট প্রশাসনে ডিজিটাল রূপান্তরের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

