ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে সারাদেশের মতো জয়পুরহাটেও ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় জয়পুরহাট জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান নিজ হাতে কোদাল নিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মোহাম্মদ রায়হান, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার ধলাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক, জেলা কৃষকদলের সদস্যসচিব মঞ্জুরে মওলা পলাশসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা পরিষদ কার্যালয় এবং এর আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ওষুধ বা চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাড়ির ছাদ, আঙিনা, ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন স্থাপনা কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই নিয়মিত এসব স্থান পরিদর্শন করে জমে থাকা পানি অপসারণের আহ্বান জানানো হয়।
তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে মশার প্রজননস্থল কমিয়ে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
জেলা পরিষদের এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার বার্তা দেওয়া হয়।

