দেশে হামের প্রকোপে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭ জনে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে ৫১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৮৪ জন, সিলেট বিভাগে ১৪৫ জন, বরিশাল বিভাগে ১১৪ জন, খুলনায় ৭০ জন, ময়মনসিংহে ৫৪ জন, রাজশাহীতে ৩০ জন এবং রংপুর বিভাগে ২৬ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। বাকি মৃত্যুর বিভাগভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ২২৫ জন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
নিশ্চিত হামে আক্রান্ত ২০ হাজারের বেশি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় ২০ হাজার ৫৬২ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহজনক ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা নিশ্চিত আক্রান্ত রোগীর তুলনায় অনেক বেশি। ফলে হাম শনাক্তকরণ, নজরদারি এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিদিনই বাড়ছে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা
গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে নতুন করে ১ হাজার ২৩৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি এবং চারজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর ফলে চলতি বছরের সামগ্রিক চিত্রে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া হিসাবের পর থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালগুলোতে হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণভাবে হাম প্রতিরোধে টিকাদান, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে সম্পন্ন করা এবং হাম-সদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব বলছে, দেশে হাম পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগের পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

