ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

জানুয়ারি-জুলাই: ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে ১৪ শতাংশ

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম

জানুয়ারি-জুলাই: ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছে ১৪ শতাংশ

ছবিঃ সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে মূল্য ও পরিমাণ—দুই সূচকেই বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে সর্বশেষ জুন ও জুলাইয়ের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে জানুয়ারি-জুনের তুলনায় সাত মাসের হিসাবে মোট রফতানি পতনের হার কিছুটা কমেছে।

প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ইইউর বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির মূল্য ছিল প্রায় ৫৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ইউরো। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ইউরোতে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রফতানি মূল্য কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ কম।

পোশাক রফতানির পরিমাণও কমেছে

শুধু রফতানি আয়ের হিসাবে নয়, পোশাকের মোট পরিমাণের দিক থেকেও বাংলাদেশের রফতানি কমেছে। ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে ইইউর বাজারে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ হাজার ৬৮৯ মিলিয়ন কেজি পোশাক রফতানি হয়েছিল। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০২ মিলিয়ন কেজি।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রফতানির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৮৭ মিলিয়ন কেজি, যা প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ কম।

এতে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে মূল্য ও পরিমাণ—উভয় ক্ষেত্রেই চাপ রয়েছে।

গড় রফতানি মূল্যেও নিম্নমুখী প্রবণতা

রফতানির মূল্য ও পরিমাণের তথ্য বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশি পোশাকের গড় রফতানি মূল্যও কমেছে বলে প্রতীয়মান হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুলাইয়ে প্রতি কেজি পোশাকের গড় রফতানি মূল্য ছিল প্রায় ২০ দশমিক ২৩ ইউরো। ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে হয়েছে প্রায় ১৯ দশমিক ৮৩ ইউরো।

অর্থাৎ প্রতি কেজি পোশাকের গড় মূল্য প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। ফলে একই সঙ্গে রফতানির পরিমাণ কমা এবং গড় মূল্য কমে যাওয়ায় মোট রফতানি আয়ের ওপর দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

জানুয়ারি-জুনে পতন ছিল আরও বেশি

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসের পরিসংখ্যানে ইইউ বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমার হার ছিল আরও বেশি। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত হিসাবে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি কমেছিল ১৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

তবে জুলাইয়ের পরিসংখ্যান যুক্ত হওয়ার পর জানুয়ারি-জুলাইয়ের সাত মাসের হিসাবে পতনের হার কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ—প্রদত্ত উৎসের তুলনামূলক হিসাব অনুযায়ী।

এর পেছনে জুন ও জুলাই মাসে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অর্থাৎ বছরের প্রথমার্ধে যে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছিল, পরবর্তী দুই মাসের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি তা কিছুটা প্রশমিত করেছে।

চীন ও ভিয়েতনাম ধরে রেখেছে অবস্থান

ইইউর পোশাক বাজারে বাংলাদেশের পাশাপাশি চীন ও ভিয়েতনামও গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী দেশ। সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ভিয়েতনাম ইউরোপের বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে।

এর বিপরীতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানিতে মূল্য ও পরিমাণ উভয় দিকেই পতন দেখা দেওয়ায় ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রধান রফতানি বাজারগুলোর একটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ফলে এ বাজারে কয়েক মাস ধরে রফতানি কমে যাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা দেশের সামগ্রিক তৈরি পোশাক রফতানি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

জুন-জুলাইয়ের প্রবৃদ্ধিতে আশার ইঙ্গিত

তবে পরিসংখ্যানের আরেকটি দিক হলো, সর্বশেষ দুই মাসে রফতানি পরিস্থিতিতে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। জুন ও জুলাইয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির কারণে জানুয়ারি-জুনের তুলনায় জানুয়ারি-জুলাইয়ের সামগ্রিক পতনের হার কমেছে।

এতে বোঝা যায়, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা পুরোপুরি দুর্বল হয়ে যায়নি। বরং বছরের প্রথম দিকে বড় পতনের পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রফতানি ঘুরে দাঁড়ানোর কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

তবে এই প্রবণতা কতটা স্থায়ী হয়, তা পরবর্তী মাসগুলোর রফতানি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে পোশাকের গড় রফতানি মূল্য, অর্ডারের পরিমাণ এবং ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!