ঢাকা সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

আশ্রয়প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ বি-১ ও বি-২ ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ১০:২৯ এএম

আশ্রয়প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ বি-১ ও বি-২ ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসায় প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন—এমন সর্বোচ্চ ২ লাখ বিদেশির বি-১ ও বি-২ ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একক কোনো উদ্যোগে সবচেয়ে বড় পরিসরে ভিসা বাতিলের ঘটনা হতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

সোমবার প্রকাশিত এপি’র এক প্রতিবেদনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নথি এবং দুই মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্যের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)-এর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

যাদের ভিসা বাতিলের আওতায় আনা হচ্ছে

এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বি-১ ও বি-২ ভিসা-ধারীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাচ্ছেন, তাদের লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বি-১ ভিসা মূলত ব্যবসায়িক কাজে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য এবং বি-২ ভিসা পর্যটন, চিকিৎসা বা অন্যান্য নির্দিষ্ট স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, এসব ভিসা মূলত অস্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের জন্য দেওয়া হয়। কিন্তু কেউ যদি ওই ভিসায় প্রবেশের পর যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদে থাকার উদ্দেশ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেন, তাহলে তাঁর ভ্রমণ বা ব্যবসায়িক ভিসার বৈধতা পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেছেন, স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসে পরে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন—এমন বিদেশিদের অ-অভিবাসী ভিসা শনাক্ত ও বাতিল করতে তাঁরা ডিএইচএসের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।

ভিসা বাতিল মানেই তাৎক্ষণিক ডিপোর্ট নয়

তবে ভিসা বাতিলের অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া বা ডিপোর্ট করা নয়।

এপি’র কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যাদের আশ্রয়ের আবেদন এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে, তাদের অনেককেই ভিন্ন একটি অভিবাসন আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হতে পারে। তবে পর্যটক বা ব্যবসায়ী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার যে সুবিধা তাঁরা বি-১ বা বি-২ ভিসার মাধ্যমে পেয়েছিলেন, তা আর থাকবে না।

অর্থাৎ, ভিসা বাতিলের পর তাঁদের অভিবাসন বা আশ্রয়সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।

‘ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন’ নিয়ে ক্ষোভ

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উপসচিব ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদনকারীদের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ভুয়া আশ্রয়ের আবেদন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ বিরক্ত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন আইন এড়িয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে আশ্রয় ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা উচিত নয়।

তবে আশ্রয়প্রার্থীদের প্রত্যেকের আবেদন যে ভুয়া—এমন কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ এই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আবেদনটি বৈধ কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনে ভিসা নীতিতে আরও কড়াকড়ি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও তথ্য দিতে বলা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের জন্য ব্যয়বহুল ভিসা বন্ডের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও ভিসা পাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হিসেবে প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, ভিসার অপব্যবহার বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নজরদারি জোরদারের কথা বলছে।

১৮ মাসে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের তথ্যের বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, গত ১৮ মাসে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে।

বাতিল হওয়া ভিসার মধ্যে বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। এসব অপরাধের মধ্যে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, ধর্ষণ ও ডাকাতির মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত মার্কিন নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন—এমন কিছু ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন পদক্ষেপে বাড়তে পারে অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক

সর্বোচ্চ ২ লাখ বি-১ ও বি-২ ভিসা বাতিলের সম্ভাব্য উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসায় প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা ব্যক্তিদের জন্য এটি বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে।

তবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আশ্রয় আবেদনের আইনি অধিকার কীভাবে প্রভাবিত হবে, তাঁদের অবস্থান কী হবে এবং ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি সুযোগ থাকবে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মার্কিন প্রশাসন একদিকে আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধের কথা বলছে, অন্যদিকে মানবাধিকার ও বৈধ আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!