ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুজনের ২৫ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ

সজল, ক্রাইম রিপোর্টার

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যানসহ দুজনের ২৫ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ

ছবিঃ সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান আবু হেনা রহমাতুল মুনীম ও সাবেক প্রথম সচিব ঈদতাজুল ইসলামের ২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর এ আদেশ দেন।

দুদকের প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের আবেদনে যা বলা হয়েছে

দুদকের উপপরিচালক মো. সাইদুজ্জামান সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করার জন্য আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আবু হেনা রহমাতুল মুনীম ও ঈদতাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।

এ অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের পক্ষ থেকে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করা হয়। এতে কিছু হিসাবে সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে এসব লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি এবং আদালতের আদেশটি অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কার কথা জানায় দুদক

আদালতে দেওয়া আবেদনে দুদক আরও উল্লেখ করেছে, বিশ্বস্ত সূত্রে কমিশন জানতে পেরেছে যে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবে থাকা অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন।

দুদকের আশঙ্কা, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অর্থ বা অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে স্থানান্তর, রূপান্তর কিংবা অন্য কোনো উপায়ে সরিয়ে নেওয়া হলে অনুসন্ধান কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এ কারণে অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলো দ্রুত অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন করে সংস্থাটি।

২৫ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের নির্দেশ

দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবু হেনা রহমাতুল মুনীম ও ঈদতাজুল ইসলামের সংশ্লিষ্ট ২৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।

এর ফলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এসব হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন, স্থানান্তর বা লেনদেনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। দুদকের অনুসন্ধান চলাকালে সংশ্লিষ্ট সম্পদের অবস্থান ও লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানেই মিলেছে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য

দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, দুই সাবেক কর্মকর্তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে লেনদেন পর্যালোচনার সময় সন্দেহজনক ও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব লেনদেনের উৎস, প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুদক।

অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থের উৎস ও সম্পদের প্রকৃতি যাচাইয়ের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের সঙ্গে তাদের কথিত সম্পদ অর্জনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও অনুসন্ধানের অংশ হতে পারে।

এখনো শেষ হয়নি দুদকের অনুসন্ধান

দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিলেও অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান এখনো চলমান। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে অনুসন্ধানে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ না মিললে তার ভিত্তিতেও আইনগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদালতের আদেশ মূলত অনুসন্ধানাধীন সম্পদ ও অর্থের অবস্থান যাতে পরিবর্তন না হয়, তা নিশ্চিত করার একটি আইনি পদক্ষেপ হিসেবে এসেছে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!