ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

তবু প্রকাশ্যে পিন্টু-ভাইরা; আতঙ্কে ঈশ্বরদীর মানুষ

ঈশ্বরদীতে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টু ও ভাইদের বিরুদ্ধে এক ডজন মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

ঈশ্বরদীতে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টু ও ভাইদের বিরুদ্ধে এক ডজন মামলা

ছবিঃ সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে সাবেক পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা জাকারিয়া পিন্টু এবং তার ভাইদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণ, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মারপিট ও জমি দখলসহ একাধিক গুরুতর মামলা থাকার পরও তাদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একের পর এক গুরুতর অভিযোগ ও মামলা থাকার পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) বিএনপির সক্রিয় কর্মী পায়েল হোসেন রিন্টুকে আটক করায় দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মামলা ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

হত্যা মামলাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর মেহেদী হাসান আকিব নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, জাকারিয়া পিন্টুর ভাই মেহেদী হাসান ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন আকিবকে মারধর করেন এবং এরই পরিণতিতে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের প্রভাব ও স্থানীয়ভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণের কারণে পরিবারটি সুষ্ঠু বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে। বিশেষ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা থাকার বিষয়টি সামনে আসায় নিহতের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও মামলায় কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়। আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে গণ্য করা যায় না।

জাকারিয়া পিন্টু ও ভাইদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

স্থানীয়দের ভাষ্য, জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় ডজনেরও বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, মারপিট ও জমি দখলের অভিযোগে নতুন করে একাধিক মামলা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া অতীতে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও অস্ত্র আইনের মতো গুরুতর অভিযোগেও মামলা থাকার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব মামলার অনেকগুলোতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। ফলে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের মধ্যেও আতঙ্ক রয়েছে বলে দাবি তাদের।

চাঁদাবাজি ও জমি দখলের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জাকারিয়া পিন্টু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি দেখানো, চাঁদা দাবি ও জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত ও আদালতের নথির মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

ঈশ্বরদী বাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “তাদের নামে এত মামলা, অথচ তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। প্রশাসন সব জেনেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

পায়েল হোসেন রিন্টুকে আটকের ঘটনায় প্রশ্ন

অন্যদিকে, বিএনপির সক্রিয় কর্মী পায়েল হোসেন রিন্টুকে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) আটক করায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, রিন্টুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকা সত্ত্বেও তাকে আটক করা হয়েছে। বিপরীতে, জাকারিয়া পিন্টুসহ তার ভাইদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার পরও তারা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

তবে পায়েল হোসেন রিন্টুকে কী কারণে এবং কোন আইনি প্রক্রিয়ায় আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য জানা প্রয়োজন। একইভাবে জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বর্তমান আইনি অবস্থাও সংশ্লিষ্ট নথি ও তদন্তের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

প্রশাসনের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে জাকারিয়া পিন্টুর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “আসামি যেই হোক না কেন, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জাকারিয়া পিন্টু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

পুলিশের এ বক্তব্যের পরও স্থানীয়দের প্রশ্ন—মামলাগুলোর তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, কোন মামলায় কার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে এবং কেন অভিযুক্তদের এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা দাবি

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বলছে, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে প্রতিটি মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাদী, সাক্ষী ও অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, জাকারিয়া পিন্টু ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত শেষ হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা, আসামিদের সংশ্লিষ্টতা এবং পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!