ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

menu

ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের হয়রানি হলে দায় সরকারকেই নিতে হবে: জামায়াত

ঢাকা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের হয়রানি হলে দায় সরকারকেই নিতে হবে: জামায়াত

ছবিঃ সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী ও যোগ্য তরুণদের হয়রানি বা বঞ্চিত করা হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নির্ধারিত সব ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে দলটি।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ২৭ জেলার অন্তত ৭৭৮ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। তাদের অনেকেই ভেরিফিকেশনের নামে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

চূড়ান্ত নির্বাচনের পর বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চায় জামায়াত

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগপ্রক্রিয়ার নির্ধারিত ধাপ অতিক্রম করে যারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকে কারা বাদ পড়েছেন, কেন বাদ পড়েছেন এবং কোন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে—তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন আইন, বিধি বা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে, সেটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থা নিয়ে তরুণদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে।

ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানির অভিযোগ

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ারের দাবি, অনেক প্রার্থী অভিযোগ করেছেন যে ভেরিফিকেশনের নামে তাদের নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়, পারিবারিক পরিচয়, মতাদর্শ কিংবা সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা বা প্রতিটি প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথি ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সরকারি চাকরি কোনো দলের আনুগত্যের পুরস্কার নয়। রাজনৈতিক বা পারিবারিক পরিচয় মেধা ও যোগ্যতার বিকল্প হতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের দলীয়করণ, বৈষম্য কিংবা গোপন সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়।

৭৭৮ প্রার্থীর বিষয়ে তালিকা প্রকাশের দাবি

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেসব চূড়ান্ত নির্বাচিত প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি, তাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।

একই সঙ্গে প্রত্যেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে নিয়োগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো এবং ভেরিফিকেশনের মানদণ্ড জনসমক্ষে স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত কোনো নিরপরাধ প্রার্থী অন্যায়ভাবে বাদ পড়ে থাকলে দ্রুত তার প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম, বৈষম্য কিংবা ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানির অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে জামায়াত।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান

সরকারি চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা, ভেরিফিকেশনসহ প্রতিটি ধাপের উদ্দেশ্য হলো যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা। ফলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো প্রার্থী নিয়োগপত্র না পেলে তার কারণ স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে জামায়াত।

দলটির বক্তব্য, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে একদিকে যেমন প্রার্থীদের মধ্যে আস্থা বাড়বে, অন্যদিকে সরকারি চাকরিতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগের নীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

তবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগ না দেওয়ার প্রকৃত কারণ, ভেরিফিকেশনে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি কী—এসব বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিস্তারিত বক্তব্য জানা গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

দৈনিক আজ ও আগামীকাল

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

QR Code
banner
Link copied!